শিলিগুড়ি : রাস্তার রক্ষণাবেক্ষণ করে পূর্ত দপ্তর। আর তার ডিভাইডার বানিয়ে গাছ লাগিয়ে সাজিয়ে দিয়েছিল শিলিগুড়ি জলপাইগুড়ি ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (এসজেডিএ)। তারপর থেকে অবশ্য সেই ডিভাইডার বা সেখানে লাগানো গাছের রক্ষণাবেক্ষণের আর কোনো উদ্যোগ এসজেডিএ নেয়নি। শহরের মধ্যে হলেও শিলিগুড়ি পুরনিগমও এদিকে আর তাকায়নি। সব মিলিয়ে অনাথ গাছগুলির দিকে প্রশাসনের কারও নজর দেওয়ার সময় ছিল না। বর্ষার কয়েক মাসের বৃষ্টিই গাছগুলির সারাবছরের ভরসা ছিল। চোখের সামনে এত অবহেলা দেখে আর চুপ থাকতে পারেননি অ্যাম্বুলেন্স চালক ধরমবীর সিং। শিলিগুড়ির সেবক রোডের ডিভাইডারে গাছগুলিকে রোজ বিকালে পরম মমতায় জল দিয়ে যান ধরমবীরবাবু। তাঁর উদ্যোগে ডিভাইডারের অনেক গাছ এখনও বেঁচে রয়েছে। কোথাও কোনো স্বীকৃতি না পেলেও শুধু কয়েকটি গাছ বাঁচাতে পেরেই ধরমবীরবাবু খুশি।

শিলিগুড়ির ব্যস্ত রাস্তাগুলির অন্যতম সেবক রোড। রোজ কয়েক হাজার গাড়ির ধোঁয়ায় এলাকায় দূষণের মাত্রা ভয়াবহ। দুপাশের অসংখ্য দোকান আর মার্কেট কমপ্লেক্স সেই দূষণের মাত্রা বাড়িয়েছে। এই রাস্তার উপর বা তার আশপাশের গলিতে বাড়ি থেকে বিলাসবহুল আবাসন সবই রয়েছে। এই রাস্তা সাজানোর পাশাপাশি এলাকার দূষণের কথা মাথায় রেখে বেশ কয়েক বছর আগে সেবক রোডে ডিভাইডার তৈরি করে গাছ বসিয়েছিল এসজেডিএ। কিন্তু গাছ রক্ষণাবেক্ষণে তাদের কোনো মাথাব্যথা ছিল না। উপেক্ষা আর অবহেলায় তিলতিল করে মারা যাচ্ছিল গাছগুলি। শিলিগুড়ির ১০ নম্বর ওয়ার্ডের মহাকালপল্লির বাসিন্দা বছর ৪৫-এর ধরমবীর সিং আর পাঁচজনের মতো দেখে গাড়ি চালিয়ে চলে যেতে পারেননি। সারাদিনের হাড়ভাঙা খাটুনির পরও তিনি রোজ বিকেলে নিয়ম করে জল দিয়ে যান গাছগুলিতে। ধরমবীরবাবু বলেন, দীর্ঘদিন থেকে গাছগুলিতে জল দিয়ে আসছি। কে বা কারা গাছগুলি লাগিয়েছে তা সঠিক জানি না। কিন্তু গাছগুলি পরিচর্যার অভাবে মরে যাচ্ছিল। শহর শিলিগুড়িজুড়ে দূষণ বেড়েই চলেছে। তাই গাছ লাগিয়ে ও তার পরিচর্যা করে পরিবেশরক্ষা করা বিশেষভাবে জরুরি। তিনি আরও বলেন, সারাদিন গাড়ির গরম কালো ধোঁয়া গাছগুলিকে সহ্য করতে হয়। তার ওপর পথচলতি লোকজনের একাংশ  ছোটো গাছগুলির ওপর পান ও গুটখার পিক ফেলে চলে যায়। এসব দেখে খুবই খারাপ লাগে। আমি সব গাছে জল দিতে পারি না। সকলে যদি গাছগুলিতে অল্প করেও জল দেয় তাহলে পরিবেশরক্ষা করা যাবে।

সেবক মোড় থেকে পানিট্যাঙ্কি মোড় পর্যন্ত রাস্তার ডিভাইডারের মাঝে লাগানো গাছগুলিতে রোজ জল দেন ধরমবীরবাবু। বালতিতে জল ভরে মগে করে জল দেন তিনি। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা সকলেই তাঁকে চেনেন শ্যামসুন্দর যাদব নামে এক ব্যবসায়ী বলেন, ধরমবীর সিং যেভাবে গাছগুলি পরিচর্যা করছেন তা সত্যিই প্রশংসার যোগ্য। দীর্ঘদিন থেকে দেখে আসছি তিনি রোজ বিকালে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে গাছে জল দিচ্ছেন। এয়ারভিউ মোড়ের কাছ থেকে হিলকার্ট রোডের ডিভাইডারের মাঝে গাছ লাগিয়ে খুব সুন্দরভাবে সেগুলি রক্ষণাবেক্ষণ করা হচ্ছে। লোহার জালি দিয়ে ঘিরে গাছগুলি রক্ষা করা হচ্ছে। গাছগুলি অনেক বড়ো হয়েছে। দেখতেও ভালো লাগছে। সেবক রোডে একইভাবে গাছগুলি রক্ষণাবেক্ষণ করা প্রযোজন। এসজেডিএ-র কার্যনির্বাহী আধিকারিক এস পন্নমবলম বলেন, রাস্তাটি পূর্ত দপ্তরের। শিলিগুড়িতে হিলকার্ট রোডে লাগানো গাছগুলি রক্ষণাবেক্ষণ করা হচ্ছে। তবে সেবক রোডের গাছগুলি নিয়ে এখনই এমন কোনো পরিকল্পনা নেই।