সর্বমঙ্গলা মন্দিরে আরাধনার মধ্য দিয়ে রাঢ়বঙ্গে নবান্নের সূচনা

0

প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়, বর্ধমান: বর্ধমানের সর্বমঙ্গলা মন্দির একটি প্রাচীন পীঠস্থান। এই মন্দিরটিকে অনেকে শক্তিপীঠ বলে মনে করেন। বর্ধমানবাসীর আদি অধিষ্ঠাত্রী দেবী হলেন সর্বমঙ্গলা। তিনি বাংলার লৌকিক দেবতাও বটে। করোনা আবহে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সেই মন্দিরেই রবিবার হল নবান্ন অনুষ্ঠানের পুজোপাঠ। আর সর্বমঙ্গলা মন্দিরে হওয়া নবান্ন পুজোর মধ্য দিয়েই গোটা রাঢ়বঙ্গে সূচনা হল নবান্নের।

বর্ধমানের সর্বমঙ্গলা মন্দিরে অধিষ্ঠাত্রী দেবী সর্বমঙ্গলা রূপেই পূজিতা হন। এই মন্দির ঘিরে রয়েছে অনেক কাহিনী ও উপকথা। কথিত আছে, বহুকাল পূর্বে বর্ধমানের উত্তরাংশে বাহির সর্বমঙ্গলা পাড়ার বাগদিরা পুকুরে মাছ ধরতে গিয়ে কষ্টিপাথরের অষ্টাদশভূজা দেবীর শিলা মূর্তিটি পেয়েছিলেন। সেই মূর্তির উপরে তাঁরা গুগলি, শামুক ভাঙতেন। দেবীর স্বপ্নাদেশ পেয়ে বর্ধমান মহারাজা সঙ্গম রায় সেই শিলামূর্তিটি উদ্ধার করে নিয়ে এসে সর্বমঙ্গলা নামে পুজো শুরু করেন। পরবর্তীকালে দৃষ্টিনন্দন করে সর্বমঙ্গলা মন্দিরটি তৈরি করেন বর্ধমানের মহারাজাধিরাজ কীর্তিচাঁদ মহতাব। স্বয়ং রামকৃষ্ণদেব এই মন্দিরে এসেছেন বলেও কথিত আছে।

- Advertisement -

করোনা সংক্রমণের কারণে টানা ছ’মাস ধরে মন্দিরের গেটে তালা পড়েছিল। ধীরে ধীরে সব কিছু স্বাভাবিক হতেই কোভিডের নির্দেশিকা মেনে খুলে গিয়েছে সর্বমঙ্গলা মন্দিরের গেটের তালা। সংক্রমণ এড়াতে এদিন নবান্ন পুজোয় স্যানিটাইজার ব্যবহার ও মাস্ক পরে মন্দিরে আসা বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল। ‘স্বাস্থ্য আগে, শাস্ত্র পরে’ এবার এই হচ্ছে সর্বমঙ্গলা মন্দিরের মূলমন্ত্র।

মন্দির ট্রাস্টের সম্পাদক সঞ্জয় ঘোষ জানিয়েছেন, এদিন সর্বমঙ্গলা মন্দিরে নবান্ন উৎসব দিয়ে গোটা রাঢ়বঙ্গে নবান্নের সূচনা হল। কোভিডের জন্য এতদিন ভোগবিলি বন্ধ ছিল। আজই প্রথম সাধারণের জন্য ভোগ বিলি করা হল। মাত্র ৮০০ জনকে ভোগ বিলি করা হয়েছে। তবে মন্দির চত্বরে বসে ভোগ খাওয়া বন্ধ রাখা হয়েছে। সঞ্জয়বাবু বলেন, ‘পূর্বের বছরগুলিতে নবান্ন অনুষ্ঠানে মন্দিরে প্রচুর লোকজনের সমাবেশ হত। কিন্তু এবার এই করোনা আবহে লোকজনের সমাগম অনেকটাই কম ছিল। তা সত্ত্বেও রাজার আমল থেকে চলে আসা রীতি পালনে কোনও অন্যথা হয়নি।’