জ্যোতি সরকার, জলপাইগুড়ি : ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বাস টার্মিনাস বেসরকারি বাসমালিকদের একাংশের গ্যারাজে পরিণত হয়েছে। সেখানে রাত হলেই বসছে মদ-জুয়ার আসর। দীর্ঘ সাত বছর এই অবস্থাই চলছে বলে অভিযোগ। অথচ উন্নত পরিসেবা দেওয়ার জন্যই শিলিগুড়ি-জলপাইগুড়ি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এই টার্মিনাস তৈরি করার পর দেখভালের দাযিত্ব পুরসভাকে দেওয়া হয়। কিন্তু বাস টার্মিনাসের পরিসেবা থেকে পান্ডাপাড়া এবং সংলগ্ন এলাকার মানুষ বঞ্চিত। শুধু তাই নয়, জলপাইগুড়ি-হলদিবাড়ি রুটে একটি যাত্রী প্রতীক্ষালয় তৈরি করা হলেও তার সামনে কোনো বাসই দাঁড়ায় না। ফলে ২০১২ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি উদ্বোধন হয়েছিল যে বাস টার্মিনাসের তা  এখন মানুষের কোনো কাজেই লাগছে না।

শিলিগুড়ি-জলপাইগুড়ি রুটের পাশাপাশি হলদিবাড়ি ও কোচবিহারগামী রুটের বিভিন্ন বেসরকারি বাস সন্ধ্যার পর এই টার্মিনাসেই রাখা হয়। বহু ম্যাক্সিট্যাক্সি মালিক এই টার্মিনাসটিকে গ্যারাজ হিসাবে ব্যবহার করতে শুরু করেছেন। সাড়ে সাত বছর আগে শিলিগুড়ি-জলপাইগুড়ি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের তত্কালীন চেয়ারম্যান ডাঃ রুদ্রনাথ ভট্টাচার্য এই বাস টার্মিনাসটির উদ্বোধন করেছিলেন। উদ্বোধনের দিনই শিলিগুড়ি-জলপাইগুড়ি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের তরফে বাস টার্মিনাসটির পরিচালনভার জলপাইগুড়ি পুরসভাকে দেওয়া হয়েছিল।

সূচনাপর্বে কয়েদিন এই বাস টার্মিনাসে বাস থামলেও পরে কোনো বাসই এই টার্মিনাসমুখী হচ্ছে না। জলপাইগুড়ি স্টেশন সংলগ্ন এলাকা এবং চার নম্বর গুমটির রাস্তা থেকে জলপাইগুড়ি-হলদিবাড়ি রুটে বাস চলাচল করছে। বিপুল অঙ্কের সরকারি টাকা খরচ করে বাস টার্মিনাস নির্মাণ করবার পর তা জনসাধারণের পরিসেবায় না লাগায় পান্ডাপাড়ার বাসিন্দারা প্রতিবাদে সরব হয়েছেন।  তাঁদের অভিযোগ, রাত হলেই টার্মিনাসের ভিতরে মদ্যপদের চিত্কার-চ্ঁয়াচামেচিতে অতিষ্ঠ হতে হয়। জুয়া খেলা হয় অনেক রাত পর্যন্ত। টার্মিনাসকে ঘিরে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে শিলিগুড়ি-জলপাইগুড়ি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান বিজয়চন্দ্র বর্মন বলেন, এসজেডিএ যাত্রীদের সুবিধার জন্য ২০১২ সালে বাস টার্মিনাস তৈরি করতে অর্থ বরাদ্দ করেছিল। টার্মিনাসটি বেসরকারি পরিবহণ মালিকের গ্যারাজ হিসাবে ব্যবহার করা খুবই দুর্ভাগ্যের। বিষয়টি নিয়ে তিনি জলপাইগুড়ির পুরপ্রধানের সঙ্গে কথা বলবেন বলে জানান। জলপাইগুড়ি পুরসভার পূর্ত বিভাগের চেয়ারম্যান-ইন-কাউন্সিল সন্দীপ মাহাতো বলেন, এ ব্যাপারে দ্রুত জেলা প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে টার্মিনাসে যাতে স্বাভাবিক কাজকর্ম হয়, তার জন্য পদক্ষেপ করা হবে। বাস টার্মিনাসে মদ-জুয়ার আসরের বিষয়ে প্রশ্ন করলে এক পুলিশের আধিকারিক জানান, তাঁরা এই বিষয়ে খোঁজ নিয়ে কড়া পদক্ষেপ করবেন।