শিলিগুড়ি কমিশনারেটে পুলিশের গাড়ির ফিটনেস সার্টিফিকেট নেই

241

রাহুল মজুমদার, শিলিগুড়ি : শিলিগুড়িতে দূষণ রুখতে ডিজেলচালিত পুরোনো সিটি অটো বদলে চার চাকার বিএস ৪ ম্যাক্সিক্যাব এনেছে রাজ্য পরিবহণ দপ্তর। কিন্তু শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটান পুলিশের টহলদারি ভ্যানগুলি নিয়ে এবার প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। পরিবহণ দপ্তর সূত্রে খবর, শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটান পুলিশের অধিকাংশ টহলদারি ভ্যান, প্রিজনার ভ্যানেরই ফিটনেস সার্টিফিকেট নেই। অধিকাংশ গাড়ির বিমা বা পলিউশন সার্টিফিকেট নেই। ফলে কোনোরকম দুর্ঘটনা ঘটলে পুলিশকর্মী বা বিচারাধীন বন্দিরা কেউই বিমার টাকা পাবেন না। এছাড়া দুর্ঘটনা ঘটলে তার দায় কে নেবে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

শহরের পরিধি বাড়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে অপরাধের সংখ্যা বাড়ছে। অপরাধদমনের জন্যে শহরের এপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্ত শিলিগুড়ি কমিশনারেটের পুলিশকে ছুটে বেড়াতে হয়। ৬৪০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় আটটি থানা এবং ছয়টি ফাঁড়ি মিলিয়ে ২৫টি ভ্যান দিনরাত শহরে টহল দেয়। কিন্তু এগুলির মধ্যে অধিকাংশ গাড়িই ফিটনেস, বিমা, পলিউশন সার্টিফিকেট ছাড়াই শহরের এপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্ত ছুটে বেড়াচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী, কোনো গাড়ি দুর্ঘটনার কবলে পড়লে বিমা সংস্থা থেকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়। কিন্তু বিমা না থাকলে সেক্ষেত্রে কোনো ক্ষতিপূরণ মেলে না। অপরদিকে, গাড়ির ফিটনেস না থাকলে নিয়ম অনুযায়ী তা রাস্তায় চলতে পারে না। কিন্তু শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটান পুলিশের অধিকাংশ গাড়ির ফিটনেস না থাকলেও রাস্তায় অবাধে চলছে। এমনকি পুলিশের গাড়ির সমস্যা থাকায় শহরের বিভিন্ন থানায় অধিকাংশ সময় বাজেয়াপ্ত করা গাড়ি দিয়ে কাজ চালাতে হয়। ফলে ওই গাড়িগুলিতে কোনোরকম বিমা বা ফিটনেস সার্টিফিকেট পাওয়া সম্ভব নয়। অপরদিকে, গাড়িগুলির অধিকাংশই বিএস ২ মডেলের হওয়ায় দূষণও বাড়ছে শহরে।

শুধু তাই নয় গাড়িগুলি বিভিন্ন সময়ে রাস্তায় চলতে চলতে থেমে যাচ্ছে। দিনকয়েক আগে প্রধাননগর থানার একটি টহলদারি ভ্যানের এই অবস্থা হয়। পুলিশকর্মীরা ধাক্কা দিয়ে গাড়ি চালু করেন। কিন্তু এই বিষয়ে পুলিশ বা পরিবহণ দপ্তরের কোনো নজর নেই। প্রশ্ন উঠছে, শহরে দূষণ রুখতে গাড়ির পলিউশন সার্টিফিকেট থাকা বাধ্যতামূলক হলে পুলিশের গাড়ি ছাড় পায় কেন? পুলিশের গাড়িতে দুর্ঘটনা ঘটলে পুলিশকর্মীরা বিমার টাকা পাবেন কী? এসব প্রশ্নের উত্তর পুলিশ বা পরিবহণ দপ্তরের কর্তারা দেননি। শিলিগুড়ির অতিরিক্ত পরিবহণ অধিকর্তার কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। জেলা পরিবহণ অধিকর্তা নবীন অধিকারীকে ফোন, এসএমএস করলেও তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। কমিশনারেটের কোনো পুলিশকর্তাও কোনো জবাব দেননি। তবে বিভিন্ন থানার পুলিশকর্মীরা জানিয়েছেন, প্রাণ হাতে নিয়ে তাঁদের শহরে টহল দিতে হয়। গাড়িগুলির যা পরিস্থিতি তাতে যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতেই পারে।