সরকারি সাহায্যের আশায় দিন গুনছেন কার্পেট শিল্পীরা

দীপঙ্কর মিত্র, কালিয়াগঞ্জ : করোনার ভয়াবহ রূপে কার্যত দিশাহীন হয়ে পড়েছে প্রায় গোটা বিশ্ব। স্বাভাবিকভাবেই রোজকার জীবনয়াত্রা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি এর প্রভাব পড়েছে ক্ষুদ্র এমনকি বৃহৎ শিল্পেও। বেশিরভাগ জায়গাতেই অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে গিয়েছে উৎপাদন। আর সেই তালিকা থেকে বাদ যায়নি কালিয়াগঞ্জের ১০ নম্বর মালগাঁও পঞ্চায়েতের বিখ্যাত কার্পেট শিল্পও।

২০০৯ সালে এখানে প্রতিষ্ঠা হয় মালগাঁও হ্যান্ডলুম ক্লাস্টার ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি। ২০ থেকে ২৫ টি ইউনিটে কাজ হয় এখানে। প্রতি ইউনিটে সেল্ফ হেল্ফ গ্রুপের ২২ জন করে সদস্যরা কাজ করেন। সময়ে সঙ্গে সঙ্গে সাফল্যের মুখ দেখতে শুরু করে এই সোসাইটির তৈরি কার্পেট। এরপরই ২০১৯ সালে মালগাঁও কুনোর মেঘা ওয়েভার কোঅপারেটিভ সোসাইটির ১০২ জন সদস্য মিলে এই কর্মযজ্ঞ শুরু করে। বর্তমানে মোটামুটি ৬০০ জন  এই সোসাইটির সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত। তার মধ্যে রয়েছেন ২৫০ জন মহিলা। কিন্তু লকডাউনের ফলে আচমকা কাঁচামাল আমদানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সম্পূর্ণভাবে ঝাঁপ পড়ে যায় এখানকার কার্পেট উৎপাদন কেন্দ্রে। এখানকার তৈরি কার্পেট শুধুমাত্র এলাহাবাদ, বেনারস, মির্জাপুর, ভদই (উত্তরপ্রদেশ)-এর মতো ভিনরাজ্যেই নয়, বরং তা সরবরাহ করা হয়ে থাকে জার্মানি, ইংল্যান্ড, ফ্রান্স সহ বাইরের একাধিক দেশেও।

- Advertisement -

কোঅপারেটিভের সম্পাদক তাহের আলি জানান, প্রায় দেড় মাস হল কাজ বন্ধ রয়েছে। এতে আমরা যেমন সমস্যায় পড়েছি, তেমনই সমস্যায় পড়েছেন কারিগরেরাও। সরকারি সাহায্য না পেলে কারিগরেরা বিপদে পড়বেন। এমনিতেই কাজ হারিয়ে চিন্তায় রাতের ঘুম উড়েছে নজরুল ইসলাম, আবদুল হাফিক, রণজিৎ দেবশর্মা, বিলাসী দেবশর্মা, তৈদুল ইসলাম, সাবেরুল হক সহ  প্রায় ৬০০ কারিগরের। এবিষয়ে নজরুল ইসলাম বলেন, কাজ বন্ধ থাকায় আমাদের রুজি রোজগারে টান পড়েছে। সরকার যদি পাশে না দাঁড়ায় আমরা বিপদে পড়ব। রণজিৎ দেবশর্মা বলেন, কবে আবার কাজ শুরু হবে জানি না। আগামীদিনে এই শিল্পের অবস্থা কী হবে সেটাও বুঝতে পারছি না। তাই এখন সরকারি সাহায্য প্রয়োজন। সাবেরুল হক বলেন, কার্পেটের চাহিদা হলেই কাজ শুরু করা য়াবে। কিন্তু সেই চাহিদা কবে হবে তা কেউই জানে না। কাজ না পেলে আমাদের না খেয়ে মরতে হবে।

এখনও উত্তরপ্রদেশে আটকে রয়েছেন এই গ্রামের নৈমুল হক, মোজাইদুল ইসলাম সহ আরও অনেকে। তাঁরা সকলেই উত্তরপ্রদেশে কার্পেট বিক্রি করতে গিয়েছিলেন। কিন্তু লকডাউন শুরু হওয়ায় ও তা চলতে থাকায় তাঁরা সেখানেই আটকে পড়েছেন। জেলা পরিষদের সভাধিপতি কবিতা বর্মন বলেন, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি। স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত ও পঞ্চায়েত সমিতির কর্তাদের সঙ্গে কথা বলব।