পরিযায়ী ইস্যুতে বিজেপিকে বিঁধলেন মালের বিধায়ক বুলু চিকবড়াইক

376

মালবাজার: সাংবাদিক সম্মেলন করে পরিযায়ী ইস্যুতে কেন্দ্রীয় সরকার তথা বিজেপিকে বিঁধলেন মালের বিধায়ক বুলু চিকবড়াইক।

মঙ্গলবার দুপুরে মালের বিধায়ক নিউ মালে সাংবাদিক সম্মেলন করেন। বিধায়কের অভিযোগ, পরিযায়ী শ্রমিকদের সমস্যার জন্য পুরোপুরিভাবে কেন্দ্রীয় সরকার তথা বিজেপি দায়ী। রাজ্য সরকার যথোপযুক্ত পদক্ষেপ নিয়েছে। কোভিড-১৯ মোকাবিলায় রাজ্য সরকার একগুচ্ছ পদক্ষেপ নিয়েছে। রাজ্যের জেলাগুলিতে দ্রুত হাসপাতাল তৈরি করা হয়েছে। জলপাইগুড়িতে কোভিড হাসপাতালে রোগীরা উন্নত পরিষেবা পাচ্ছেন।

- Advertisement -

নিউ মালে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে বিধায়ক ছাড়াও তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা কাঞ্ছা রানা, বিফাই ওরাওঁ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিধায়ক বলেন, ডুয়ার্স তথা মাল বিধানসভা এলাকাতেও অনেক পরিযায়ী শ্রমিক ফিরে এসেছেন। এরা কর্মসংস্থানের জন্য ভিন রাজ্যে গিয়েছিলেন। কেন্দ্র সরকার হঠাৎ করে লকডাউন ঘোষণা করাতে এরা সমস্যায় পড়েন। কেন্দ্র সরকার সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলিতে এদের উপযুক্ত রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থাও করতে পারেনি। অথচ পশ্চিমবঙ্গে আটকে থাকা পরিযায়ীরা যাবতীয় পরিষেবা পেয়েছেন। কেন্দ্র সরকারের জন্যই পরিযায়ী সমস্যার মধ্যে পড়েন।

বুলুবাবু বলেন, রাজ্য সরকার প্রথম থেকেই পরিকল্পনামাফিক উদ্যোগ নিয়ে কোভিড-১৯ মোকাবিলা করেছে। এরমধ্যে কেন্দ্র সরকার হঠাৎ করে ট্রেন চলাচল শুরু করে দেয়। যার তথ্য রাজ্য সরকারকে দেওয়া হয়নি, এর ফলে সমস্যা আরও বেড়ে যায়। তাঁর দাবি, রাজ্য সরকার পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য পদক্ষেপ নিয়েছে। ১০০ দিনের কাজের প্রকল্প সহ অন্যান্য ভাবে পরিযায়ী শ্রমিকদের এলাকাতেই কর্মসংস্থানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তাছাড়া ফিরে আসার পর তাদের জন্য কোয়ারান্টিনের বন্দোবস্তও করা হয়েছে।

বিধায়ক বলেন, তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা, কর্মী এবং জনপ্রতিনিধিরাই ধারাবাহিকভাবে কোভিড-১৯ মোকাবিলার সময় জনগণের পাশে থেকেছেন। বিজেপিকে কোথাও দেখা যায়নি। তারা মিথ্যা অভিযোগ করছেন। মাল বিধানসভা এলাকাতে কোভিড-১৯ পরীক্ষার পরিকাঠামো উন্নয়নের দাবি প্রসঙ্গে বিধায়ক বলেন, প্রক্রিয়া অনুসারে লালা সংগ্রহের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হচ্ছে। পুলিশ, প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ সহ সমস্ত মহল একসঙ্গে কাজ করছে। তাই রাজ্যে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ বৃদ্ধি পায়নি। অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় রাজ্যে মৃত্যুর হার কম। আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। রাজ্য সরকার যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নিয়েছে।

বুলুবাবু বলেন, আমরা ডুয়ার্সের চা বাগান সহ সমস্ত এলাকাতে খাদ্যের অভাব হতে দিইনি। পর্যায়ক্রমে চা-বাগানেও কাজ শুরু করে দেওয়া হয়েছে। লকডাউন ধীরে ধীরে প্রক্রিয়া অনুসরণ করে শিথিল করে জনজীবন স্বাভাবিক করার পর্যায় চলছে। আমাদের সকলকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, মাস্ক ব্যবহার ইত্যাদির মাধ্যমে সচেতনতার পরিচয় দিতে হবে।