করোনা আক্রান্তদের মরদেহ সৎকারে শ্মশানে সক্রিয় দালাল, পাকড়াও এক

70

বর্ধমান: করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃতদের দেহ সৎকার নিয়ে শ্মশানে সক্রিয় হয়ে উঠেছিল দালাল চক্র। সেই দালাল চক্রের এক পাণ্ডাকে হাতেনাতে পাকড়াও করে গণধোলাই দিল আমজনতা। সোমবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে বর্ধমানের নির্মল ঝিল শশ্মানে। ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অন্যদিকে খোঁজ শুরু হয়েছে ওই দালাল চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যান্যদের।

দেশের পাশাপাশি রাজ্য জুড়েই উর্ধ্বমুখি করোনা সংক্রমণের গ্রাফ। পূর্ব বর্ধমান জেলাতেও প্রতিদিনই লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে কোভিড আক্রান্তের সংখ্যা। একইসঙ্গে বাড়ছে মৃতের সংখ্যাও। এমতবস্থায় করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হওয়া ব্যক্তির দেহ সৎকারের ব্যবস্থা করা নিয়ে বর্ধমানে সক্রিয় হয়ে ওঠে দালাল চক্র।
দেহ সৎকার নিয়ে উৎকন্ঠায় থাকা মৃতের পরিবারের সদস্যদের বোকা বানিয়ে মোটা টাকা আদায় করার অভিযোগ ওছে। অভিযোগ শহর বর্ধমানের বেশ কয়েকটি নার্সিংহোমের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেই ওই দালাল চক্র সক্রিয় রয়েছে।

- Advertisement -

ক্ষুব্ধ স্থানিয় বাসিন্দা রবি দাস , পল্লব রায় প্রমুখরা অভিযোগে বলেন , করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হওয়া ব্যক্তির পরিবারের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নেয় অসাধু চক্রের সদস্যরা। পরে রাতে তারা বর্ধমানের নির্মল ঝিল শ্বশানে দেহ দাহ করতে নিয়ে যায়। স্বাস্থ্য দপ্তরের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কোভিড আক্রান্ত হয়ে মৃত ব্যক্তির পরিবারের কয়েকজন সদস্যও দালালদের হাত ধরে শ্মশানে পৌঁছে রীতি মেনে দেহ সৎকার করতে। সোমবার রাতেও এমনই এক ঘটনা ঘটে বর্ধমানের নির্মল ঝিল শ্মশানে। সমস্ত বিধি উড়িয়ে করোনা আক্রান্তের দেহ সৎকারের প্রস্তুতি শুরু হয় জোর কদমে। বিষয়টি নজরে আসতেই স্থানীয়রা শ্মাশান চত্ত্বরে পৌঁছে দালাল চক্রের লোকজনকে হাতেনাতে পাকড়াও করেন। শুরু হয় গণধোলাই। খবর পেয়ে বর্ধমান থানার আইসি সহ বশাল পুলিশ বাহিনী।

বর্ধমান পুরসভার আধিকারিক অমিত গুহ বলেন, ‘ঘটনার কথা জানার পরেই পুরসভার তরফে তড়িঘড়ি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সন্ধ্যা ৬টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত শ্মশান চত্ত্বরে পুলিশ ক্যাম্প করার জন্য জেলার পুলিশ সুপারকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও বেসরকারি নাসিংহোমে কেউ করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেলে সেই সংক্রান্ত তথ্য পুরসভাকে যাতে জানানো হয় তার জন্য জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিককেও চিঠি পাঠানো হয়েছে।’