নিউজ ব্যুরো, ১০ নভেম্বরঃ বেশ কয়েক ঘণ্টার তাণ্ডব চালিয়ে অবশেষে বাংলা থেকে বিদায় নিল ঘূর্ণিঝড় বুলবুল। আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ ছেড়ে বাংলাদেশে ঢুকে পড়েছে এই ঘূর্ণিঝড়। ফলে এই রাজ্যে আর কোনো দুর্যোগের সম্ভাবনা নেই। বুলবুলের প্রভাবে ইতিমধ্যেই বিধ্বস্ত উপকূলবর্তী জেলাগুলি। তছনছ হয়ে গিয়েছে সাগরদ্বীপ, সুন্দরবন। উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগণা, পূর্ব মেদিনীপুরের একাধিক এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত। ঝড়ের তাণ্ডবে বহু জায়গায় ঘর ভেঙেছে, নষ্ট হয়েছে চাষবাস। বেশিরভাগ এলাকাতেই বিদ্যুত্ সংযোগ নেই। রবিবার ভোররাতে বসিরহাটে গাছ পড়ে এক মহিলার মৃত্যু হয়। ঘটনায় মহিলার স্বামী সহ আরও তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে জানানো হয়েছে, বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আবহাওয়ার উন্নতি হবে। রবিবার ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা না থাকলেও কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গে তাণ্ডব চালানোর পর রবিবার ভোররাতে বাংলাদেশের খুলনা ছুঁয়ে সাতক্ষীরায় আছড়ে পড়ে বুলবুল। বাংলাদেশের আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে খবর, রবিবার সকালে বুলবুল খুলনা এবং বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলে অবস্থান করছিল। ক্রমশ আরও উত্তর-পূর্ব দিকে সরবে সেটি। তারপরই ক্রমশ শক্তি হারাবে দাপুটে ঘূর্ণিঝড়। উপকূলীয় জেলা ভোলা, বরগুনা, পটুয়াখালি, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি এবং আশেপাশের নানা দ্বীপ এবং চরেও প্রভাব পড়েছে ঘূর্ণিঝড়ের। প্রায় ৮০-১০০ কিলোমিটাক বেগে বইছে ঝোড়ো হাওয়া। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে জলোচ্ছ্বাসও শুরু হয়েছে। বুলবুলের জেরে মংলা এবং পায়রা সমুদ্রবন্দরে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।