টোল ফাঁকি দিতে গ্রামের রাস্তায় গাড়ি, ক্ষোভ বাসিন্দাদের

134

রাঙ্গালিবাজনা: লক্ষ লক্ষ টাকা দিয়ে বিলাসবহুল গাড়ি কিনলেও এশিয়ান হাইওয়ে দিয়ে চলাচলের সময় টোল ট্যাক্স দিতে রাজি নন অনেকেই। টোল ট্যাক্স ফাঁকি দিতে তাই আলিপুরদুয়ার জেলার মাদারিহাটের রাঙ্গালিবাজনার টোল গেট এড়িয়ে ছেকামারির কাঁচা রাস্তা হয়ে চলাচল করছে শ’য়ে শ’য়ে ছোট গাড়ি। স্বাভাবিকভাবেই, পথচারীদের চলাচলের পক্ষে সম্পূর্ণভাবে অনুপযোগী হয়ে পড়েছে রাস্তাটি। এভাবে টোল ট্যাক্স ফাঁকি দেওয়া নিয়ে একদিকে প্রশাসনের নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

অন্যদিকে, রাস্তাটির বেহাল দশা নিয়ে এলাকার জনপ্রতিনিধিরা সম্পূর্ণ উদাসীন বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের। আলিপুরদুয়ার জেলা পরিষদের স্থানীয় সদস্য আশা নার্জিনারী অবশ্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব রাস্তাটি পাকা করার ব্যাপারে পদক্ষেপ করার আশ্বাস দিয়েছেন। কিন্তু গোটা বর্ষাকালে ওই রাস্তা দিয়ে দু’টি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ কীভাবে চলাচল করবেন, সেই ব্যাখ্যা তাঁর কাছে মেলেনি।

- Advertisement -

ছেকামারি ও পশ্চিম খয়েরবাড়ির মধ্যে সংযোগ রক্ষাকারী ওই দেড় কিমি দীর্ঘ রাস্তাটি নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে দীর্ঘদিন ধরেই। প্রথমত, ওই রাস্তাটি কংক্রিটের ঢালাই দিয়ে তৈরি করার জন্য অর্থ বরাদ্দ করা হলেও অর্ধেক কাজ হয়েছে। বাকি অংশ গত তিন বছর ধরে কাঁচাই রয়ে গিয়েছে। এলাকার বাসিন্দারা জানান, ২০১৮ সালে ১৬০০ মিটার দীর্ঘ রাস্তাটির মাঝের ৯০০ মিটার অংশ কংক্রিট দিয়ে ঢালাই করা হলেও রাস্তার দু’টি মুখের একদিকে ৪০০ মিটার ও ৩০০ মিটার রাস্তা কাঁচাই রয়ে গিয়েছে। এদিকে লাগাতার বৃষ্টি হচ্ছে। তার ওপর টোল ট্যাক্স ফাঁকি দিতে ওই রাস্তা দিয়ে চলাচল করছে শ’য়ে শ’য়ে গাড়ি। অনেক সময় বালি বজরি বোঝাই ডাম্পারগুলিও ওই রাস্তা দিয়ে চলাচল করছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। ওই রাস্তাটির কাঁচা অংশগুলির বর্তমানে এমনই বেহাল দশা যে পায়ে হেঁটে চলতে গেলেও চটি খুলে হাতে নিতে হচ্ছে। সবচেয়ে সমস্যায় পড়েছেন টোটোরিক্সা ও মোটরবাইক চালকরা। বেহাল রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে নাজেহাল হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।

জেলা পরিষদের স্থানীয় সদস্য আশা নার্জিনারী জানান, রাস্তাটি কংক্রিটের ঢালাই দিয়ে তৈরি করার আগে মাপজোকে ভুল হয়েছিল। তাঁর ব্যাখ্যা, রাস্তাটির দু’টি অংশ দুই পঞ্চায়েতের এলাকায় পড়েছে। তাই কোনদিক থেকে কাজ শুরু হবে তা নিয়ে দড়ি টানাটানি শুরু হয়েছিল। বিবাদ এড়াতে রাস্তার মাঝের অংশটুকু পাকা করা হয়েছে। তবে, আশাদেবীর ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন দুই গ্রামের ভুক্তভোগী বাসিন্দারা। তাঁদের প্রশ্ন, তবে কি গোটা রাস্তা নয়, রাস্তার একটি অংশ কংক্রিট দিয়ে ঢালাই করার জন্য টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল, নাকি পুরো অংশটির জন্য বরাদ্দ করা হয়েছিল? প্রসঙ্গত, প্রায় ১০ লক্ষ টাকা খরচ করা হয়েছে ওই ৯০০ মিটার অংশটি কংক্রিট দিয়ে ঢালাই করার জন্য।