লকডাউনে ব্যবসায় মন্দা, ঋণের দায়ে আত্মঘাতী ব্যবসায়ী, চাঞ্চল্য

249

ফাঁসিদেওয়া, ৮ জুলাইঃ লকডাউনে আর্থিক অস্বচ্ছলতা এবং ঋণের দায়ে ব্যবসায়ীর আত্মঘাতী হওয়ার ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়াল। মঙ্গলবার গভীর রাতে ফাঁসিদেওয়া ব্লকের ঘোষপুকুর গ্রাম পঞ্চায়েতের আমবাড়ি বাজার সংলগ্ন এলাকায় ঘটনাটি ঘটেছে। মৃত ব্যবসায়ীর নাম নিত্যানন্দ কর্মকার (৩০)। ওই রাতে নিজের দোকান থেকে তাঁর ঝুলন্তদেহ উদ্ধার হয়। এরপর পরিবারের সদস্যরা তাঁকে উদ্ধার করে ঘোষপুকুরের একটি মিশনারী হাসপাতালে নিয়ে যান। কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। বুধবার সকালে খবর পেয়ে ঘোষপুকুর ফাঁড়ির পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে। সেটি ময়নাতদন্তের জন্য উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এদিন সন্ধ্যা নাগাদ পুলিশ মৃতদেহ পরিবারের হাতে তুলে দিয়েছে। পাশাপাশি, পুলিশ একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করেছে। ঘটনার তদন্ত চলছে। স্থানীয় সূত্রের খবর, বছরখানেক আগে ঋণ নিয়ে ওই ব্যক্তি বাড়ির কাছেই সাবান, লবন, বিস্কুটের দোকান খুলেছিলেন। মৃতের পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, নিত্যানন্দ বাবু বেসরকারি ব্যাংক থেকে প্রায় লক্ষাধিক টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। করোনা পরিস্থিতিতে লকডাউনের কারণে নতুন ব্যবসায় প্রবল মন্দা দেখা দিয়েছিল। পাশাপাশি, ঋণের টাকা পরিশোধ করতে না পেরে, বেশ কিছুদিন থেকে ওই ব্যবসায়ী একপ্রকার মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন। মঙ্গলবার রাতে বাড়িতে না গিয়ে নিত্যানন্দ বাবু দোকানে আলো জ্বেলে দোকান বন্ধ করে দেন। এরপর, তাঁর মামাতো ভাই রবীন কর্মকার পায়ে হেঁটে বাড়ি যাওয়ার পথে বিষয়টি প্রত্যক্ষ করেন। রাতের খাবার খাওয়ার জন্য তাঁকে ডাকতে গিয়ে তাঁর ভাই সদানন্দ কর্মকার দাদাকে ডাক দিলেও, কোনও প্রত্যুত্তর আসেনি। এরপরই নিত্যানন্দ বাবুর ঝুলন্তদেহ দেখতে পান। পরিবারের সদস্যরাই তাঁকে উদ্ধার করে মিশনারী হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসক তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। পরিবারর সকলেই দাবি করেছেন, ঋণের দায়েই নিত্যানন্দ বাবু আত্মঘাতী হয়েছেন। এদিকে, তাঁর পরিবারের ৬ বছরের ১ কন্যা সন্তান এবং স্ত্রী রয়েছে। বাবা-মা এবং ২ ভাই আলাদা থাকেন। ১ দিদি এবং ১ বোনের বিয়ে হয়ে গিয়েছে। বাড়িতে নিত্যানন্দ বাবুই একমাত্র আয় করতেন। ঘটনার পর তাঁর স্ত্রী অঞ্জলী কর্মকার মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। পাশাপাশি, মেয়েকে নিয়ে সংসার কিভাবে চলবে, তা নিয়েও চিন্তায় পড়েছেন বলে নিত্যানন্দ বাবুর জামাই বাবু হরেন কর্মকার জানিয়েছেন। সরকারিভাবে সাহায্যের দাবি জানিয়েছে মৃতের পরিবারের। ফাঁসিদেওয়ার বিডিও সঞ্জু গুহ মজুমদার জানিয়েছেন, তিনি এবিষয়ে কোনও খবর পাননি। তিনি খোঁজ নিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন।