করোনাকালে কোচবিহারে ব্যবসা কমেছে ৩০ শতাংশ

64

চাঁদকুমার বড়াল, কোচবিহার : দেশে দ্বিতীয় পর্যায়ে করোনা ভাইরাসের দাপট শুরুর জেরে কোচবিহার জেলার একমাত্র শিল্পতালুক চকচকার ওপর এখন আশঙ্কার ঘন কালো মেঘ। শিল্পপতিদের হিসাবে গত কয়েকদিনে এখানে ৩০ শতাংশ ব্যবসা কমেছে। অদূর ভবিষ্যতে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে বলেই তাঁদের আশঙ্কা। এখান থেকে চাল, ময়দা, ভোজ্য তেল, প্লাস্টিকের তৈরি নানা পণ্য সহ নানা সামগ্রী ডুয়ার্স ও অসমে যায়। করোনার ভ্রূকুটির জেরে এই রপ্তানি আপাতত গতি হারিয়েছে। রপ্তানি কমে যাওয়ায় উৎপাদনও কমেছে। সব মিলিয়ে ক্ষতির পরিমাণ ১০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গিয়েছে। করোনার প্রথম পর্যায়ে দাপটের সময় এখানে কয়েকশো কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছিল। এখনও সেই ক্ষতি সামাল দেওয়া সম্ভব হয়নি। এরই মধ্যে ফের প্রতিকূলতা দেখা দেওয়ায় চকচকার সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্ত সকলেই সমস্যায় পড়েছেন।

চকচকা শিল্প বিকাশ কেন্দ্র কোচবিহার জেলার একমাত্র শিল্পতালুক। বর্তমানে এখানে ৪৩টি শিল্প ইউনিট চালু রয়েছে। এই শিল্প ইউনিটগুলিতে চাল, ময়দা, পাটের সামগ্রী, পরিস্রুত পানীয় জল, সার, প্লাস্টিকের নানা সামগ্রী তৈরি হয়। স্থানীয় শ্রমিকরা ছাড়াও মেদিনীপুর, পুরুলিয়া সহ রাজ্যের অন্যান্য প্রান্তের শ্রমিকরা এখানে কাজ করেন। এই  শিল্পতালুকে মাসে প্রায় ১০০ কোটি টাকার ব্যবসা হয়। এখানকার উত্পাদিত সামগ্রী জেলার বিভিন্ন স্থানে যাওয়ার পাশাপাশি নিম্ন অসমের ধুবড়ি, কোকরাঝাড়, গৌরীপুরের মতো জায়গায় যায়। পাশাপাশি, ডুয়ার্সের বাজার তো রয়েছে। শিল্পপতিরা জানান, বিধানসভা ভোটের জন্য কিছুদিন ধরে এখানকার পরিস্থিতি এমনিতেই কিছুটা সমস্যায় ছিল। তার ওপর হালে করোনার সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিস্থিতি আরও প্রতিকূল হয়েছে।

- Advertisement -

কোচবিহার ডিস্ট্রিক্ট ইন্ড্রাস্ট্রিয়ালিস্ট ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সুব্রত পোদ্দার বলছেন, করোনার প্রভাবে শিল্পতালুকের ক্ষয়ক্ষতি বাড়ছে। পরিস্থিতি যেদিকে যাচ্ছে তাতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে।  ডুয়ার্স এবং অসমে রপ্তানি প্রায় বন্ধ বললেই চলে। ভোটের জন্য বাজার এমনিতেই কিছুটা খারাপ ছিল। তার ওপর করোনার প্রভাব পরিস্থিতি আরও খারাপ করেছে। সব মিলিয়ে ব্যবসার পরিমাণ প্রায় ৩০ শতাংশ কমেছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে বলে তাঁর আশঙ্কা। সংগঠনের সহ সভাপতি সুন্দরলাল চোপড়া বলেন, জিনিসপত্র নিতে বাইরের ব্যবসায়ীরা এখানে আসছেন না। উ‌ৎপাদনকারীদের অনেকেই দুটি শিফটের বদলে একটি শিফটে উৎপাদন করছেন। সাতদিনে ১০ কোটি টাকার বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।