বাগানের পাতা তোলা শ্রমিক থেকে আজ মন্ত্রীসভায় বুলু

146

বিদেশ বসু, মালবাজার : বাবা ফিকু চিকবড়াইক ও মা দেওমণি চিকবড়াইক দুজনেই চা শ্রমিক ছিলেন। এই সূত্রে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম রক্তে। আর এই সূত্রেই হার না মানা মনোভাব বরাবরের সঙ্গী। বুলু চিকবড়াইক বাগানের চা পাতা থেকে শুরু করে বাগানের কারখানার সাধারণ শ্রমিক হিসাবে কাজ করেছেন। একসময় বাগানের চৌকিদারও ছিলেন। সাব-স্টাফ হিসেবে অবসর। রাজনৈতিক উত্থানপর্ব খুবই শিক্ষণীয়। একসময় ডুয়ার্স তল্লাটে সিপিএমের চা শ্রমিক সংগঠন আন্দোলনের মাধ্যমেই শক্তিশালী হয়েছিল। ওই আন্দোলনের মুখ হিসেবে রাঙ্গামাটি চা বাগান থেকে বুলুবাবুর উত্থান।

সেসময় সিটু অনুমোদিত চা বাগান মজদুর সংগঠনের নেতা ছিলেন। বর্তমানে বুলুবাবু দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে চা বাগান তৃণমূল কংগ্রেস মজদুর ইউনিউনের আহ্বায়কের দায়িত্বও সামলাচ্ছেন। ১৯৯৮ সালে চা বাগান প্রথম পঞ্চায়েত ব্যবস্থার আওতায় আসে। সিপিএম প্রার্থী হিসেবে ১৯৯৮, ২০০৩ এবং ২০০৮ সালে মাল পঞ্চায়েত সমিতিতে নির্বাচনে টানা তিনবার জয় পেয়ে হ্যাটট্রিক। তিন দফায় যথাক্রমে সহ সভাপতি, খাদ্য ও পূর্ত বিভাগের কর্মাধ্যক্ষ। ২০১১ সালে সিপিএমের টিকিটেই বিধায়ক হন। কয়েক বছর পর তৃণমূলে। ২০১৬ সালে বিধানসভা ভোটে লড়াই। মাল বিধানসভা কেন্দ্রে প্রথমবার ঘাসফুল ফোটা তাঁর হাতেই।

- Advertisement -

এবারের বিধানসভা ভোটে তাঁর টিকিট পাওয়া নিয়ে বিতর্ক হলেও দক্ষ হাতেই তা সামাল দেন। এবারও দুর্গ রক্ষা করেছেন। মালবাজারের অবিসংবাদিত সিপিএম নেতা পরিমল মিত্র বন ও পর্যটন বিভাগের মন্ত্রী হয়েছিলেন। মালবাজার এলাকার উন্নয়নে পরিমল মিত্রের অবদান আজও রাজনৈতিক মহল স্মরণ করে। সাড়ে তিন দশক মালবাজার মন্ত্রীহীন ছিল। সোমবার রাজভবনে মন্ত্রী হিসেবে বুলুবাবু শপথ নিয়ে দীর্ঘদিনের সেই খরা মেটালেন।

আর তারপর থেকেই বুলুবাবুকে নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে কৌতূহলের পারদ তুঙ্গে উঠেছে। একসময় শ্রমিক মহল্লার সাড়া জাগানো ফুটবলার ছিলেন। মাঝমাঠে খেলতেন। গোল করতে খুবই পছন্দ করতেন। পুরোদস্তুর রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকতে সকালসন্ধ্যা বিভিন্ন এলাকা চষে বেড়ান। সময় পেলে রাঙ্গামাটি চা বাগানে বাড়িতে ফিরে এলাকার বয়স্কদের সঙ্গে আড্ডা মারেন। বাড়ির পিছনের মাঠ কিংবা রাস্তার ধারে হনুমান মন্দিরের সামনে বুলুবাবুকে প্রায়ই গল্পগুজবে মেতে থাকতে দেখা যায়। একবার পেটের সমস্যার পর তেলঝাল খাওয়া ছেড়েছেন। লাল চা বেশ পছন্দের। মাঝেমধ্যে পুরোনো হিন্দি সিনেমা দেখেন।

ডুয়ার্স এলাকা ধরলে এখানকার আদিবাসীদের মধ্যে চিকবড়াইকরা আজ অনেকটাই সংখ্যালঘু। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে বুলুবাবু যা করেছেন তাঁকে নিয়ে আদিবাসীরা রীতিমতো গর্ব করতেই পারেন। নিজে ক্লাস এইট পাশ। ছেলেমেয়েদের অবশ্য প্রত্যেককে সুশিক্ষিত করে তুলতে কোনও খামতি রাখেননি। বরাবরের ঠান্ডা মেজাজই তাঁর ইউএসপি।