গাছতলায় ঠাঁই ক্যানসার আক্রান্ত আশাকর্মীর

- Advertisement -

তনয় মিশ্র, মোথাবাড়ি : হাসপাতালে ভর্তির সাতদিন পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল মালদার এক করোনাযোদ্ধা, স্বাস্থ্যকর্মী কমলাবালা মণ্ডলকে। অভিযোগ, সুস্থ হওয়ার আগেই তাঁকে ছেড়ে দেয় কলকাতার পিজি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ফের অসুস্থ হয়ে পড়েছেন তিনি। চিকিৎসার আশায় বর্তমানে কলকাতার হাসপাতালের সামনে গত ১৩ দিন ধরে গাছতলায় পড়ে রয়েছেন তিনি।

শুক্রবার মোথাবাড়ির ওই আশাকর্মী গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁর ছেলে তাঁকে পিজি হাসপাতালের আউটডোরে নিয়ে যান। আউটডোরে চিকিৎসার পর চিকিৎসাকরা তাঁকে ভর্তি হওয়ার নির্দেশ দিলেও বেডের অভাবে ভর্তি হতে পারছেন না তিনি। এই অবস্থায় পিজি হাসপাতালের বাইরে গাছতলায় মাকে নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন তাঁর ছেলে। ফের একই ধরনের ঘটনায় তীব্র আলোড়ন পড়েছে জেলার স্বাস্থ্যমহলে। কিছুদিন আগে কমলাদেবী অসুস্থ হয়ে পড়লে গত ১০ সেপ্টেম্বর তাঁকে কলকাতা নিয়ে যাওয়া হয়। দীর্ঘ লড়াইয়ে পর ১৯ সেপ্টেম্বর তাঁকে পিজি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বেডের অভাবে সেই সময়ও হাসপাতালের বাইরে গাছতলায় ৩-৪ দিন কাটাতে হয়েছিল তাঁকে। সেই খবর প্রকাশিত হয়ে হতভম্ব হয়ে যান সবাই। একজন করোনাযোদ্ধার এমন দুরবস্থা মেনে নিতে পারেননি কেউ। উত্তরবঙ্গ সংবাদে প্রকাশিত ওই খবরের জেরে টনক নড়ে স্বাস্থ্য দপ্তরের। ক্যানসার আক্রান্ত আশাকর্মী কমলাবালা মণ্ডলকে অবশেষে পিজি হাসপাতালে ভর্তি নেওয়া হয়। সেই সময় কালিয়াচক-২ ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক কৌশিক মিস্ত্রির উদ্যোগেই কমলাদেবীকে পিজি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছিল।

তাঁর চিকিৎসার খরচ জোগাতে এগিয়ে আসেন ব্লকের সমস্ত স্বাস্থ্যকর্মী। বিএমওএইচ-এর আবেদনে সাড়া দিয়ে শতাধিক স্বাস্থ্যকর্মী কমলাদেবীর চিকিৎসার জন্য সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন। কমলাদেবীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে প্রায় ৩০ হাজার টাকা পাঠানো হয়। সেই টাকাতেই চিকিৎসা চলছিল তাঁর। আশাকর্মী কমলাদেবীর ছেলে মৃণ্ময় মণ্ডল কলকাতা থেকে জানিয়েছেন, সংবাদমাধ্যমের প্রচেষ্টায় প্রথমে মাকে পিজি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সাতদিন হাসপাতালে চিকিৎসার পর মাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। যদিও তিনি তখনও সুস্থ হননি। হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়ার পরেও মায়ের শরীর ঠিক না হওয়ায় তাঁকে নিয়ে কলকাতাতেই রয়েছি। তিনি ফের অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁকে প্রতিদিন পিজি হাসপাতালের আউটডোরে দেখাচ্ছি। সেখানকার চিকিৎসাকরা মাকে ফের হাসপাতালে ভর্তি হতে বলেছেন। টিকিটেও সেকথা লিখে দিয়েছেন। কিন্তু মাকে হাসপাতালে ভর্তি নেওয়া হচ্ছে না। মাকে নিয়ে ফের হাসপাতালের বাইরে গাছতলায় দিন কাটাচ্ছি। মাকে বাঁচাতে পারব কি না জানি না।

- Advertisement -