আবর্জনার স্তূপে বুড়ি বালাসন এখন নালা

65

খোকন সাহা, বাগডোগরা : শিলিগুড়ি মহকুমার অন্যতম নদী বুড়ি বালাসন। অভিযোগ, নদীর বুকে অবৈধভাবে পিলার তুলে বাড়ি, দোকান তৈরি হয়েছে। আশপাশের এলাকার আর্বজনা ওই নদীতে ফেলায় বুড়ি বালাসন এখন যেন নিকাশিনালার রূপ নিয়েছে। এই পরস্থিতিতে কার্যত অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে নদীটি।

কয়েক বছর আগেও এই নদীতে ১২ মাস জল থাকত। বর্ষায় দুকূল ছাপিয়ে ভয়ানক রূপ নিত। সেই নদী বর্তমানে দূষণে জর্জরিত হয়ে বেহাল হয়ে রয়েছে। এমনকি শৌচাগারের সেপটিক ট্যাংকের সংযোগও রয়েছে নদীর সঙ্গে। বাড়ির এবং বাজারের থার্মোকল, প্লাস্টিক সহ বর্জ্য, সবই নদীর বুকে ফেলা হচ্ছে। তবে নদীকে ডাম্পিং গ্রাউন্ডে পরিণত করা হলেও তাতে বাধা দেওয়া তো দূরের কথা, বলারও কেউ নেই বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি এমন যে, নদী দখল করা এবং নদীতে আর্বজনা ফেলাই নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে।

- Advertisement -

গোঁসাইপুর রূপসিংজোতের বিনোদন পার্কের সামনে থেকে অশোকনগর, কলেজপাড়া এবং বুড়ি বালাসন হয়ে ভুজিয়াপানি দিয়ে এই নদী প্রবাহিত হয়েছে। অভিযোগ, ভুজিয়াপানির প্রায় সিংহভাগ দোকানই নদীর ওপর তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে নদী জবরদখল হতে হতে নদীকে এখন নালা বললেও কম হবে না।

কলেজপাড়া বুড়ি বালাসনের বাসিন্দা রবি দেবনাথ বলেন, নদী এখন আর নেই। ওটা এখন নালা হয়ে গিয়েছে। দূষিত জলের ফলে মশার উপদ্রব বেড়েছে। আর্থমুভার নামিয়ে পরিষ্কার করতে পারলে ভালো হবে। কিন্তু আর্থমুভার নামানোর মতো জায়গাও নেই। সুমিত্রা বর্মন এক গৃহবধূ বলেন, এই এলাকাটি জল জমে মশার আঁতুড় হয়ে গিয়েছে। গরম পড়তেই মশার অত্যাচার বেড়েছে। শচীন দাস নামে এক ব্যবসায়ী বলেন, এখানে আর নদী নেই, সবটাই দখল হয়ে গিয়েছে। নদীর ওপর পিলার তুলে বাড়ি-দোকান তৈরি হচ্ছে। তবু প্রশাসনের কেউ কিছু বলে না কেন সেই প্রশ্ন উঠেছে। এ ব্যাপারে লোয়ার বাগডোগরা গ্রাম পঞ্চায়েতের বিদায়ি উপপ্রধান গৌতম ঘোষ বলেন, আমরা এর আগে প্রশাসনের সব মহলকে জানিয়েছি। কিন্তু কেউ কিছুই করেনি।

নকশালবাড়ি পঞ্চায়ে সমিতির বিদায়ি সহ সভাপতি আনন্দ ঘোষ বলেন, আর্বজনা পরিষ্কার করার জন্য এলাকার বাসিন্দারা গ্রাম পঞ্চায়েতে আবেদন করলে ব্যবস্থা নিতে পারবে। তবে এখন কিছু হবে না।