সংক্রমণের আশঙ্কা বাড়িয়ে ফুটপাথে ব্যবসা চলছে

279

হরষিত সিংহ, মালদা : লকডাউন শিথিল হলেও ফুটপাথের দোকান বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছিল রাজ্য সরকার। কিন্তু সরকারি সেই নির্দেশিকা পালনের কোনও বালাই নেই মালদা শহরে। বরং শহরের বিভিন্ন ফুটপাথ দখল করে পসরা সাজিযে বসেছেন ছোট ব্যবসাযীরা। বিশেষ করে ফুটপাথে সার দিযে খোলা রয়েছে খাবার এবং কিছু টুকিটাকি মনোহারি জিনিসের দোকান। এমনিতেই লকডাউনের জেরে কাজ হারিয়েছেন বহু মানুষ। তাই বাধ্য হয়ে কেউ কেউ আবার কোনও উপায় না পেযে শহরের ফুটপাথ দখল করে মাস্ক ও স্যানিটাইজারের দোকান খুলে বসেছেন। বিশেষ করে মালদা শহরের রথবাড়ি মোড়, পোস্ট অফিস মোড় ও অতুল মার্কেট এলাকার ফুটপাথে সবচেয়ে বেশি দোকান খোলা রয়েছে। এদিকে ফুটপাথ জুড়ে দোকান বসায চলাচল করতে চরম সমস্যায পড়তে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। সচেতন শহরবাসীর অভিযোগ, কোনওরকম সামাজিক দূরত্বের বালাই না রেখে ফুটপাথের দোকানে ভিড় করে অনেকেই কিনছেন হরেক জিনিস। এমনকি ফুটপাথের ব্যবসায়ীরা স্যানিটাইজার ব্যবহার করছেন না। মাস্কও পরতে দেখা যাচ্ছে না অধিকাংশকে। পরলেও তা বেশিরভাগ সমযই গলায় ঝুলছে। শহরের বাইরে থেকে এসেও ভিড় জমাচ্ছেন অনেকেই। আর এভাবে দোকানে কেনাবেচা করায় সংক্রমণ ছড়ানোর প্রবল আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। হরেন মণ্ডল নামে এক ফুটপাথ ব্যবসায়ী বলেন, ‘আমরা লকডাউনে কাজ হারিয়েছি। তাই কোনও উপায় না পেয়ে রাস্তার পাশে দোকান নিযে বসেছি। কিছু বিক্রি হচ্ছে। তা দিয়ে কোনওরকমে আমাদের সংসার চলছে। আমাদের কাছ থেকে মাস্ক ছাড়াও অন্যান্য কিছু নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কিনছেন মানুষজন।’

শহরের প্রায় সমস্ত রাস্তার ফুটপাথ দখল হওয়ায় যাতায়াতেও সমস্যায় পড়েছে সাধারণ মানুষ। প্রতি পদে দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। এমনকি মানুষ ফুটপাথের বদলে রাস্তা দিযে যাতায়াত করার ফলে যানজটের সমস্যাও বাড়ছে। মালদা শহরের এক বাসিন্দা গণেশ সিং বলেন,‘ লকডাউন শিথিল হতেই শহরের ফুটপাথ দোকানপাট দখল করে ফেলেছে। ফুটপাথ দিযে আমরা চলাচল করতে পারছি না। বাধ্য হযে রাস্তা দিযে হাঁটতে হচ্ছে। যেকোনও সময দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এবিষযে প্রশাসনের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’

- Advertisement -

মালদা মার্চেন্ট চেম্বার অফ কমার্সের কর্তারা জানান, লকডাউন শিথিল হলেও ফুটপাথের দোকান খোলার কোনও নির্দেশ এখনও প্রশাসনের তরফে দেওয়া হয়নি। কিন্তু তারপরেও শহরের বিভিন্ন রাস্তার ফুটপাথ দখল করে দোকান খোলা হয়েছে। এবিষযে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মালদা মার্চেন্ট চেম্বার অফ কমার্সের সম্পাদক জযন্ত কুণ্ডু বলেন, ‘উত্তরবঙ্গ সংবাদের মাধ্যমে আমরা বিষয়টি জানতে পেরেছি। এই নিয়ে আমরা সংগঠনের তরফে ব্যবসাযীদের সঙ্গে আলোচনা করব। লকডাউন চলাকালীন বা প্রশাসনের নির্দেশিকা না পাওয়া পর্যন্ত যেন কেউ দোকান না খোলেন, সেই বিষয়ে আলোচনা করা হবে।’