অরুণ ঝা, ইসলামপুর : ইসলামপুরের বিহার সীমান্ত এলাকায় ‘কমান্ডো ব্রিগেড’ সাধারণ মানুষ থেকে পুলিশ প্রশাসনের কাছে মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিহারে আস্তানা গেড়ে থাকা কুখ্যাত দুষ্কৃতীদের দলের কোড নেম কমান্ডো ব্রিগেড। এরা সমস্ত ধরনের দুষ্কর্মে সিদ্ধহস্ত। মাদক থেকে আগ্নেযাস্ত্রের কারবার রয়েছে এই ব্রিগেডের। চুরি, ছিনতাই তো এদের কাছে জলভাত। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অপরাধীদের এই কমান্ডো ব্রিগেডের সদস্য সংখ্যা কমপক্ষে ৭০। ওই দুষ্কৃতীরা ইসলামপুর মহকুমার বিভিন্ন থানা এলাকা সহ ট্রেনে অপরাধের সঙ্গে যুক্ত। ইসলামপুর থানা এবং জেলা পুলিশ কমান্ডো ব্রিগেডের দুষ্কৃতীদের এলাকায় সক্রিয়তার কথা স্বীকার করেছে। তবে জেলা পুলিশের দাবি, সাধারণ মানুষের আতঙ্কিত হওযার কিছু নেই। কুখ্যাত এই দলটির বেশ কিছু সদস্যকে ইতিমধ্যে চিহ্নিত করা হয়েছে।

ইসলামপুর মহকুমার ঢিলছোড়া দূরত্বে বিহারের কিশনগঞ্জ জেলা। গত দুই দশক ধরে বিহারের দুষ্কৃতীরা মহকুমার বিভিন্ন প্রান্তে অপরাধ ঘটিয়ে ফের বিহারে ঢুকে গা-ঢাকা দিয়ে থাকছে। এই তথ্য বর্তমানে সাধারণ মানুষও জানেন। কিন্তু কমান্ডো ব্রিগেড কোড নামে কুখ্যাত দুষ্কৃতীদের জোট বেঁধে অপরাধ ঘটানোর নতুন তথ্য উত্তরবঙ্গ সংবাদ-এর অন্তর্তদন্তে উঠে এসেছে। এই দলের সঙ্গে যুক্ত দুষ্কৃতীরা মোবাইল ফোন, বাইক চুরি, ছিনতাই, মাদকদ্রব্য পাচার থেকে শুরু করে আগ্নেয়াস্ত্রের ক্যারিয়ার হিসাবে সিন্ডিকেট বানিয়ে অপরাধ ঘটিয়ে চলেছে। প্রযোজনে সুপারি কিলারদের সঙ্গে লিংকম্যানের কাজেও এই কুখ্যাত কমান্ডো ব্রিগেড পিছিয়ে নেই।

কমান্ডো ব্রিগেডের মাস্টার মাইন্ড চাঁদ মহম্মদ বলে বিহারের এক বাসিন্দা। এই চাঁদ মহম্মদের ইশারাতেই চক্রের পান্ডারা বিহার-বাংলা সীমান্ত এলাকায় অপরাধ ঘটায়। সম্প্রতি ইসলামপুরের কংগ্রেস রোডে একটি বাড়িতে দুঃসাহসিক চুরির ঘটনাতেও এই কমান্ডো ব্রিগেডের দুষ্কৃতীরাই জড়িত ছিল বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বিহারের কিশনগঞ্জ জেলার খাগড়া এলাকায় কমান্ডো মুখোশধারী এই চক্রটি আস্তানা গেড়ে বসেছে। তবে ইসলামপুর জেলা পুলিশের কন্ট্রোল রুম এবং সাইবার সেল কুখ্যাত এই গ্রুপটিকে এলাকার নিরাপত্তার স্বার্থে রীতিমতো তাদের সার্ভিলেন্সে রেখেছে। বিহার পুলিশের কর্তাদের সঙ্গেও যোগাযোগ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। কারণ এই কমান্ডো ব্রিগেড মোটা টাকার বিনিময়ে সীমান্ত এলাকা ইসলামপুর মহকুমার যে কোনও এলাকায় বড় ধরনের অঘটন ঘটিয়ে দেওযার মতো ক্ষমতা রাখে বলে জানা গিয়েছে। তেমনটা হলে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে বলে পুলিশের প্রভাবশালী একাংশ আশঙ্কা প্রকাশ করেছে। বিশেষ করে কুখ্যাত এই কমান্ডো ব্রিগেড দেশ বিরোধী সংগঠনের স্লিপার সেল হিসেবে কাজ করছে কি না সেই সম্ভাবনাও গোযে্দারা উড়িয়ে দেননি।

ইসলামপুর থানার আইসি শমীক চট্টোপাধ্যায় বলেন, কমান্ডো ব্রিগেডের কথা অস্বীকার করা যাবে না। পুলিশ শহরের নিরাপত্তার জন্য নজরদারি বাড়িয়ে দিয়েছে। ইসলামপুরের পুলিশ সুপার শচীন মক্কর বলেন, এলাকায় অপরাধীদের দাপট বরদাস্ত করা যাবে না। ইতিমধ্যে আমরা দুই ডজনের বেশি মোবাইল ফোন উদ্ধার করে মালিকদের ফিরিয়ে দিয়েছি। বড় বাইক চোর চক্রকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিহারের কমান্ডো ব্রিগেডের নামে কুখ্যাত দুষ্কৃতীদের সক্রিয়তা আমাদের নজরেও এসেছে। এদিকেও তাদের লিংকম্যানরা রয়েছে। আমরা তাদের অনেককেই চিহ্নিত করেছি। শীঘ্রই তাদের গ্রেপ্তার করা হবে। সাধারণ মানুষের আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই।