পুলিশের মারে মৃত্যু বাম যুবকর্মীর, রাজ্যজুড়ে থানা ঘেরাও করার ডাক

86
ছবি: ফাইল

কলকাতা: সকলের জন্য কাজ ও শিক্ষা চেয়ে সম্প্রতি নবান্ন অভিযানে যোগ দেওয়া ছাত্র-যুবদের উপর পুলিশি হামলার ঘটনায় মৃত্যু হল বাঁকুড়ার যুবকর্মী মইদুল ইসলাম মিদ‍্যা(৩১)-র। ঘটনায় ক্ষোভের পারদ চড়তে শুরু করেছে বাম ছাত্র-যুব শিবিরে। অন্যদিকে, ওই বাম যুবকর্মীর মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ধরে আগামী দু’দিন রাজ্যের সমস্ত থানা ও বিডিও দপ্তরের সামনে অবস্থান বিক্ষোভের ডাক দিল বামপন্থী ছাত্র-যুব সংগঠনগুলি। ইতিমধ্যে এই প্রতিবাদ কর্মসূচিকে সমর্থণ জানিয়েছে রাজ্য সিপিএম।

বাম ছাত্র-যুবর প্রতিবাদ কর্মসূচিকে সমর্থন জানিয়ে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র বলেন,  ‘তৃণমূল সরকারের পুলিশি বর্বরতায় শান্তিপূর্ণ গণআন্দোলনে এক যুবকর্মীকে প্রাণ দিতে হল তা ধিক্কার জানানোর কোনো ভাষা নেই। এই বর্বরতার বিরুদ্ধে ছাত্রযুবদের প্রতিবাদ কর্মসূচীকে দল সমর্থন করছে। শুধু তাই নয়,দলের তরফে বাম গণতান্ত্রিক ধরমনিরপেক্ষ শক্তিগুলোকে যুক্ত করে ছাত্রযুবদের প্রতিবাদ কর্মসূচীর প্রতি সংহতি জানানো হবে। তাঁর কথায়, সিপিআই(এম)-র তরফে আমরা দাবি করছি, শহীদ কমরেড মিদ্যার মরদেহের ময়নাতদন্তের কাজ সঠিকভাবে নিশ্চিত করতে সেই কাজের পূর্ণ ভিডিও রেকর্ডিং করাতে হবে এবং তাঁর মৃত্যুর জন্য দায়ী পুলিশ আধিকারিকদের চিহ্নিত করে তাঁদের কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।’

- Advertisement -

এদিকে বাম যুবকর্মীর মৃত্যর ঘটনায় রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসকে একহাত নিয়ে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি তথা সাংসদ অধীর রঞ্জন চৌধুরী বলেন, ‘আন্দোলন করতে গিয়ে এক যুবকের মৃত্যুটা দুঃখজনক ঘটনা। তাঁর মতে, বর্তমান সরকার জহ্লাদের রাজত্ব চালাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও উঠে এসেছিলেন আন্দোলনের মাধ্যমে। আর মৃত্যু নিয়ে বাংলার রাজনীতি করতে ভালোবাসেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ১৯৯৩ সালেও ১৩ জন যুব কংগ্রেসের প্রাণ নিয়ে প্রাণ নিয়ে তিনি মুখ্যমন্ত্রী পদে বসেন। আজ পর্যন্ত সেই মৃত্যুর কোন বিচার হয়নি। সেই সঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে মামলা দিতে পারে পুলিশ, কিন্তু কখনও পিটিয়ে মেরে ফেলতে পারেনা।’

প্রসঙ্গত, নবান্ন অভিযানে গত ১১ ফেব্রুয়ারি কলকাতায় ১০টি বামপন্থী ছাত্র যুব সংগঠনের ডাকে নবান্ন চলো কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছিলেন বাঁকুড়ার কোতুলপুরের মইদুল। পেশায় অটোচালক। দলীয় সূত্রে খবর, সেদিন পুলিশের লাঠির আঘাতে গুরুতর আহত হন মইদুল। তাঁকে ডাক্তার ফুয়াদ হালিমের অধীনে একটি নার্সিংহোমে ভর্তি করা হয়েছিল। রবিবার রাতে শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। সোমবার সকালে তাঁর মৃত্যু হয়। মহিদুলের মৃত্যু প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে সিপিএম নেতা তথা বিশিষ্ট চিকিৎসক ফুয়াদ হালিম জানান,পুলিশের মারের জেরে তাঁর মাসেল ইনজুরি হয়েছিল। ফলে তার শরীর থেকে সমস্ত প্রোটিন বেরিয়ে যাচ্ছিল। শুধু তাই নয়, আঘাতপ্রাপ্ত হয় কিডনিও। তার জেরেই মইদুলের মৃত্যু হয়েছে।