গাঁজা চাষের বিরুদ্ধে অভিযান

294

দিনহাটা: দিনহাটা মহকুমার সীমান্তবর্তী গ্রামাঞ্চলে গাঁজা চাষ বন্ধ করতে পদক্ষেপ করল স্হানীয় প্রশাসন। বৃহস্পতিবার সাহেবগঞ্জ থানা ও দিনহাটা মহকুমা আবগারি দপ্তরের যৌথ অভিযানে ভারত-বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সীমান্তঘেঁষা দিনহাটা ২ ব্লকের বুড়িরহাট ১ গ্রাম পঞ্চায়েতের বিস্তীর্ণ এলাকায় গাঁজা চাষের বিরুদ্ধে অভিযান করা হয়। অভিযানে কয়েক কোটি টাকার অবৈধ গাজা গাছ নষ্ট করা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। ভবিষ্যতেও ব্লকজুড়ে গাঁজা চাষ বন্ধ করতে লাগাতার অভিযান চালানো হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে এদিনের ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।

প্রসঙ্গত, ভারত-বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সীমান্ত লাগোয়া দিনহাটা ২ ব্লক গাঁজা চাষ ও ব্যবসার অন্যতম প্রধান ঘাঁটি। ব্লকের কিশামতদশগ্রাম, বড়শাকদল, সাহেবগঞ্জ, নাজিরহাট, নয়ারহাট, শালমারা, বুড়িরহাট ১ ও ২, চৌধুরিহাট, শুকারুরকুঠি সহ গ্রামাঞ্চলের প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই কমবেশি গাঁজা চাষ হয়ে থাকে। বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী দিনহাটা ২ ব্লক আর্থসামাজিক ও শিক্ষাক্ষেত্রে অনেকটা পিছিয়ে রয়েছে। কৃষিপ্রধান এই এলাকার অধিকাংশ বাসিন্দাই কৃষিকাজ বা দিনমজুরের কাজের সঙ্গে জড়িত। প্রকৃতির খামখেয়ালিপনা ও অত্যধিক হারে জনবসতি বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে সম্প্রতি কৃষিক্ষেত্রে লাভের পরিমাণ কমছে। ফলে আর্থিক অনটন নিত্যসঙ্গী। এমন পরিস্থিতিতে মূলত স্হানীয়দের আর্থিক অনটনকে হাতিয়ার করেই গাঁজা ব্যবসার জাল বিছায় স্থানীয় কিছু দালাল ও গাজা মাফিয়ারা। আর খুব কম সময়ে আর্থিকভাবে লাভবান হতে গাঁজা চাষের দিকে পা বাড়ান দিনহাটা ২ ব্লকের অধিকাংশ বাসিন্দা। এমনকি গ্রামাঞ্চলের শিশু, কিশোর ও মহিলারাও আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হতে গাঁজা গাছ লাগান। এলাকার সচেতন নাগরিকদের অভিযোগ, গাঁজা চাষ বন্ধ করতে অধিকাংশ সময়ই নির্বিকার থাকে পুলিশ। এমনকি পুলিশের একাংশ এতে পরোক্ষভাবে জড়িত থাকে বলে অভিযোগ। এইবিষয়ে সম্প্রতি উত্তরবঙ্গ সংবাদে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। সেইসময় গাঁজা চাষ বন্ধ করতে যথাযথ পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছিল পুলিশ। সেইমতোই এদিন অভিযান চালানো হয়। এইবিষয়ে সাহেবগঞ্জ থানার ওসি সৌমাল্য আইচ বলেন, ‘পুলিশ ও আবগারি দপ্তরের যৌথ অভিযানে বিস্তীর্ণ এলাকার গাঁজা গাছ ধ্বংস করা হয়েছে। ব্লক জুড়ে অভিযান চলবে।’

- Advertisement -