স্কুলের বাইরে থেকে টিফিন কেনা বন্ধ, হতাশ বিক্রেতারা

156

প্রসেনজিৎ সাহা, দিনহাটা : টানা ক্লাসের পর টিফিনের ঘণ্টা যেন ছাত্রছাত্রীদের কাছে এক সঞ্জীবনী। যা তাদের সমস্ত ক্লান্তিকে এক লহমায় দূর করে দেয়। এই টিফিন টাইমেই তারা যেমন খেলার মাঠে যায়, তেমনি স্কুল গেটের বাইরে ফুচকা ও বিভিন্ন খাবারের দোকানে গিয়ে খাওয়াদাওয়া সেরে নেয়। করোনা সংকটে গত বছরের মার্চ মাস থেকে সমস্ত স্কুল-কলেজ বন্ধ রয়েছে। তবে শুক্রবার থেকে রাজ্যের সমস্ত উচ্চবিদ্যালয় খুলতে চলেছে। বেশ কিছু ক্ষেত্রে স্পষ্ট নির্দেশিকা রয়েছে। স্কুলের গেটের বাইরে থাকা আচার, ফুচকার দোকানের খাবার ছাত্রছাত্রীদের জন্য পুরোপুরি নিষিদ্ধ। আর এই নির্দেশিকার জেরে ফুচকা, আচার বিক্রেতারা বিপাকে পড়েছেন।

বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে বসা ফুচকা, আচার বিক্রেতারা এমনিতেই সমস্যায় পড়েছিলেন। তবে তাঁদের আশা ছিল, নতুন বছরে অন্তত স্কুলগুলি খুললে তাঁদের দুর্দশা কিছুটা হলেও ঘুচবে। কিন্তু স্কুল খুললেও শিক্ষা দপ্তরের নির্দেশ অনুসারে ছাত্রছাত্রীরা টিফিন টাইমে বিদ্যালয়ে গেটের বাইরে থাকা দোকানের খাবার খেতে পারবে না। এর ফলে স্কুল খুললেও মন খারাপ ফুচকা ও আচার বিক্রেতাদের।

- Advertisement -

এদিন দিনহাটা উচ্চবিদ্যালয়ের গেটের কাছেই ফুচকার গাড়ি নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন গোপীনাথ রায়। তাঁর কথায়, সারাদিন ঘুরে ঘুরে ফুচকা বিক্রি করার চাইতে শহরের স্কুলের সামনে দাঁড়িয়ে ফুচকা বিক্রি করা অনেকটাই লাভজনক। কিন্তু শিক্ষা দপ্তরের নির্দেশিকায় আমাদের পড়ুয়াদের কাছে খাবার বিক্রি করা পুরোপুরি বন্ধ। ফলে আমাদের অবস্থার আর উন্নতি হল না। শহরের বিভিন্ন স্কুলে ঘুরে ঘুরে আচারের মতো মুখরোচক খাবার বিক্রি করেন শ্যামল রায়। এদিন তাঁর গলাতেও হতাশার সুর। তিনি বলেন, ভেবেছিলাম স্কুল খুলে গেলে আমাদের সমস্যা কিছুটা মিটবে। কিন্তু সে আর হল কোথায়? বিক্রেতাদের পাশাপাশি আক্ষেপ শোনা গেল ছাত্রছাত্রীদের গলাতেও। নবম শ্রেণির ছাত্র সৌগত সাহার কথায়, স্কুলের গেটের বাইরে বন্ধুরা মিলে ফুচকা খাওয়ার আনন্দটাই আলাদা। স্বাস্থ্যবিধির কারণে শুনছি বাইরের খাবার খাওয়া যাবে না। কাজেই সেই আনন্দ যে মিস করব তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।