ভোট পরবর্তী হিংসার বলি ৪, আহত একাধিক

45

বর্ধমান: ভোট পরবর্তী হিংসায় পূর্ব বর্ধমান জেলায় প্রাণ হারালেন ৪ জন। জখম একাধিক। ঘটনায় উত্তপ্ত রায়নার সমসপুর ও জামালপুরের নবগ্রাম। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় মোতায়েতন বিশাল পুলিশ সহ র‍্যফ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে খবর, মৃতরা রায়না থানার সমসপুর গ্রামের বাসিন্দা গনেশ মালিক(৬০), জামালপুরের নবগ্রামের ষষ্ঠিতলার বাসিন্দা কাকলি ক্ষেত্রপাল(৪৭), জামালপুরের ভেড়িলি গ্রামের বাসিন্দা শাজাহান শা ওরফে সাজু(৩০) এবং জামালপুরের নবগ্রামের উড়িষ্যা পাড়ার বাসিন্দা বিভাস বাগ ওরফে বিনোদ(২৭)।গুরুতর জখম হন মানু ক্ষেত্রপাল ওরফে রূপো এবং অনিল ক্ষেত্রপাল। তারা বর্ধমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। অপর জখম মিঠু রহমানের জামালপুর ব্লক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

- Advertisement -

স্থানীয়রা জানান, ভোটের ফল ঘোষনার পর রবিবার রাতে সমসপুর গ্রামে বিজেপি ও তৃণমূলের কর্মীদের মধ্যে বচসা বাঁধে। স্থানীয় গনেশ মালিক বিষয়টি মেটাতে এগিয়ে যান। সেসময় তাঁর মাথায় কেউ বাঁশের বাড়ি মারে। ঘটনায় তিনি গুরুতর জখম হন। রাতেই তাকে পাঠানো হয় বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়। মৃতের ছেলে মনোজ মালিক দাবি করেছেন, তাঁর বাবা তৃণমূল করতেন। তাঁদের গ্রামের একটা মাচায় বসে সবাই গল্পগুজব করছিলেন। রবিবার সেখানে বসে থাকা তৃণমূল কর্মীদের উপরে চড়াও হয়ে হঠাৎতই বিজেপি কর্মীরা মারধর শুরু করে। তাদের থামাতে যান তাঁর বাবা। সেসময়েই হামলাকারীরা মাথায় বাঁশের আঘাত করে। গুরুতর আঘাতের জেরে বাবার মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি মনোজের। এদিকে এই ঘটনায় রায়না থানার পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

অন্যদিকে সোমবার বেলা থেকে রাজনৈতিক উত্তেজনার পারদ ঊর্ধ্বমুখি হয় জামালপুর থানার নবগ্রামের ষষ্ঠিতলা ও উড়িষ্যা পাড়ায়। সংঘর্ষের ঘটনার এদিন বিজেপিকর্মী পরিবারের মহিলা কাকলি ক্ষেত্রপাল ও তৃণমূলের দুই কর্মী সাজু শা ও বিভাস বাগের মৃত্যু হয়। জখম হন তৃণমূলের মিঠু রহমান এবং কাকলির স্বামী অনিল ক্ষেত্রপাল ও দেওর রূপো ক্ষেত্রপাল।

জামালপুর ব্লক তৃণমূলের সভাপতি মেহেমুদ খান জানিয়েছেন, মৃত ও জখম তৃণমূলের কর্মীরা সহ কয়েকজন নবগ্রাম থেকে ফিরছিলেন। সেসময়ে তারা জয়বাংলা শ্লোগান দিচ্ছিলেন। উড়িষ্যাপাড়ার কাছে সশস্ত্র বিজেপি মহিলা ও পুরুষ কর্মীরা তাদের ওপর হামলা চালায়। প্রথমে বাইক ভাঙচুর করে। পরে টাঙ্গি, তরোয়াল, রড়, লাঠি নিয়ে ব্যাপক মারধর করা হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে জামালপুর ব্লক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে পাঠানো হয়। সাজু ও বিভাস কে বর্ধমান হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। মিঠু রহমান বর্তমানে বিপদ মুক্ত বলে জানিয়েছেন মেহেমুদ খান। ভোটে হেরে যাওয়ার বদলা নিতেই বিজেপি কর্মীরা পরিকল্পনা মাফিক জামালপুরে সন্ত্রাস চালাতে শুরু করেছে বলে তাঁর অভিযোগ।

অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিজেপির নবগ্রামের শক্তি প্রধান আশিষ ক্ষেত্রপাল। তিনি বলেন, বেলা ১১টা নাগাদ তাঁর সতীর্থদের সঙ্গে মাচায় বসে ছিলেন। সেসময় সবুজ আবিরে মাখামাখি হয়ে উড়িষ্যা পড়ার দিক থেকে বেশ কয়েকটি বাইকে চেপে তৃণমূলের কর্মীরা তাঁদের কাছে এসে জয় বাংলা, খেলা হবে শ্লোগান দেওয়া শুরু করে। একবার তাদের সরিয়ে দিলেও কিছু সময় বাদে অন্যপথ দিয়ে ঘুরে তাঁর বাড়িতে চড়াও হন তারা। সেসময় রুখে দাঁড়ান বাবা, মা, কাকা, কাকিমা সকলে। তৃণমূলের কর্মীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠে। টাঙ্গি ও তরোয়াল দিয়ে সকলকে আঘাত করে। টাঙ্গির আঘাতে গুরুতর জখম হয়ে মা মারা যান। গুরুতর জখম হন বাবা ও কাকা।’ তিনি আরও বলেন, ‘গ্রামের ১৬ থেকে ১৭টি বাড়িতেও তৃণমূলের কর্মীরা ভাঙচুর চালায়।’

জামালপুরের নবগ্রাম নিবাসী প্রাক্তন বাম বিধায়ক সমর হাজরা যদিও এদিনের ঘটনায় তাঁর দলের কেউ আক্রান্ত হয়েছেন বলে মানতে চাননি। এদিকে এই ঘটনার পর থেকেই অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কল্যান সিংহ রায়, এসডিপিও (বর্ধমান দক্ষিণ) আমিনুল ইসলাম খানের নেতৃত্বে বিশাল পুলিশ বাহিনী নবগ্রামে ধরপাকড় অভিযান চালায়। এদিন সন্ধ্যা পর্যন্ত পুলিশ নবগ্রাম এলাকা থেকে ২৩ জনকে আটক করা হয়।