হংকং মার্কেটে আতঙ্কের থাবা, ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত

621

শমিদীপ দত্ত  শিলিগুড়ি : করোনা ভাইরাসের আতঙ্ক থাবা বসিয়েছে বিধান মার্কেটের এককোণে থাকা হংকং মার্কেটে। মার্কেট কমিটি সূত্রের খবর, মার্কেটে জিনিসপত্র বিক্রির হার এখন ২০ শতাংশেরও নীচে নেমে গিয়েছে। করোনার দাপটে এককথায় মাথায় হাত পড়েছে এই মার্কেটের পাঁচশো ব্যবসায়ীর।

ছয়ের দশকে চিন-ভারত যুদ্ধের পর বিধান মার্কেটের এই এলাকায় কয়েকজন নেপাল থেকে হংকংয়ের জিনিসপত্র এনে বিক্রি শুরু করেন।  সেসময়ে প্রধানত সেনা ও পর্যটকরাই ছিলেন এইসব পণ্যের ক্রেতা। তখন সিকিম এবং ডুয়ার্সের পরিকাঠামো পর্যটনের জন্য তেমন উন্নত ও জনপ্রিয় হয়নি। দার্জিলিং তখন পর্যটকদের আকর্ষণের জায়গা। আর ফেরার পথে শিলিগুড়ির হংকং মার্কেট। বেশির ভাগ পর্যটকই তখন একটা দিন হাতে রাখতেন হংকং মার্কেটে শপিং করার জন্য। হংকং মার্কেট মানেই বিদেশি পণ্যের বিপুল সম্ভার। এখানকার কলম, চপ্পল, ছাতা, বিদেশি কাপড় তখন ক্রেতাদের হাত ধরে ছড়িয়ে পড়ত দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। ধীরে ধীরে লোকমুখে জায়গাটির নামই হয়ে যায় হংকং মার্কেট। এখনও এই বাজারের ইলেক্ট্রনিক্স জিনিস থেকে শুরু করে জুতো, যাবতীয় সামগ্রীর ৫০ শতাংশই চিনা পণ্য। আগে এই বাজারের সব পণ্যই ছিল বেআইনি। এখন মুক্ত বাজার অর্থনীতি চালু হওয়ায় সেই অর্থে এগুলো আর বেআইনি নয়। এই বাজারে এখন বিদেশি পণ্যের পাশাপাশি প্রচুর ভারতীয় পণ্যও থাকে।  করোনার আঁচে শহরের প্রাণকেন্দ্রে থাকা এই মার্কেট এখন পুরোপুরিই বিপর্যস্ত। সেটা সকাল থেকে ফাঁকা দোকানের সামনে বসে থাকা বাপি পালের কথাতেই বোঝা গেল। ৩০ বছর ধরে এই মার্কেটে ইলেক্ট্রনিক্স জিনিসপত্রের ব্যবসা করছেন তিনি। তাঁর কথায়, ব্যবসা তো পুরো খারাপ হয়ে গিয়েছে। নেই বললেই চলে। যত দিন য়াচ্ছে খারাপ হচ্ছে। এমনিতেই এই সময়ে পর্যটকদের সংখ্যা একটু কম থাকে, করোনার জেরে সমস্তটাই ভাটা পড়ে রয়েছে। বিষয়টি আরও স্পষ্ট করলেন আরেক বিক্রেতা টিল্টু মজুমদার। তিনি বলেন, প্রথম থেকেই এই মার্কেট পর্যটকদের উপর বিশেষভাবে নির্ভরশীল। অন্য সময়ে পাহাড়ের হস্টেলের পড়ুয়ারা মার্কেটে আসতেন।  এবার তাঁরাও আসেননি। সকাল থেকে বউনি পর্যন্ত হয়নি। আসলে প্রত্যেকটা দোকানে চিনা সামগ্রী রয়েছে। আর এই চিনা সামগ্রীতেই এখন সকলের আতঙ্ক। তাই আমাদের এই মার্কেটের দোকানে কেউ সহজে আসতে চাইছে না। একই কথা ১৯ বছর ধরে মার্কেটে কাপড়ের ব্যবসা করে আসা আকাশ রায়ে। তিনি বলেন, করোনা ভাইরাসের আতঙ্কের জেরে হংকং মার্কেট ক্ষতবিক্ষত হয়ে গিয়েছে। কবে যে সবকিছু স্বাভাবিক হবে, সেই প্রহরই আমরা গুনছি। প্রহর গুনছেন মার্কেট কমিটির সম্পাদক ভবতোষ সাহা। তিনি বলেন, আগে এই সময়ে যদি ১০০টা সামগ্রী বিক্রি হত এখন সেটা ২০ টায় এসে দাঁড়িয়েছে। সবকিছু মিলে খুবই খারাপ পরিস্থিতিতে আমরা রয়েছি। এ থেকে বেরোনোর উপায় আমাদের হাতে নেই। তবে এর মধ্যেও ডুয়ার্স থেকে বন্ধুদের সঙ্গে পছন্দসই সামগ্রী কিনতে এসেছিলেন বছর পঁচিশের সরিতা গোয়ালা। তিনি বলেন, সরকারি পরামর্শ মতন মাস্ক কিনে নিয়েছি। আসলে শিলিগুড়ি এলেই এই মার্কেটে আসি। তবে জিনিস কিনব কি না, সেটা বলতে পারছি না।

- Advertisement -