ধূপগুড়িতে অনলাইন ক্যাসিনোর রমরমা

326

ধূপগুড়ি : উইক এন্ডে জুয়া খেলতে নেপাল বা সিকিম যাওয়ার দিন শেষ। ধূপগুড়িতে এখন হরেক অ্যাপনির্ভর অনলাইন ক্যাসিনোর রমরমা। কেউ কেউ অনলাইন পোর্টালে, আবার কেউ কেউ রীতিমতো অ্যাপ বানিয়ে এজেন্ট নিযোগ করে বাজারে অনলাইন ক্যাসিনোর খেলা ছড়িয়ে দিচ্ছে। যে সংস্থাগুলি এই অনলাইন ক্যাসিনো চালাচ্ছে, তারা ডিলার নিযোগ করছে। এজেন্টরা যোগাযোগ করছেন ক্যাসিনোপ্রেমীদের সঙ্গে। নগদ জমা নিয়ে ক্যাসিনো অ্যাকাউন্ট খুলে দেওয়া হচ্ছে। এরপর নির্দিষ্ট ইউজার আইডি আর পাসওযার্ড দিযে নিজের ক্যাসিনো অ্যাকাউন্টে ঢুকে খেলা যাচ্ছে। এজেন্টের কাছে যত নগদ জমা হচ্ছে সেই হিসেবেই ডিলার কয়েন দিয়ে দিচ্ছে। সেই কয়েন ভাঙিয়ে মুঠোফোনে অনলাইন ক্যাসিনো খেলা যাচ্ছে। রোলেট, বখরার মতো জনপ্রিয ক্যাসিনো গেমগুলোর পাশাপাশি কিছু অ্যাপে থাকছে মিনি ফ্ল্যাশ, কিটি, লাকি সেভেনের মতো গেমও। অনলাইনে ক্যাসিনোকে জনপ্রিয় করতে এখানে কোনও লিমিট বা বাধা নেই। ফলে ভিনরাজ্য বা ভিনদেশে পাড়ি না দিযে অনেকেই এখন এই অনলাইন ক্যাসিনোয় ঝুঁকছেন। হেরে অ্যাকাউন্ট ওয়ালেটে কয়েন বা পয়েন্ট শেষ হয়ে গেলে প্রায় চব্বিশ ঘণ্টা পরিষেবা দিচ্ছে এজেন্টরা। এক কলেই মিলে যাচ্ছে কয়েন। আর যদি ওয়ালেটে জেতার কয়েন জমা হয়, তাও এক ফোনেই এজেন্টরা নগদে বদলে দিচ্ছে। ওয়ালেটের পয়েন্ট ভাঙাতে চাইলে এজেন্ট নগদ পৌঁছে দিচ্ছে আর ডিলার ওয়ালেট থেকে পয়েন্ট কেটে নিচ্ছে। চুপিসারে মোবাইল ফোনে এই পরিষেবা দেওয়ার জন্য গেম প্রতি দুশো টাকা এজেন্ট কমিশন নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া যদি কেউ জেতে তবে জেতা টাকার এক থেকে দুই শতাংশ কেটে নিচ্ছে অনলাইন সংস্থা।

দীর্ঘদিন নেপালের ক্যাসিনোর এজেন্ট হিসেবে কাজ করা এক গাড়ির চালক বলেন, ‘আগে আমরা নিয়মিত কাস্টমার নিয়ে যেতাম নেপালে। সেজন্য আমাদের কমিশনও থাকত। তাছাড়া যে সময় ওখানে থাকতাম সেসময় থাকা-খাওয়া মনোরঞ্জনের ব্যবস্থাও করত ক্যাসিনোর লোকেরা। তবে ইদানীং অনেকেই আর অতদূর যান না।’ আগে নেপালে গেলেও এখন মোবাইল অ্যাপে ক্যসিনোয় আসক্ত এক ব্যবসাযী বলেন, ‘নেপাল বা সিকিমের ক্যাসিনো থেকে মোবাইলেই ভালো। কেউ জানল না, বাড়িতে বা দোকানে বসেও খেলা যায়। আর নগদে টাকা পেতেও কোনও সমস্যা নেই। তাছাড়া ওখানে গেলে মোটা নগদ নিয়ে যেতে হত। সঙ্গে নেশা ও অন্যান্য জিনিসেও খরচ হত। এখন ঘরে বসেই নেশা ছাড়া খেলি।’ তবে পুরো ব্যাপারটাই যে বেআইনি তা স্বীকার করে নিয়েছে এর সঙ্গে যুক্ত সকলেই। চুপিসারে বেড়ে চলা এই জুয়ার রমরমা ঠেকাতে কিছু সমস্যা রয়েছে বলে জানান পুলিশ কর্তারা। জেলা পুলিশের এক কর্তা বলেন, ‘জুয়াবিরোধী আইনে এটা বড় অপরাধ, এ কথা ঠিক। তবে কে কোথায বসে নিজের মোবাইলে ক্যাসিনো গেম খেলছে তা বোঝা দায়। তাছাড়া হাতেনাতে ধরা গেলেও সেখানে টাকার কোনও উল্লেখ থাকে না। ফলে এটা প্রমাণ করাও শক্ত যে ওটা জুয়া খেলা। তাছাড়া বিষয়টি সাইবার ক্রাইমে পড়ে কিনা, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। তবে সুনির্দিষ্টভাবে কোনও লিখিত অভিযোগ পেলে আমরা অবশ্যই পদক্ষেপ করব।’

- Advertisement -

তথ্য – সপ্তর্ষি সরকার