শিলিগুড়ি : পুলিশের নজরদারি সেভাবে না থাকায় শিলিগুড়ি শহরের বিভিন্ন জায়গায় ক্যাফের আড়ালে অবৈধ পাব চালু হয়েছে। সাধারণভাবে চা, কফি থেকে নানারকমের হালকা খাবারের জন্য ক্যাফেগুলিতে উঠতি ছেলেমেযো ভিড় করে। নামি রেস্তোরাঁ থেকে ক্যাফেগুলিতে দাম তুলনায কম থাকায় দুপুর থেকেই এখানে টেবিলগুলি ভরতি হয়ে যায়। এই অল্পবয়সি খরিদ্দারদের টার্গেট করেই ক্যাফেগুলির কয়েকটিতে অবৈধ পাব চালু হয়েছে। তুলনায় কম দামে এখানে চা-কফির পাশাপাশি পেগ হিসাবে মদ পাওযা যাচ্ছে। শহরের সচেতন বাসিন্দারা অবশ্য বিষযটি নিযে উদ্বেগে রয়েছেন। সদ্য কলেজে পা দেওয়া বা হাইস্কুলের পড়ুযাদের একাংশ এই ফাঁদে পা দেওয়ায় পড়ুযাদের অভিভাবকরা চিন্তায় পড়েছেন।

শহরের সেবক রোডের শাকালু সিং রায রোড সংলগ্ন একটি শপিং মলের মধ্যে থাকা একটি ক্যাফে এই তালিকায় রীতিমতো কুখ্যাত। ক্যাফের প্রতি আকর্ষণ বাড়াতে সামনের কালো কাচে চা, কফি সম্পর্কিত বিভিন্ন কথা লেখা রয়েছে। দোকানের উপরে বড়ো হরফে ক্যাফে লেখা থাকলেও কালো কাচের দরজার আড়ালে ইশারা করতেই বেরিয়ে আসছে আলাদা মেনু। সেই মেনু বিভিন্ন ধরনের মদের। গ্লাস হিসাবে সেই দাম শুরু হচ্ছে ১৫০ টাকা থেকে। বিয়ারের বোতল ৩০০ টাকা হিসাবেও বিক্রি হচ্ছে। ক্যাফের আড়ালে এই আলাদা মেনুর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রশ্ন করলে কেউ কোনো উত্তর দিতে পারেননি। শুধু ওই জায়গাই নয়, ওই এলাকা. থাকা আরও তিনটি ক্যাফেতেও একইভাবে ব্যবসা চলছে।

সেবক রোড থেকে শুরু করে প্রধাননগর, গুরুংবস্তি থেকে শহরের একাংশে ক্যাফের নামে এভাবে অবৈধভাবে চলা এই ব্যবসা উঠতি বয়সের ছেলেমেয়েদের মারাত্মক ক্ষতি করছে বলে মনে করছেন শহরের সাংস্কৃতিক মহল। সাংস্কৃতিক কর্মী পার্থ চৌধুরি বলেন, ‘এই ক্যাফেগুলি এখন বিশেষ করে যুবসমাজের আড্ডার জাযগা। ফলে এই অবৈধ ব্যবসা যে যুবসমাজকে টার্গেট করেই চলছে, সেটা পরিষ্কার। ঠিক, ভুল বুঝতে না পারায় তারা ধীরে ধীরে নেশায় আসক্ত হযে যাচ্ছে। ক্যাফেগুলির একাংশের আড়ালে অবৈধভাবে এই মদের ব্যবসা যুবসমাজেরই কোমর ভাঙছে। বাইরে এক জিনিস এবং ভেতরে আরেক জিনিস চললেও পুরনিগমের ট্রেড লাইসেন্স বিভাগ যেমন এর বিরুদ্ধে নজর দিচ্ছে না, ঠিক সেরকম পুলিশ প্রশাসনেরও এবিষয়ে কোনো নজরদারি নেই।’

শিলিগুড়ি পুরনিগমের ট্রেড লাইসেন্স বিভাগের মেযর পারিষদ কমল আগরওযাল বলেন, ‘যে ধরনের ব্যবসার জন্য লাইসেন্স নেওয়া হয়, সেই লাইসেন্সের বাইরে কোনো জিনিস বিক্রি করা যায় না। শহরের বেশ কিছু ক্যাফের আড়ালে কোনোরকম লাইসেন্স ছাড়া মদ বিক্রির বিষয়টি শুনতে পেয়েছি। আমরা ট্রেড লাইসেন্স বিভাগ থেকে সংশ্লিষ্ট ক্যাফেগুলিতে অভিযান চালিয়ে লাইসেন্স বাজেযাপ্ত করব। পুলিশের কাছে এই অবৈধ মদের ব্যবসার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওযার অনুরোধ করব।’

শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেটের এসিপি পদমর‌্যাদার এক পুলিশ আধিকারিক বলেন, ‘বিষয়টি আমরা শুনেছি। আমরা সংশ্লিষ্ট ক্যাফেগুলিতে অভিযান চালাব।’

তথ্য-শমিদীপ দত্ত