ফালাকাটায় উপনির্বাচনের তোড়জোড় শুরু

439
ফালাকাটায় তৃণমূল কংগ্রেসের বাংলার গর্ব মমতা কর্মসূচি

সুভাষ বর্মন, ফালাকাটা: কোভিড পরিস্থিতির মধ্যে ফালাকাটা বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচনের তোড়জোড় শুরু হয়েছে।

সম্প্রতি রাজ্য নির্বাচন কমিশন থেকে উপনির্বাচনের জন্য এই বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটকেন্দ্রের যাবতীয় তথ্য চেয়ে চিঠি এসেছে। রাজ্যের জয়েন্ট চিফ ইলেকট্রোলার অফিসারের ওই চিঠিকে কেন্দ্র করেই ফালাকাটার প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

- Advertisement -

সূত্রের খবর, নির্বাচন কমিশনের ওই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে যা যা তথ্য চাওয়া হয়েছে, তা ইতিমধ্যে ফালাকাটার প্রশাসনের তরফে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু করোনা পরিস্থিতিতে কী করে উপনির্বাচন করা সম্ভব তা নিয়ে নানা মহল থেকে প্রশ্ন উঠেছে। এ নিয়ে শাসক-বিরোধী রাজনৈতিক দলের মধ্যেও গুঞ্জন ছড়িয়েছে।

রাজনৈতিক দলগুলির দাবি, করোনা পরিস্থিতিতে উপনির্বাচন করা যুক্তিযুক্ত হবে না। তবে শাসক, বিরোধী সব দলের নেতারা জানিয়েছেন, উপনির্বাচন ঘোষণা হলে তাঁরা প্রস্তুত রয়েছেন। যদিও প্রশাসনের কর্তারা এ নিয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছেন। আলিপুরদুয়ারের এসডিও শ্রী রাজেশ বলেন, ‘এব্যাপারে আমি কিছু বলতে পারব না।’

৩১ অক্টোবর ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় ফালাকাটার বিধায়ক অনিল অধিকারীর। তারপর থেকেই নির্বাচন কমিশন সহ রাজনৈতিক দলগুলি উপনির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করে। গত এপ্রিল মাসেই ফালাকাটা উপনির্বাচন হতে পারে ধরে নিয়ে জোরদার প্রচার শুরু করে তৃণমূল কংগ্রেস, বিজেপি ও বামফ্রন্ট।

শাসক দলের রাজ্য স্তরের হেভিওয়েট নেতা, মন্ত্রীরা ফালাকাটায় এসে প্রচারের ঝড় তোলেন। পালটা বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষও এখানে মিছিল করেন। বামফ্রন্টের পরিষদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তীও ফালাকাটায় আসেন। তবে মার্চ মাসের মাঝামাঝিতে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ যাবতীয় প্রস্তুতিতে জল ঢেলে দেয়।

এর ফলে নির্বাচন কমিশন রাজ্যের একাধিক পুরসভা নির্বাচনের পাশাপাশি ফালাকাটার উপনির্বাচনও স্থগিত ঘোষনা করে। লকডাউনের প্রথম দফায় সব রাজনৈতিক দলের নেতা, কর্মীরাই ঘরবন্দি হয়ে পড়েন। তবে পরবর্তী ধাপে ফালাকাটায় খাদ্য সামগ্রী বিলি নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে প্রতিযোগিতা শুরু হয়। চলতি মাস থেকে করোনা পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হয়েছে।

ফালাকাটায় রাজনৈতিক কর্মসূচিও চলছে। উপনির্বাচন আর হচ্ছে না তা ধরে নিয়েই আপাতত সব রাজনৈতিক দল ২০২১-র বিধান সভা নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করে। এই অবস্থায় উপনির্বাচন নিয়ে নির্বাচন কমিশনের ওই চিঠি সব রাজনৈতিক দলের মধ্যেই গুঞ্জন তৈরি করেছে।

ফালাকাটা বিধানসভা কেন্দ্রে কতগুলি পোলিং স্টেশন রয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ৮০০ বা এক হাজার ভোটার পিছু একটি করে পোলিং স্টেশন তৈরি করলে নতুন পোলিং স্টেশনের সংখ্যা কত হবে ইত্যাদি যাবতীয় তথ্য চেয়েছে নির্বাচন কমিশন। উপনির্বাচনের জন্যই এইসব তথ্য চাওয়া হয়েছে বলে নির্বাচন কমিশনের ওই চিঠিতে উল্লেখ রয়েছে। এই চিঠির সূত্রেই প্রশাসনিক মহলে তোড়জোড় শুরু হয়েছে।

সূত্রের খবর,ফালাকাটা ব্লক প্রশাসন যাবতীয় তথ্যের পাশাপাশি এই মুহূর্তে নির্বাচন হলে কী কী সমস্যা হতে পারে তা পালটা চিঠির মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনকে জানিয়ে দিয়েছে। ফালাকাটায় ৩৩টি স্কুলে কোয়ারান্টিন সেন্টার চলছে। তাই করোনা পরিস্থিতিতে বর্ষাকালে ভোট হলে নতুন পোলিং স্টেশন তৈরি সহ নানারকম সমস্যা হতে পারে বলে উদ্বিগ্ন প্রশাসনের কর্তারা।

যদিও এব্যাপারে সংবাদমাধ্যমের কাছে কোনও মন্তব্য করতে চাননি ফালাকাটার বিডিও সুপ্রতীক মজুমদার। তৃণমূল কংগ্রেসের ফালাকাটা ব্লক সভাপতি সন্তোষ বর্মন বলেন, ‘বিষয়টি শুনেছি। এটা কেন্দ্রীয় সরকারের চক্রান্ত। করোনা পরিস্থিতিতে নির্বাচন কতটা যুক্তিযুক্ত তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তবে উপনির্বাচন হলে আমরা প্রস্তুত রয়েছি।’

বিজেপির জেলা সভাপতি গঙ্গাপ্রসাদ শর্মা বলেন, ‘এটা পুরোপুরি নির্বাচন কমিশনের ব্যাপার। তবে এখন নির্বাচন হলে সেটা সমস্যার হয়ে দাঁড়াবে। তবু নির্বাচন কমিশন যদি ঘোষণা করে তাহলে আমরা প্রস্তুত আছি।’

সিপিএমও এই পরিস্থিতিতে উপনির্বাচনকে যুক্তিসঙ্গত মনে করছে না। দলের জেলা সম্পাদক মৃণালকান্তি রায় বলেন, ‘আগামী বিধানসভা নির্বাচনের আর একবছরও বাকি নেই। তাই করোনা পরিস্থিতিতে উপনির্বাচন করা কতটা ঠিক হবে তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।’ তবে দলীয়ভাবে সিপিএমও প্রস্তুত রয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।