করোনা পরিস্থিতিতে গাঁজা চাষ বাড়ছে কোচবিহার জেলায়

207

কোচবিহার :  কোচবিহার জেলার নদী তীরবর্তী চর ও প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে অবৈধ চাষাবাদের এলাকা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ বছর করোনা পরিস্থিতিতে বিভিন্ন মরশুমি ফসলে লোকসানের মুখে পড়তে হয়েছে প্রান্তিক চাষিদের। ঘুরে দাঁড়াতে ও অধিক মুনাফা লাভের আশায় গাঁজা ও পোস্তর মতো বেআইনি চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন একশ্রেণির কৃষক। অভিযোগ, সবকিছু জেনেও চুপ পুলিশ ও প্রশাসন। সর্ষের মধ্যেই ভূত থাকায় এই প্রবণতা রোধ করা যাচ্ছে না বলে স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ। উল্লেখ্য, পোস্ত বা পপি গাছের ফলের কষ থেকে আফিম তৈরি হয়।

গোটা জেলায় ছড়িয়েছিটিয়ে অবৈধ চাষাবাদ হলেও বিভিন্ন নদী তীরবর্তী এলাকাগুলিতে এই প্রবণতা তুলনামূলক বেশি। লকডাউনে চাষিদের লোকসানে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে অবৈধ চাষাবাদের এলাকা বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। এছাড়াও কোচবিহার-১ ও ২ ব্লকের তোর্ষা নদী তীরবর্তী এলাকায় গত বছরের তুলনায় অনেকটাই বেড়েছে বলে চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গিয়েছে। পুরো কাজটা দীর্ঘদিন ধরে পরিচালনা করে আসছে একটি চক্র। চক্রের পান্ডারা অবৈধ চাষাবাদের প্রতি চাষিদের উৎসাহিত করা, আগাম চাষের খরচ দিয়ে দেওয়া, তাঁদের কাছ থেকে কাঁচামাল কেনা, পুলিশকে সামলানো সবটা তারাই দেখভাল করে। শাসকদল-ঘনিষ্ঠ প্রভাবশালীদের হাত মাথার ওপর থাকায় কেউ কিছু বলার সাহস পান না। ফলে দিনকে-দিন অবৈধ চাষাবাদের এলাকা বাড়ছে।

- Advertisement -

সূত্রের খবর, প্রতি বছরের মতো এবছরও তোর্ষা নদীর চরে প্রতি বিঘা জমি পাঁচ থেকে আট হাজার টাকায় লিজ দিয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। জমির মালিকানা না থাকায় প্রশাসনের তরফে ব্যবস্থা নিতে সমস্যা হয়। কখনও কলাখেতের মাঝখানে, কখনও প্রত্যন্ত দুর্গম নদীর চরে গাঁজা, আফিমের চাষ হয়। কারবারিরা ফন্দি করে বাড়ির আনাচেকানাচে গাঁজা গাছ লাগায় চাষিদের দিয়ে পুলিশবাহিনী হানা দিলে বাড়ির আনাচেকানাচে ও ভিতরের গাছ কাটতে দিন ফুরিয়ে যায়। ফলে নদীর চরে যাওয়ার সময় হয় না পুলিশের। প্রশাসনের তরফে দু-একদিন ব্যবস্থা নেওয়া হলেও পরে আর কোনও পদক্ষেপ করা হয় না বলে অভিযোগ। কোচবিহার-২ ব্লকের মধুপুর, চাঁপাগুড়ির চর, কালপানি, ধলোগুড়ি, সুতারপাড়া, মালতীগুড়ির চর, ৪ নম্বর কালপানি ও কোচবিহার-১ ব্লকের মোয়ামারি, কোনাপাড়া, বড় আঠারোকোঠা, দামোদরপুর, যাত্রাপুর, বলদিহাটি, গাড্ডারপাড়, ফলিমারি, মাঘপালা, চান্দামারি, বৈরাতি, জয়বাংলার হাট, শীতলকুচি এবং তুফানগঞ্জ মহকুমা ও দিনহাটা মহকুমায় প্রচুর পরিমাণে অবৈধ চাষাবাদ দীর্ঘদিন ধরে চলছে বলে অভিযোগ।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গোটা জেলায় গত বছর শতশত বিঘা জমির গাঁজা ও পোস্তখেত নষ্ট করা হয়েছিল। যার বাজারদর কোটি টাকার ওপরে। বেআইনি কারবার রুখতে ধারাবাহিক অভিযান চালানো হয় বলে পুলিশের দাবি। কোচবিহারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লাল্টু হালদার বলেন, বেআইনি কারবার রুখতে পুলিশ যথেষ্ট তৎপর রয়েছে। গত বছরের মতো এবছরও গাঁজা ও পোস্তখেত নষ্ট করতে ধারাবাহিক অভিযান চালানো হবে। প্রথম থেকে কীভাবে চাষ বন্ধ করা যায় তা গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে।