পুজো কমিটিকে ৫০ হাজার অনুদান, হাইকোর্টের একগুচ্ছ প্রশ্নে অস্বস্তিতে রাজ্য সরকার

0
1027
- Advertisement -

কলকাতা: গত বছর রাজ্যের তরফে প্রতিটি কমিটিকে ২৫ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়া হয়েছিল। এবার টাকার টাকার অঙ্ক দ্বিগুণ করে ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হচ্ছে। শুধু তাই নয়, এ বছর বিদ্যুতের খরচে প্রতিটি পুজো কমিটি ৫০ শতাংশ ছাড় পাবে। সিইএসসি এবং রাজ্য বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থা-উভয়ই এই ছাড় দেবে বলেও ঘোষণা করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সরকারের এই সিদ্ধান্ত নিয়েই হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করছিলেন সিটু নেতা সৌরভ দত্ত।

সেই মামলার প্রেক্ষিতেই হাইকোর্টের কড়া প্রশ্নের মুখে পড়তে হল রাজ্য সরকারকে। বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের বিচারপতি সঞ্জীব বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের উদ্দেশে প্রশ্ন করেন, ‘অনুদান কি শুধু দুর্গাপুজোতেই দেয় সরকার? না কি অন্য উৎসবেও দেওয়া হয়? ঈদেও কি দেওয়া হয়েছিল?’ সিটু নেতা পুজো কমিটিগুলিকে ৫০ হাজার টাকা অনুদানের পাশাপাশি পুরোহিতদের ভাতা নিয়েও কলকাতা হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছিলেন।

বৃহস্পতিবার সেই মামলার শুনানিতে পর্যবেক্ষণ করে হাইকোর্ট প্রশ্ন তোলে, ‘দুর্গাপুজো নিয়ে আমরা সকলেই গর্বিত। কিন্তু তাই বলে কি যেমন খুশি টাকা দেওয়া যায়? গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় কি এই ভেদাভেদ করা যায়?’ সেই প্রশ্নের উত্তরে রাজ্যের তরফে বলা হয়, করোনা মহামারীর কারণে পুজো কমিটিগুলিকে এই টাকা মাস্ক, স্যানিটাইজার কিনতে দেওয়া হচ্ছে। সেই জবাবের প্রেক্ষিতেও বিচারপতি বলেন, ‘আপনারা (সরকার )বলছেন যে এই টাকা দেওয়া হচ্ছে মাস্ক-স্যানিটাইজার কেনার জন্য। কিন্তু এটা তো সরকার নিজেই কেন্দ্রীয়ভাবে কিনে করতে পারত। তাতে খরচ কম হত।’

একই সঙ্গে করোনা-কালে সরকারি তরফে দেদার সর্বজনীন পুজোর অনুমতি দেওয়া নিয়েও এদিন আদালত প্রশ্ন তুলেছে। বিচারপতি প্রশ্ন করেন, ‘যেখানে সংক্রমণের জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এখনও বন্ধ সেখানে পুজোর অনুমতি কিভাবে দিলেন? আপনারাক কী-কী সুরক্ষা বিধি মেনে চলছেন। ভিড় নিয়ন্ত্রণের ব্লু-প্রিন্ট কী? আর সব কাজ পুলিশ করলে ক্লাবকে টাকা দেওয়ার কী যুক্তি?’

এদিনের শুনানিতে আদালতের প্রশ্নে অস্বস্তি বেড়েছে শাসক দলের মধ্যে। যদিও তৃণমূল মহাসচিব তথা রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘এটা বিচারাধীন বিষয় তাই এই নিয়ে কোনও মন্তব্য করব না। দুর্গাপুজো শুধু বাঙালির উৎসব নয়, জাতীয় উৎসব। সমস্ত স্বাস্থ্য বিধি মেনেই দুর্গাপুজো হবে। এই বিষয়ে সরকার সচেতন রয়েছে। ক্লাবগুলো সচেতন রয়েছে। তাঁরা পুজো করছে তাঁরা সচেতন রয়েছে। পুজোয় যাতে সংক্রমণ না ছড়ায়, তার জন্যে পুলিশ, স্বাস্থ্য দফতর, নবান্ন সজাগ রয়েছে। উৎসব চলবে। করোনাও থাকবে। সচেতনতার মধ্যে দিয়েই পুজো হবে।’

- Advertisement -