নিউ ইয়র্কে রোল বেচে কোটিপতি বাঙালি কন্যা

404

কলকাতা : রোল খেতে ভালোবাসেন? নিউ মার্কেটের স্ট্রিট কর্নার কিংবা পার্কস্ট্রিট ঢুকলেই মনে হয় একটা রোল খেলে হয় না? রোলের ম-ম গন্ধে লোভ সামলানো মুশকিল। একবার ভাবুন তো নিউ ইয়র্কের ম্যানহাটনের রাস্তায় রোলে কামড় দিচ্ছেন? নিছক ভাবনা নয়, আমেরিকার মাটিতে কাটি রোল-এর দুর্দান্ত স্টল গড়ে তুলেছেন কলকাতার পায়েল সাহা। বাঙালি তনয়ার কাটি রোল মাত করে দিয়েছে মার্কিন মুলুক। প্রথমে রাস্তায়। তারপর রেস্তোরাঁ। নিউ ইয়র্কে চারটি রেস্তোরাঁ আছে তাঁর। আছে লন্ডনেও। পায়েলের কাটি রোল  কুরিয়ারে যাচ্ছে জাপানেও।

স্বামীর কর্মসূত্রে ২১ বছর আগে নিউ ইয়র্কে গিয়ে পায়েল বুঝেছিলেন ভিসার প্যাঁচপয়জারে ইচ্ছে, যোগ্যতা থাকলেও চাকরির দরজা খুলবে না আমেরিকায় কিন্তু ব্যবসা তো করতে পারেন! ২২ বছরের তরুণীর চুপচাপ ঘরে বসে না থাকার জেদ তাড়িয়ে নিয়ে গিয়েছিল ব্যবসা করার দিকেই। মুখরোচক খাবার বলতে রোলের জুড়ি মেলা ভার। এই ভাবনা থেকে পরিচারককে সঙ্গে নিয়ে স্রেফ স্ট্রিট ফুড হিসেবে কাটি রোলের ব্যবসা শুরু করেন ২০০২ সালে। নিছক ভালোলাগা ভালোবাসায় পরিণত হয়। আর ফিরে তাকাতে হয়নি। গৃহিণী-মালকিনের মস্তিষ্ক, এক্সপেরিমেন্টের বহর আমেরিকান সাহেব, মেমদের রসনা কেড়ে নিয়েছে। পায়েল সাহা এখন উদ্যোগপতি। ১৪ মিলিয়ন ডলারের ফ্র‌্যাঞ্চাইজি খুলেছেন। বিশ্বের প্রথম শ্রেণির শহরগুলি তাঁর টার্গেট। শুরুতে ক্রেতা হিসেবে নিশানা করেছিলেন পড়ুয়া এবং নৈশযাত্রীদের। নিউ ইয়র্কের চারটি আউটলেটের সর্বশেষটি খোলেন ২০১২ সালে ম্যানহাটনে।

- Advertisement -

পায়েলের শুরুটা ছিল একেবারে সাদামাঠা। প্রথম দিন বিক্রি হয়েছিল ৫০ ডলার। আত্মীয়, বন্ধু, পরিজনদের কাছ থেকে অর্থসংগ্রহ করে এই ব্যবসায় ১ লক্ষ ৫০ হাজার ডলার বিনিয়োগ করেছিলেন পায়েল। সংগৃহীত অর্থ ১৮ মাসে পরিশোধ করেন। কাটি রোলের সঙ্গে নানা ধরনের লস্যিও মিলছে তাঁর দোকানে।ব্যবসার অ, আ, ক, খ জানতেন না পায়েল। এ বিষয়ে কোনও অভিজ্ঞতা ছিল না তাঁর। সব সময় প্রাধান্য দিয়েছেন উৎকর্ষে। পারফেকশন তাঁর ইউএসপি, সাফল্যের সিঁড়িও।