ভাস্কর বাগচী, শিলিগুড়ি, ২৫ মার্চঃ কেউ পক্ষাঘাতে আক্রান্ত, কেউ আবার ক্যানসারের রোগী। অসুস্থ শরীরে দীর্ঘদিন ধরেই প্রায় কাজের বাইরে। কেউ আবার কাজ করতে না পারায় প্রক্সি দিচ্ছেন তাঁর ছেলে। এই পরিস্থিতিতে কেউ হুইলচেয়ারে চেপে আবার কেউ অসুস্থ শরীর নিয়ে স্ত্রীর কাঁধে ভর দিয়ে এসেছিলেন ভোটের প্রশিক্ষণ নিতে।

লোকসভা ভোটে সরকারি কর্মচারীদের ভোটের ডিউটির জন্য প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে শনিবার থেকে। এদিনও প্রচুর সরকারি কর্মী প্রশিক্ষণ নিতে এসেছিলেন শিলিগুড়ি বয়েজ হাইস্কুলে। ভোটের সময় ভোটকর্মীদের কী দাযিত্ব পালন করতে হবে তা হাতেকলমে দুদিন ধরে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। তবে শিলিগুড়ি পুরনিগমের প্রায় দুই শতাধিক কর্মীকে ভোটের ডিউটি দেওয়ায় নাগরিক পরিসেবা ব্যাহত হবে বলে আশঙ্কাও রয়েছে।

এদিকে, এদিন ছেলেকে নিয়ে হুইলচেয়ারে চেপে শিলিগুড়ি বয়েজ হাইস্কুলের ভোটের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে এসেছিলেন শিলিগুড়ি পুরনিগমের সাফাইকর্মী অপিন্দর ডোম। আট মাস আগে পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হওয়ার কারণে শরীর অসাড় হয়ে পড়েছে। একা একা হাঁটাচলাও করতে পারেন না। ভোটের ডিউটি এসেছে শুনে এদিন ছেলে অশোক মল্লিককে সঙ্গে নিয়ে হুইলচেয়ারে চেপে এসেছিলেন অপিন্দর।

তাঁর ছেলে অশোক বলেন, বাবা কাজ করতে পারেন না। তাই বাবার জায়গায় আমিই কাজ করি। কিন্তু ভোটের ডিউটি এসেছে। বাবাকে নিয়ে এলাম। কথা বলব। পরে আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলে এসে অশোকবাবু বলেন, আমাকে বলা হয়েছে আবেদন করতে। সোমবারই পুরো ঘটনা জানিয়ে চিকিৎসার কাগজপত্র সহ আবেদন করব। তারপর দেখা যাক কী হয়।

শিলিগুড়ি পুরনিগমের পূর্ত বিভাগের কর্মী চণ্ডীচরণ দাস। তিনি বলেন, চার বছর ধরে ফুসফুসে ক্যানসার। কলকাতায় টাটা হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে। শুধু তাই নয়, শ্বাসকষ্ট রয়েছে। পায়ে সমস্যা। ডিউটি না যাতে দেওয়া হয়, তার আবেদনও করেছিলাম। কিন্তু তাও প্রশিক্ষণে আসতে বলা হয়েছে। দেখি কী হয়।

শুধু এই দুই সরকারি কর্মীই নন, আরও অনেক অসুস্থ ব্যক্তিকে এদিন দেখা গেল প্রশিক্ষণে উপস্থিত থাকতে। যদিও মহকুমা প্রশাসন সূত্রে খবর, যাঁরা অসুস্থ থাকার কারণে ভোটের ডিউটি করতে পারবেন না, তাঁদের জন্য মেডিকেল বোর্ড বসবে। সেই বোর্ডের সামনে হাজির হতে হবে অসুস্থ ভোটকর্মীদের। তবে এর জন্য তাঁদের প্রশাসনের কাছে আবেদনও করতে হবে।

এদিকে, শনিবার ও রবিবার মিলে ৪,০৯৬ জনকে প্রশিক্ষণ দিল মহকুমা প্রশাসন। কর্মীদের প্রশিক্ষণের দাযিত্বে থাকা আধিকারিক সপ্তর্ষি নাগ বলেন, ভোটকেন্দ্রে একজন ভোটকর্মীর কী দাযিত্ব হবে সেটা বোঝানো হয়েছে। পরবর্তীতে তাঁদের ইভিএম দিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।