পুজোর মুখে বাস টার্মিনাসের বেহাল দশায় ক্ষোভ বীরপাড়ায় 

374

বীরপাড়া : পুজোর মুখে আলিপুরদুয়ার জেলার বীরপাড়ার বাস টার্মিনাসের বেহাল দশায় ক্ষুব্ধ পরিবহণকর্মী, বাস মালিক ও সাধারণ মানুষ। একে তো বাস দাঁড়ায় হাই টেনশন বিদ্যুতের তারের নীচে। তার ওপর টার্মিনাসজুড়ে তৈরি হয়েছে নানা আকারের গর্ত। বীরপাড়া ডুয়ার্স মিনিবাস ওনার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোতি খান বলেন, ‘বাস টার্মিনাসটি ব্যবহারের অনুপযুক্ত হয়ে পড়েছে। টার্মিনাসের হাল ফেরাতে  আমাদের সংগঠনের তরফে একাধিকবার ব্লক ও জেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন জানানো সত্ত্বেও কোনো লাভ হয়নি।’

বীরপাড়া বাস টার্মিনাস হয়ে প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। তাঁরা বলেন, গোটা বাস টার্মিনাসটি ভরে গিয়েছে নানা আকারের গর্তে। সবচেয়ে বেহাল দশা টার্মিনাসে প্রবেশ ও বের হওয়ার একমাত্র রাস্তাটির। টার্মিনাসে ঢোকার ওই রাস্তাটি টার্মিনাস উদ্বোধনের সময় থেকেই কাঁচা। বাস মালিকদের সংগঠনের সভাপতি মোতি খান বলেন, ‘টার্মিনাসে ঢোকা ও বের হওয়ার দ্বিতীয় রাস্তাটি বেদখল হয়ে গিয়েছে। তাই, একমাত্র সরু ও গর্তে ভরা রাস্তাটি দিয়ে এতগুলি গাড়ি ঢোকা ও বের হওয়ায় প্রতিদিন যানজট লেগেই থাকছে। বাস দাঁড়ানোর জায়গায় মাথার ওপর ছাউনি। ফলে, রোদ বৃষ্টিতে আকাশের নীচেই দাঁড়িয়ে থাকে সরকারি ও বেসরকারি বাস। যাত্রী সংখ্যার অনুপাতে বসার জায়গা  নেই। তার ওপর, বাস টার্মিনাসের ওপর দিয়ে গিয়েছে হাই টেনশন বিদ্যুতের তার।

- Advertisement -

ওই বাস টার্মিনাসে উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগমের টিকিট কাউন্টার রয়েছে। সরকারি বাসগুলি সেখানেই দাঁড়ায়। ওই টার্মিনাসটি হয়ে জলপাইগুড়ি, শিলিগুড়ি,  আলিপুরদুয়ার, জয়গাঁ,  কোচবিহার, মালবাজার সহ বিভিন্ন রুটের বেসরকারি  বাস যাতায়াত করে। পাশাপাশি, ফালাকাটা, গয়েরকাটা, খগেনহাট, মাদারিহাট সহ বিভিন্ন রুটের ছোটো গাড়ি ও ম্যাক্সিক্যাবগুলি  ওই বাস টার্মিনাস থেকেই ছাড়ে। ফলে, যাত্রীর ভিড় লেগেই থাকে টার্মিনাসে।

বীরপাড়ার রবীন্দ্রনগরের বাসিন্দা তথা মাদারিহাট বীরপাড়া পঞ্চায়েত সমিতির প্রাক্তন বিরোধী দলনেতা প্রশান্ত নাহা বলেন, ‘বাস টার্মিনাসটি তৈরির জন্য একসময় দীর্ঘ লড়াই করেছি। কিন্তু, পরবর্তীতে পরিকল্পনা মোতাবেক কোনো কাজই হয়নি। বর্তমানে টার্মিনাসটি ব্যবহারের অনুপযুক্ত হয়ে পড়েছে।’

মাদারিহাট বীরপাড়া পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ রশিদুল আলম বলেন, ‘ওই  বাস টার্মিনাসটি ঢেলে সাজানোর পূর্ত দপ্তরের মাধ্যমে প্ল্যান এস্টিমেট করে প্রায় দেড় কোটি টাকা চেয়ে পঞ্চায়েত সমিতি  উত্তরবঙ্গ  দপ্তর  ও রাজ্য পরিবহণ দপ্তরের দ্বারস্থ হয়েছে। টাকা পেলেই বাস টার্মিনাসটি ঢেলে সাজানোর  কাজ শুরু হবে।’ মাদারিহাটের বিডিও শ্যারণ তামাং বলেন, ‘খোঁজ নিয়ে দেখছি। প্রয়োজনে আপাতত বালি বজরি দিয়ে গর্তগুলি বন্ধ করার জন্য  জন্য স্থানীয় পঞ্চায়েতকে বলা হবে।’

ছবি – গর্তে ভরা বাস  টার্মিনাস।

তথ্য ও ছবি- মোস্তাক মোরশেদ হোসেন