সেনার বর্মে চিনা ছোঁয়া, বেজায় ফাঁপরে কেন্দ্র

575

নয়াদিল্লি : লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় চিন-ভারত সংঘর্ষের পর প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় ভারতীয় সেনা ও বাযুসেনার সক্রিয়তা বাড়ানোর পাশাপাশি দেশের জনমানসে চিনা পণ্য বর্জনের সংকল্প কঠোর থেকে কঠোরতর হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে ভারতীয় সেনার বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট তৈরির কাঁচামাল চিন থেকে আনা হয় জানার পর মাথায় হাত পড়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের। গত ১৮ জুন অর্থাৎ চিনা হামলায় ভারতের ২০ জন সেনা জওয়ানের শহিদ হওয়ার ঠিক দুদিন পর কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রক ২ লক্ষ বুলেটপ্রুফ জ্যাকেটের অর্ডার দিয়েছে। কিন্তু যে সংস্থা ওই জ্যাকেট তৈরি করে, তারা কাঁচামাল আনে চিন থেকে। বর্তমানে দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্ক যেখানে দাঁড়িয়ে সেখানে চিনের কাঁচামাল দিয়ে তৈরি করা বর্ম পরে চিনের ফৌজের মোকাবিলা করা ভারতীয় সেনার পক্ষে কতটা সম্মানজনক হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এর বিকল্প খুঁজতে নতুন করে চিন্তাভাবনা শুরু হয়েছে।

নীতি আয়োগের সদস্য তথা ডিআরডিও-র প্রাক্তন প্রধান ভিকে সাওয়ান্ত বলেন, একবছর আগে চিনের কাঁচামাল দিয়ে তৈরি বুলেটপ্রুফ জ্যাকেটগুলির গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় আমরা ওই কাঁচামাল আমদানি করতে বারণ করেছিলাম। যে সংস্থা তৈরির দায়িত্বে ছিল, তাদের কাঁচামাল পরীক্ষা করতেও বলেছিলাম। শুধুমাত্র দামের কারণে টেলিকম এবং সুরক্ষাবর্মের জন্য চিনা কাঁচামাল আমদানি করা ঠিক নয়। এব্যাপারে নতুন করে চিন্তাভাবনা করা দরকার। শনিবার পিএইচডি চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা সচিবকে চিঠি দিয়ে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তৈরিতে চিনা কাঁচামাল ব্যবহার বন্ধের আর্জি জানিয়েছে। টেলিকম মন্ত্রকের মতো প্রতিরক্ষা মন্ত্রকেও চিনা পণ্য ব্যবহার বন্ধের আবেদন করা হয়েছে। বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট তৈরির জন্য এইচপিপিই, ফ্যাব্রিক, বোরোন কার্বাইড এবং অন্যান্য সামগ্রী চিন থেকে আমদানি করা হয়। যে সংস্থা এই সুরক্ষাবর্ম তৈরি করে, সেই সংস্থার এমডি এস কানশাল বলেন, আমরা চিন থেকে আমদানি করি ঠিকই। কিন্তু আমরা দেশের মনোবাঞ্ছা অনুযায়ী চলব। যদি প্রয়োজন হয়, তাহলে আমরা কাঁচামালের জন্য বিকল্প উপায় বের করব। তার জন্য আমাদের নিজস্ব গবেষণা শাখা কাজও করছে। প্রায় একই বক্তব্য স্টার ওয়ার ইন্ডিয়া লিমিটেডের এমডি মহেন্দ্র গুপ্তারও। যারা চিন থেকে কাঁচামাল আমদানি করে সেই এমকেইউ-এর এমডি নীরজ গুপ্তা অবশ্য বলেন, ইউরোপ, আমেরিকার তুলনায় চিনা কাঁচামাল ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ সস্তা পড়ে। সেক্ষেত্রে যারা ইউরোপ, আমেরিকা থেকে কাঁচামাল আনবে তাদের বুলেটপ্রুফ জ্যাকেটের দামও বেশি পড়বে।

- Advertisement -