চুরির দায় থেকে মনিবের মান বাঁচালো বলদ

124

সিউড়ি: চুরির অপবাদ থেকে মনিবকে বাঁচালো বলদ। অন্যদিকে, যে অপবাদ দিয়েছিল তাকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে বীরভূমের কাঁকড়তলা থানা এলাকার কদমডাঙ্গা গ্রামে।

বলদের মালিক আজিজুল শেখ। পেশায় কৃষিজীবী আজিজুল দিন কয়েক আগে ঝাড়খণ্ডের কাঠিঝুড়ি থেকে একটি হালের বলদ কেনেন। প্রায় একই সময়ে জেলার সদাইপুর থানার সগর গ্রামের ফরিদ চৌধুরীর একটি হালের বলদ চুরি যায়। কদমডাঙা গ্রামে তাঁর মেয়ের শ্বশুরবাড়ি। সেই সূত্রে খবর পেয়ে মেয়ের বাড়িতে যান ফরিদ চৌধুরী। সেখানেই আজিজুলের কেনা বলদকে নিজের বলে দাবি করেন তিনি। এরপরই গ্রামে ছড়িয়ে যায় আজিজুল চোরাই বলদ কিনেছে। বিষয়টি জানানো হয় গ্রামের আস্থা সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার সোসাইটিকে। এরপরেই সোসাইটির উদ্যোগে সালিশি সভা বসে। সেই সভায় বলা হয়, বলদটিকে দুটি গ্রামে ঢোকার মুখে ছেড়ে দেওয়া হবে। যার বাড়িতে বলদ ঢুকবে তিনিই প্রকৃত মালিক। সেক্ষেত্রে অপরজনকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা দিতে হবে। ওই টাকা করোনা রোগীদের জন্য খরচ করা হবে। সেই মতো একটি ছোট্ট লরিতে বলদটিকে চাপিয়ে প্রথমে ছেড়ে দেওয়া হয় ফরিদ চৌধুরীর সগর গ্রামে। কিন্তু বলদ কারও বাড়িতে না ঢুকে ঘুরতে থাকে। তবে, কদমডাঙ্গা গ্রাম ঢোকার মুখে বলদকে ছাড়তেই সেটি আজিজুলের বাড়িতে ঢুকে যায়।

- Advertisement -

শেখ আজিজুল বলেন, ‘ওই বলদ চাষের জন্য আমি ঝাড়খণ্ড থেকে ২৩ হাজার টাকায় কিনেছিলাম। কিন্তু গ্রামের এক বাসিন্দা তাঁর শ্বশুরকে ডেকে নিয়ে এসে বলে বলদ তাঁদের। আমি প্রথমে কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে পড়েছিলাম। কারণ আমার গায়ে চোরের তকমা সেঁটে দেওয়ার তোড়জোড় শুরু হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত প্রমান হল আমার কেনা বলদ চোরাই নয়।‘

সোসাইটির সদস্য শেখ পলাশ বলেন, ‘বলদ নিয়ে বিবাদ মেটাতে আমরা ওই অভিনব সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। আমাদের সিদ্ধান্তে কাজ হয়ে যায়। আমরা ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করে সোসাইটিতে রেখে দিয়েছি। গ্রামের কারও করোনা হলে ওই টাকা ব্যয় করা হবে।‘