শহরের রাস্তায় প্রতারণার ফাঁদ পাতছে যুবতীরা

31046

রাহুল মজুমদার, শিলিগুড়ি : সোমবার সকালের কথা। মাটিগাড়ার তুম্বাজোতে এক স্কুটার চালককে দাঁড় করাল দুই যুবতী। হাতে একটা কাগজ। এক বৃদ্ধাশ্রমে খাবার ও নতুন শাড়ি দেওয়ার জন্য কিছু সাহায্য, মানে হাজার টাকা দাবি। ওই যুবতীরা বুঝতে না পারলেও স্কুটার চালক ততক্ষণে বুঝে গিয়েছেন কী ব্যাপার। কারণ কয়েকদিন আগে তাঁর সঙ্গে এমন ব্যাপার ঘটেছে। মোবাইল ফোনের ভিডিও রেকর্ডিং অন করে তিনি কড়া ভাষায় বলেন, তোমাদের মতো জালিয়াতদের একটা পয়সাও দেব না। দুই যুবতী ততক্ষণে চিৎকার শুরু করে দিয়েছে। কেন আমাদের ছবি তুলছেন? কোথা থেকে আরও দুই যুবক চলে আসে। ভিডিও রেকর্ডিং নিয়ে কথা কাটাকাটি বাড়তেই স্কুটার চালক বলেন, দাঁড়াও পুলিশে ফোন করি। ওরা আসুক। তারপর কথা হবে। এ কথাতেই জোঁকের মুখে যেন নুন পড়ে। আচ্ছা আচ্ছা টাকা লাগবে না, বলতে বলতে সরে পড়ে ওই চারজন।

শিলিগুড়ি শহর আর আশপাশে এমন একটি প্রতারণাচক্র অপারেশন চালাচ্ছে। সাহায্যের নামে ফাঁদে ফেলে তারা মানুষকে প্রতারণা করছে। কখনও আমপান বিধ্বস্তদের সহযোগিতা, আবার কখনও অনাথ আশ্রমের প্রতিনিধি হিসাবে সাহায্য চেয়ে ভুয়ো কাগজ ধরিয়ে প্রতারণা করা হচ্ছে। শহরের রাস্তায় বেরিয়ে এমন প্রতারকদের পাল্লায় পড়েছেন অনেকেই। কিন্তু উটকো ঝামেলায় জড়ানোর ভয়ে কেউই পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ করছেন না। তাই শহরে এই ধরনের প্রতারকদের হাত থেকে বাঁচতে মানুষকে আরও বেশি সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন পুলিশকর্তারা। পুলিশে লিখিত অভিযোগ না হওয়ায় কোনও পুলিশকর্তা মুখ খুলতে চাননি। তবে শহরের বিভিন্ন থানার একাধিক পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, তাঁরাও মৌখিক এই ধরনের অভিযোগ  পেয়েছেন। তাই মানুষকে সচেতন হওয়া এবং এমন কিছু ঘটলে পুলিশে অভিযোগ করার পরামর্শ দিয়েছেন তাঁরা। দিন দশেক আগে, শহরের সুকান্তপল্লিতে একইভাবে বাড়িতে হানা দিয়েছিল প্রতারকরা। আমপানে বিধ্বস্ত এলাকার শিশুদের সাহায্যের নামে টাকা তুলছিল তারা। এলাকার কয়েকজন তাদের চিনে ফেলে। তাঁদের কাছে থেকে এরা আরও কিছুদিন আগে অন্য কথা বলে সাহায্য নিয়েছিল। তাঁরাই ওই যুবতীদের কাছে পরিচয়পত্র দেখতে চান। হইচই শুরু হতেই ওই যুবতীরা স্কুটার নিয়ে পালিয়ে যায়।

- Advertisement -

ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, কেউ স্বেচ্ছায় টাকা দিয়ে চলে যাচ্ছেন, আবার কেউ প্রতারণা ধরে ফেলে টাকা দিতে অস্বীকার করছেন। বিশেষ করে একা কোনও ছেলেকে টার্গেট করা হচ্ছে। টাকা দিতে অস্বীকার করলেই যুবতীরা চিৎকার করতে থাকে। এতে আশেপাশের লোকজন জড়ো হয়ে যায়। তাদের মধ্যে থাকছে ওই যুবতীদের শাগরেদ দুই যুবক। লোক জড়ো হতেই যুবতীরা অভিযোগ করছে তাদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করা হয়েছে বা তাদের শ্লীলতাহানি করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে হেনস্তার হাত থেকে বাঁচতে কোনওরকমে টাকা দিয়ে সেখান থেকে চলে যাচ্ছেন প্রতারিতরা।  দিনভর শহরের বিভিন্ন এলাকায় টাকা তোলার পর বিকেলে সেই টাকার ভাগবাঁটোয়ারা হচ্ছে। রাতে সেই টাকায় মোচ্ছব চলছে। শিলিগুড়ির মাটিগাড়া, বাগডোগরা, এস এফ রোড, সুকান্তপল্লি, শক্তিগড়, গেটবাজার, ডন বসকো মোড় সহ একাধিক এলাকায় এই যুবতীদের দেখা গিয়েছে। তাই সকলকে সতর্ক থাকার বার্তা দিয়েছেন পুলিশকর্তারা।