করোনা আবহে ফিন্যান্স সংস্থায় তুঘলকি কারবারে থমকে ফেরিওয়ালার রোজগারের পথ

339

বর্ধমান: করোনা অতিমারির মধ্যে বেসরকারি ফিন্যান্স সংস্থার তুঘলকি কারবারে চরম বিপাকে পড়ে গিয়েছেন এক ফেরিওয়ালা। স্ত্রীর গয়না বিক্রী করে বাইক কেনার সমস্ত টাকা মিটিয়ে দিয়েছেন পূর্ব বর্ধমানের গলসির গলিগ্রামের ফেরিওয়ালা প্রতিক দেবনাথ। তাঁর অভিযোগ, বাইক কেনার সমস্ত টাকা মিটিয়ে দেওয়ার পরেও বেসরকারি ফিন্যান্স সংস্থা তাঁর বাইক আটকে রেখে দিয়েছে। এরফলে রোজগারের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এখন দিনারুন কষ্টে তাঁর দিন কাটছে। তবুও ফিন্যান্স সংস্থা কলকাতা অফিসের অজুহাত দেখিয়ে তাঁকে নাকাল করে চলেছে।

গলসির গলিগ্রাম নিবাসী ফেরিওয়ালা প্রতীক দেবনাথ জানিয়েছেন, দেড় বছর আগে তিনি একটি টিভিএস এক্সেল হান্ড্রেড মডেলের বাইক কেনেন। কিস্তিতে বাইক কেনার জন্য তিনি ১৪,৫০০ টাকা ডাউন পেমেন্ট করেন। বাকি ১,৯১৮ টাকা করে ৩৬টি কিস্তির টাকা পরিশোধ করার জন্য টিভিএস ক্রেডিট সার্ভিস লিমিটেড (ফাইনান্স) থেকে লোন নেন। ওই ছোট বাইকে হরেক রকমের সামগ্রী নিয়ে তিনি এলাকায় ঘুরে ঘুরে ফেরি করে বিক্রী করতেন। সেই ব্যবসার লাভ  থেকে নিয়মিত তিনি কিস্তির টাকাও পরিশোধ করে আসছিলেন। প্রতীকবাবু বলেন, ‘দশটি কিস্তির টাকা দেওয়ার পর লকডাউনের জন্য তাঁর তিন মাসের কিস্তি বকেয়া রয়ে যায়। সেই কারণে  টিভিএস ক্রেডিট সার্ভিস লিমিটেড (ফিন্যান্স) তাঁর বাইকটি টেনে নিয়ে চলে যায়। পরে ফিন্যান্স সংস্থার নির্দেশ মতো টাকা পরিশোধের জন্য তিনি তাঁর স্ত্রীর গয়না বিক্রি করে ৪৪,৩৪১ সংস্থার অফিসে জমা করে দেন। প্রতীকবাবুর অভিযোগ, তিনি সমস্ত টাকা পরিশোধ করার পরেও তাঁর বাইকটি তাঁকে ফেরত দেওয়া হচ্ছে না। বাইক আনতে গেলে দুর্গাপুরে অবস্থিত ফিন্যান্স সংস্থার অফিসের ম্যানেজার কলকাতা অফিসের অজুহাত দেখিয়ে প্রতিদিন তাঁকে ফেরত পাঠিয়ে দিচ্ছে। প্রতীকবাবু বলেন, ‘ফিন্যান্স সংস্থা এই হয়রানি বন্ধ না করায় তাঁর জীবন জীবিকার পথ থমকে গিয়েছে।’

- Advertisement -

এই বিষয়ে ফিন্যান্স সংস্থার দুর্গাপুর অফিসের ম্যানেজার পারভেজ খানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, কোনও গাড়ি যখন টানা হয় তারপর বিষয়টি আর তাদের হাতে আর থাকে না। কলকাতার অফিস এরপরের বিষয়টি দেখভাল করে। কলকাতা অফিস প্রতিকবাবুর বাইকের  রিলিজ অর্ডার দিয়ে দিলেই তিনি গাড়ি ছেড়ে দিতে পারবেন। রিলিজ অর্ডার না আসায় প্রতীকবাবুকে কলকাতায় অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।’

অপরদিকে, ফিন্যান্স সংস্থার রিলিজ দপ্তরের আধিকারিক চন্দন জোয়ারদার জানিয়েছেন, প্রতীক দেবনাথের সঙ্গে তিনি কথা বলেছেন। উনার সমস্যার বিষয়টির দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য তিনি নিজে উদ্যোগ নিয়ে সমাধানের চেষ্টা করছেন।