বহুতল বাড়িতে বজ্র নিরোধক ব্যবস্থা থাকা বাধ্যতামূলক করছে প্রশাসন

86

বর্ধমান, ১২ জুনঃ বজ্রপাতে মৃত্যু ঠেকাতে এবার পূর্ব বর্ধমান জেলার সর্বত্র বহুতল বাড়িতে বজ্র নিরোধক ব্যবস্থা রাখার ব্যপারে জোর দেওয়া হচ্ছে। বজ্রপাতে মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধির কারণে, এই পরিকল্পনা নিতে চলেছে জেলা প্রশাসন। একইসঙ্গে বজ্রপাতে মৃত্যুর ঘটনা রুখতে প্রশাসনের তরফে জন সচেতনতা বাড়ানোরও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেই মতো জেলার পৌরসভা ও পঞ্চায়েত এলাকায় মাইকিং করে যেমন প্রচার চালানো হচ্ছে, তেমনই সচেতনতা বৃদ্ধিতে লিফলেট বিলি করা হচ্ছে।

প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতি বছরই পূর্ব বর্ধমান জেলায় বেড়ে চলেছে বজ্রপাতে মৃতের সংখ্যা। ২০১৭ সাল থেকে ২০২১ সালের মে মাস পর্যন্ত বজ্রপাতে জেলায় ১৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। চলতি জুন মাসের এখন পর্যন্ত পূর্ব বর্ধমান জেলার জামালপুর, কালনা ও কাটোয়া মিলিয়ে ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। জামালপুর ব্লকে ২০১২ সাল থেকে ২০২১ সালের বর্তমান সময়কাল পর্যন্ত ৩২ জনের মৃত্যু হয়েছে। জেলা প্রশাসনের তরফে বজ্রপাতে মৃতদের
পরিবারের হাতে সরকারিভাবে আর্থিক ক্ষতিপূরণ তুলে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু, এমন মৃত্যু নিয়ে উদ্বিগ্ন জেলা প্রশাসন।

- Advertisement -

কেন এত বজ্রপাতের ঘটনা ঘটছে, তা জানতে রাজ্যের কাছে বিশেষজ্ঞ কমিটি পাঠানোর আবেদন জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা প্রশাসন। পাশাপাশি, জেলার সমস্ত পুরসভা এবং পঞ্চায়েত গুলির কাছেও সেখানকার বহুতলগুলির বিষয়ে জানতে চাওয়া হচ্ছে। কারণ, জেলা প্রশাসনের কর্তারা মনে করছেন, কোনও বহুতল নির্মিত হওয়ার সময়ে পঞ্চায়েত কিংবা পৌরসভার তরফে অগ্নি নিরোধক ব্যবস্থা রাখার পাশাপাশি বজ্র নিরোধক ব্যবস্থা রাখার কথাও বলা হয়। কিন্তু, বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই তা মানা হচ্ছে না। তাই, সেখানকার বহুতল বাড়ি ও আবাসন গুলিতে বজ্রনিরোধক বাবস্থা রাখা রয়েছে কিনা, ব্যবস্থা থাকলেও তা কার্যকরী রয়েছে কিনা তা জানতে চাইছে জেলা প্রশাসন।

বর্ধমানের অতিরিক্ত জেলাশাসক (সাধারণ)
অনির্বাণ কোলে জানিয়েছেন, বর্ধমান শহর সহ পঞ্চায়েত এলাকাগুলিতেও বর্তমানে বহুতল বাড়ি নির্মাণ হচ্ছে। যখনই কোনও বহুতল নির্মিত হয়, তখনই সেই বহুতলের অগ্নি নিরোধক ব্যবস্থার কথা বলা হয়। একইসঙ্গে, বজ্র নিরোধক ব্যবস্থাও, গ্রহণ করার জন্য বলা হয়। তা সঠিকভাবে মানা হয়েছে কিনা সেই বিষয়টি এবার থেকে যাচাই করে দেখে নেওয়া হবে বলে তিনি মন্তব্য করেছেন।