জেলা গ্রন্থাগারে কেরিয়ার গাইডেন্স বন্ধ, সমস্যায় চাকরি প্রার্থীরা

287

দীপঙ্কর মিত্র, রায়গঞ্জ: শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা প্রতিদিন বাড়ছে। সরকারি চাকরির ক্ষেত্র ক্রমশ সীমাবদ্ধ হচ্ছে। সেভাবে বেসরকারি শিল্প কলকারখানা গড়ে না ওঠায় সরকারি চাকরির চাহিদা আকাশচুম্বী।

শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতীদের কথা মাথায় রেখে রায়গঞ্জের কর্ণজোড়ায় রাষ্ট্রীয় জেলা গ্রন্থাগার সহ টাউন ও মহকুমা গ্রন্থাগার কর্তৃপক্ষ গড়ে তোলে ক্যারিয়ার গাইডেন্স। গত মার্চ মাস থেকে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রুখতে রাষ্ট্রীয় জেলা গ্রন্থাগার সহ অন্যান্য সমস্ত গ্রন্থাগার বন্ধ থাকায় সরকারি চাকরি পরীক্ষার কেরিয়ার কাউন্সিলিং ও গাইডেন্স বন্ধ হয়ে রয়েছে। ফলে সমস্যায় পড়েছেন গ্রন্থাগারের পাঠক চাকরি প্রার্থীরা।

- Advertisement -

উত্তর দিনাজপুর জেলার একমাত্র সরকারি গ্রন্থাগারটি রায়গঞ্জ শহর থেকে ৫ কিলোমিটার দূরে কর্ণজোড়ায় অবস্থিত। এই রাষ্ট্রীয় জেলা গ্রন্থাগারেই দোতলার একটি ঘরে দু’বছর আগে চালু হয় ক্যারিয়ার গাইডেন্স। মার্চ মাস থেকে কেরিয়ার গাইডন্স বন্ধ থাকায় হতাশা তৈরি হয়েছে চাকরি প্রার্থীদের মধ্যে। কারণ এই ক্যারিয়ার গাইডেন্সে সম্পূন্ন বিনামূল্যে বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক চাকরি পরীক্ষায় কোচিং নিয়েছেন অনেকে। সাফল্য পেয়েছেন বহু চাকরি প্রার্থীরা। ডব্লিউবিসিএস অফিসার, ক্লার্ক, জেলা পুলিশ সহ অন্যান্য পদে কর্মরত রয়েছেন প্রায় ২৫ জন।

করোনার কারণে গ্রন্থাগারে পাঠক ও চাকরি প্রার্থীদের আনাগোনায় রয়েছে নিষেধাজ্ঞা। কবে খুলবে গ্রন্থাগার, কবে চালু হবে কেরিয়ার গাইডেন্স তা নিয়ে চিন্তিত চাকরি প্রার্থীরা। কর্ণজোড়ায় রাষ্ট্রীয় জেলা গ্রন্থাগারের যাঁরা নিয়মিত পাঠক, কেরিয়ার গাইডেন্সে চাকরি পরীক্ষার জন্য কোচিং নিতেন তাঁরা প্রায়দিন গ্রন্থাগারে আসছেন, কোচিং শুরু না হওয়ায় ফিরে যাচ্ছেন। খোকসা গ্রামের বাসিন্দা তপন বর্মন, বয়স প্রায় ২৩ বছর। রাষ্ট্রীয় জেলা গ্রন্থাগারের পাঠক, অন্যদিকে এখানকার কেরিয়ার গাইডেন্সের ছাত্র। সরকারি ক্লার্কশিপ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন তিনি। প্রায় প্রতিদিনই দুপুর ২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত গ্রন্থাগার ব্যবহার করতেন। পাশাপাশি কেরিয়ার গাইডেন্সে কোচিং নিতেন তিনি। গ্রন্থাগার বন্ধ থাকায় তিনি সমস্যায় পড়েছেন। তানা জানান, সরকারি চাকরির জন্য এখানে এসে পড়াশোনা করতাম এবং কোচিং নিতাম। লকডাউনে সব বন্ধ হয়ে গিয়েছে। আনলকে প্রায় সবকিছু খুলে গেলেও গ্রন্থাগার খোলেনি। প্রায়ই খোঁজ নিয়েও হতাশ হয়ে ফিরে যেতে হয় তাঁকে।

হেমতাবাদের বাসিন্দা মৃন্ময় বসাক। জেলা গ্রন্থাগারের পাঠক, অন্যদিকে কেরিয়ার গাইডেন্সে কোচিং নেন। তাঁর লক্ষ্য ওয়েষ্ট বেঙ্গল সিভিল সার্ভিস। তিনি জানান, চাকরি পরীক্ষার বিভিন্ন বই ও পত্রিকার দাম বেড়েছে অনেক। তাই তিনি নিয়মিত এই গ্রন্থাগারে বই ও পত্রিকা পড়েন। কেরিয়ার গাইডেন্সে কোচিং নিতেন। বিভিন্ন দপ্তরের আধিকারিকেরা এখানে কোচিং দিতেন। কিন্ত প্রায় আট মাস গ্রন্থাগার বন্ধ থাকায়, চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতিতে বাঁধা এসে দাঁড়িয়েছে। তাই তাঁদের দিকে লক্ষ্য রেখে গ্রন্থাগার চালু করা দরকার বলে মনে করেন তিনি।

রায়গঞ্জের কর্ণজোড়ায় অবস্থিত রাষ্ট্রীয় জেলা গ্রন্থাগারের কেরিয়ার গাইডেন্সটি চালুর দাবিতে সরব হয়েছেন চাকরি প্রার্থীরা। এই বিষয়ে রাষ্ট্রীয় গ্রন্থাগারের জেলা গ্রন্থাগারিক বৃন্দাবন কর্মকার জানান, লকডাউনের আগে এখানে নিয়মিত আইএএস, আইপিএস, ডব্লিউবিসিএস অফিসারেরা কেরিয়ার গাইডেন্সের ক্লাস নিতেন। এখান থেকে বহু বেকার ছেলে বিভিন্ন দপ্তরে চাকরি পেয়ে জীবনে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। লকডাউন ঘোষণা হওয়ার পর থেকে গ্রন্থাগার বন্ধ। তবে সরকারি নির্দেশিকা মেনে সপ্তাহে দুই দিন করে গ্রন্থাগারে এসে জীবাণুনাশক স্প্রে করা হয়। তিনি জানান, সরকারি নির্দেশ আসলেই গ্রন্থাগারের পরিষেবা সহ কেরিয়ার গাইডেন্সে আবার কোচিং শুরু হবে।