মাধ্যমিকে ৭২ শতাংশ পেয়ে নার্স হওয়ার স্বপ্ন দেখছে ক্যান্সার আক্রান্ত জয়শ্রী

308

দীপঙ্কর মিত্র, রায়গঞ্জ: টানা ২ বছরের বেশি সময় ক্যান্সার আক্রান্ত রায়গঞ্জের জয়শ্রী গুহ। তার শরীর না পারলেও মানসিক জোরে সে পড়াশোনা চালিয়ে যায়। পরীক্ষার আগে গুরুতর অসুস্থ থাকলেও জেদ করে করে মাধ্যমিউক পরীক্ষায় বসেন। বুধবার মাধ্যমিকের ফল প্রকাশের পর জানা যায়, জয়শ্রী ৭২ শতাংশ নম্বর পেয়েছে। যদিও সে ভেবে ছিল ৮০ শতাংশ নম্বর পাবে। তা না পেলেও আগামী আরও ভালো রেজাল্ট হবে বলে দাবি করছে। এমনকী নিজে অসুস্থ হলেও বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করে নার্স হয়ে সাধারণ মানুষের সেবা করতে চায় জয়শ্রী।

রায়গঞ্জের বীরনগরের এক আবাসনে জয়শ্রীর মা শ্বাশতী গুহ দুই মেয়েকে নিয়ে থাকেন। বাবা সঞ্জয় কুমার গুহ পুলিশের সহকারী সাব ইন্সপেক্টর। তিনি কর্মসূত্রে ইসলামপুরে থাকেন। জয়শ্রীর বোন শ্রেয়সীও এবার মাধ্যমিক পাশ করেছে। পড়াশোনার ক্ষেত্রে সেই দিদিকে সাহায্য করেছে।

- Advertisement -

পরিবার সূত্রে খবর, বছর দুই আগে জয়শ্রী গলায় ব্যাথা অনুভব করে। বাবা সঞ্জয় গুহ এবং মা শাশ্বতী গুহ তাকে নিয়ে শহরের এক চিকিৎসকের দারস্থ হন। প্রাথমিক চিকিৎসার পরে সেই চিকিৎসকের পরামর্শে জয়শ্রীকে নিয়ে মুম্বাইয়ের টাটা ক্যান্সার হাসপাতালে নিয়ে যান তারা। সেখানেই নানা চিকিৎসার মধ্য দিয়ে জানতে পারে যে তার গলায় বাসা বেঁধেছে মারণ রোগ ক্যান্সার। থাইরয়েড ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছে জয়শ্রী।

এমত পরিস্থিতিতেও পড়াশোনা করে জীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন দেখে জয়শ্রী। হাসপাতালের বিছানায় শুয়েই পড়ার বইয়ের মধ্যে নিজের স্বপ্ন গুলোকে আগলে রাখার প্রবল চেষ্টা চালিয়ে যায়।দুবছরে ১৬ বার চিকিৎসার জন্য মুম্বাইয়ে পাড়ি দিতে হয় তাকে। ক্যান্সারকে উপেক্ষা করে ৫০৯ নম্বর নিয়ে পাশ করেছে সে। এরমধ্যে বাংলায় ৮০, ইংরেজীতে ৮০, অঙ্কে ৭০, ভৌত বিজ্ঞানে ৫১, জীবন বিজ্ঞানে ৬৭, ইতিহাসে ৮১ এবং ভূগোলে ৮১। বোন শ্রেয়সীও দেবিনগর কৈলাস চন্দ্র রাধারাণী বিদ্যাপীঠ থেকে এবছর মাধ্যমিক পাশ করেছে। তার মোট প্রাপ্ত নম্বর ৪৮৪।

জয়শ্রী জানায়, মাধ্যমিকে ৭২ শতাংশ নম্বর পেয়ে উত্তীর্ণ হলেও আশাবাদী ছিল আরও বেশি নম্বরের। অসুস্থ থাকায় সেভাবে পড়াশোনা করতে পারেনি। বোন যথেষ্ট সাহায্য করেছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক উৎপল দত্ত এবং সহকারী প্রধান শিক্ষিকা রাখি বিশ্বাসের প্রচন্ড সহযোগিতা পেয়েছি এই দুই বছরে। বাবা, মা এবং মামার পাশাপাশি বন্ধুরাও এগিয়ে এসেছিল। জয়শ্রী বলে, আগামীতে বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করে নার্সিংয়ের ট্রেনিং নিতে চায়। আশাকরি আমি প্রতিটি লড়াইয়ে জয়ী হব এবং নিজের পায়ে দাঁড়াব।

মেয়ের সাফল্যে খুশি মা শাশ্বতী দেবী। তিনি জানান, ২০১৮ সাল থেকে থাইরয়েড ক্যান্সারে আক্রান্ত মেয়েকে নিয়ে প্রায় ১৬ বার মুম্বাইয়ের টাটা ক্যান্সার হাসপাতালে যেতে হয়েছিল চিকিৎসার জন্য। মেয়ে এখন অনেকটাই সুস্থ। স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকারা এবং বন্ধুরা অনেক সহোযোগিতা করেছে ওকে। কোন সরকারি সহযোগিতা পেলে আগামীতে মেয়ের চিকিৎসার পাশাপাশি পড়াশোনায় চালানোর ক্ষেত্রে অনেকটাই সুবিধা হবে।

বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মুখে জয়শ্রীর সাফল্যের খবর পেয়ে তার বাড়িতে দেখা করতে যান রায়গঞ্জের বিধায়ক মোহিত সেনগুপ্ত।তাকে শুভেচ্ছা জানানো ছাড়াও তার পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক উৎপল দত্ত জানান, জয়শ্রী গুহর এই সাফল্য বিদ্যালয়ের অন্যান্য সকল ছাত্রছাত্রীদের উৎসাহিত করবে। আমরা তার পাশে আছি। পড়াশোনার ক্ষেত্রে আমরা সহযোগিতা করব।