কোভিড হাসপাতাল থেকে ফিরে বাড়িতে মৃত্যু ব্যবসায়ীর

কল্লোল মজুমদার, মালদা : কোভিড হাসপাতাল কিংবা আইসোলেশন সেন্টার থেকে সংক্রামিতদের ছাড়ার আগে ফের লালা পরীক্ষা করা হচ্ছে না। অভিযোগ উঠেছে, এই ঘটনায় বাড়ি ফিরে ফের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে সংক্রামিতদের। সোমবার এমন অভিযোগের সাক্ষী হয়ে থাকল মালদা শহর। এদিন মালদা শহরের গৌড় রোড এলাকায় মৃত্যু হয় এক ব্যবসায়ীর। ইংরেজবাজার পুরসভা সূত্রে খবর, বছর সত্তরের ওই ব্যবসায়ী কিছুদিন আগে করোনা সংক্রামিত হয়ে কোভিড হাসপাতালে ভর্তি হন। কিন্তু চার-পাঁচদিনের মাথায় তাঁকে সুস্থ বলে ছেড়ে দেওয়া হয়। বাড়ি ফিরে আসার একদিনের মধ্যেই ওই ব্যবসায়ীর তীব্র শ্বাসকষ্ট শুরু হয় এবং মারা যান। এরপরেই মৃতের পরিবারের মানুষজন তড়িঘড়ি শেষকৃত্য সম্পন্ন করেন। এই নিয়ে জনমানসে একাধিক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত মালদা জেলায় করোনা সংক্রামিত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা ১২। তবে বেসরকারি হিসাবে এই বৃদ্ধ ব্যবসায়ীকে নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা গিয়ে পৌঁছাল ১৬। গত দুদিন আগে বুড়াবুড়িতলায় করোনা সংক্রামিত হয়ে মৃত্যু হয়েছে এক মহিলার। এমনটাই দাবি এলাকার মানুষজনের। এছাড়াও বেশ কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে করোনা উপসর্গ নিয়ে। যদিও বহু মানুষেরই মৃত্যুর পর পরিবারের অনুরোধ সত্ত্বেও লালা সংগ্রহ করা হয়নি। কারণ হিসাবে মেডিকেল কলেজ ও স্বাস্থ্য দপ্তরের দাবি, মৃত্যুর পর লালা নেওয়ার সরকারি কোনও নির্দেশ নেই। যদিও প্রশ্ন উঠেছে, পাশের জেলা উত্তর দিনাজপুরে গত কয়েকদিনে মৃত্যুর পর বেশ কয়েকজনের লালা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়। এদের মধ্যে অনেকেরই লালার রিপোর্ট পজিটিভ আসে। সেক্ষেত্রে রাজ্য সরকার কী একেক জেলার জন্য একেকরকম আইন তৈরি করেছে।

- Advertisement -

এবিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে অজয় গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকার জন্য জেলা প্রশাসন তথ্য চাপা দিচ্ছে। লালা সংগ্রহ না হওয়ায় লালা পরীক্ষা হচ্ছে না। ফলে সংক্রামিতের সংখ্যা বাড়ছে না। সংক্রামিতের সংখ্যা না বাড়িয়ে রাজ্য সরকার কৃতিত্ত্ব নিতে চাইছে। দেখাতে চাইছে কোভিড মোকাবিলায় রাজ্য সরকার সফল। কিন্তু বাস্তবে এই রাজ্যের মানুষ দেখতে পাচ্ছেন সরকার করোনা মোকাবিলায় পুরোপুরি ব্যর্থ। করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর পর যেন লালা সংগ্রহ করে পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়। না হলে সংক্রমণ ক্রমশ ছড়িয়ে পড়বে ওই পরিবার সহ এলাকায়। যেমন ছড়িয়ে পড়েছে মালদা শহরের ২০ নম্বর ওয়ার্ডের সর্বমঙ্গলাপল্লিতে। ওই এলাকার এক ব্যবসায়ী করোনার উপসর্গ নিয়ে কিছুদিন আগে মারা যান।

তাঁর দাবি, আমরা জানতে পেরেছি, ওই পরিবারের তরফে স্বাস্থ্য দপ্তরের কাছে বারবার লালা পরীক্ষার দাবি করা হয়। সরকারি নির্দেশকে হাতিয়ার করে তা করা হয়নি। ফলস্বরূপ আমরা দেখতে পাই, কিছুদিনের মধ্যেই ওই পরিবারে বেশ কয়েকজন করোনা সংক্রামিত হয়েছেন। মালদায় এখনও পর্যন্ত ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে মালদা শহরে ৬, গাজোলে ১, ইংরেজবাজার গ্রামাঞ্চলে ১, কালিয়াচক-১ ব্লকে ১, কালিয়াচক-২ ব্লকে ২, কালিয়াচক-৩ ব্লকে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে।