বন দপ্তরের হাতে ধরা দিল না চিতা, বাঘ ধরতে বসানো হল খাঁচা

207

ফাঁসিদেওয়া, ৩০ ডিসেম্বরঃ চা বাগানে পাতা তুলতে গিয়ে আচমকা চিতার হানায় কিশোরী গুরুতর জখম হওয়ার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়াল। বুধবার ফাঁসিদেওয়া ব্লকের বিধাননগরের কাজিগজ এলাকায় ঘটনাটি ঘটেছে বলে জানা গিয়েছে। স্থানীয় সূত্রের খবর, এদিন ১৫ বছর বয়সি মিনতি পাহান নামে এক কিশোরী বটলিফ চা বাগানে পাতা তুলতে গিয়েছিল। এরপর আচমকাই তাঁর ওপর একটি চিতাবাঘ হামলা চালায়। ঘটনায় এলাকায় ব্যপক চাঞ্চল্য ছাড়িয়ে পড়ে। অন্যদিকে, জখম কিশোরীকে উদ্ধার করে বিধাননগর প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। বিধাননগর তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বন দপ্তরকে বিষয়টি জানায়। ঘটনার পর চা বাগান এবং আনারস বাগান ঘেরা ওই গ্রামে কৃষকরা আতঙ্কে রয়েছেন।

খবর পেয়ে ঘোষপুকুরের রেঞ্জার সোনম ভুটিয়া এবং বাগডোগরার রেঞ্জার সমীরণ রাজ ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে, চিতাবাঘ ধরতে সংশ্লিষ্ট চা বাগানে জাল দিয়ে ঘিরে দেওয়া হয়। সুকনা রেঞ্জের বন কর্মীরা ঘটনাস্থলে আসেন। পরে, কার্শিয়াং বন দপ্তরের এডিএফও চিন্ময় বর্মন, মহানন্দা ওয়াইল্ড লাইফের এডাবলিউএলডাবলিউ বিমল দেবনাথ ঘটনাস্থলে আসেন। তবে, শেষ পর্যন্ত অন্ধকার নেমে আসায় বাঘটিকে ট্রাঙ্কুইলাইজ করা যায়নি। বিহার সীমান্ত লাগোয়া ওই গ্রামের আতঙ্কিত বাসিন্দারা চিতাবাঘটিকে ধরার দাবি তুলেছিলেন। এদিনই রাতে চা বাগানে চিতাবাঘ ধরতে খাঁচা বসানো হয়েছে বলে বন দপ্তরের আধিকারিকরা জানিয়েছেন।

- Advertisement -

এদিন ঘটনার পর থেকেই এলাকার বাসিন্দারা আতঙ্কে ঘরের বাইরে বেরিয়ে আসেন। স্থানীয় সূত্রের খবর, ওই এলাকায় এর আগে চিতা বেরোনোর ঘটনা ঘটেনি। এদিন ওই কিশোরীর ওপর বাঘের হামলায় গোটা গ্রামের লোক লাঠিসোটা হাতে বাইরে বেরিয়ে আসেন। খবর পেয়ে বনকর্মীরা ওই ছোট চা বাগানের একাংশ জাল দিয়ে ঘিরে ফেলেন। স্থানীয়দের ভিড়ের কারণে সমস্যা হওয়ায় বিকেল নাগাদ এলাকায় প্রোটোকল মেনে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছিল বলে বন দপ্তর জানিয়েছে। প্রথমে, ট্রাঙ্কুইলাইজার বন্দুক ব্যবহার করে বাঘটিকে ঘুম পাড়ানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছিল। তবে, বিকেল গড়াতেই ঘুমপাড়ানি গুলি ব্যবহার করা সম্ভব হয়নি বলে বনদপ্তর সূত্রের খবর।

এদিন দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা প্রায় ৭টা পর্যন্ত ঘটনাস্থলে প্রচুর বনকর্মীরা চিতা ধরার সবরকম প্রচেষ্টা চালান। তবে, শেষ পর্যন্ত বাঘটিকে ধরা সম্ভব হয়নি। সেই কারণে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যপক ক্ষোভ দেখা দেয়। তাঁরা বাঘটিকে ধরার দাবি করতে থাকেন। এমনকি স্থানীয় বাসিন্দা সুনিরাম মূর্মূ সহ একাধিক গ্রামবাসী জানিয়েছেন, বাঘ না ধরা পর্যন্ত তাঁরা ওই এলাকাতেই থাকবেন এবং বনকর্মীদেরও সেখানেই থাকতে হবে। তাঁদের দাবি, বাঘটি চা বাগানেই লুকিয়ে রয়েছে। পরে, অবস্থা বেগতিক বুঝে বনদপ্তরের কর্মীরা ছাগল টোপ দিয়ে খাঁচা বসান। যদিও, বন কর্মীরা জাল, ট্রাঙ্কুলাইজার গান এবং খাঁচা সব আগে থেকেই আনিয়েছিলেন। এদিন রাত পর্যন্ত ওই গ্রামে বনকর্মীরা টহল দিচ্ছেন। রাতে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়েছিলেন শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের সদ্য প্রাক্তন বিরোধী দলনেতা কাজল ঘোষ।

কার্শিয়াং বনবিভাগের এডিএফও চিন্ময় বর্মন জানিয়েছেন, সন্ধ্যা নেমে যাওয়ার কারণে চিতার গতিবিধি বোঝা সম্ভব হয়ে ওঠেনি। তাই, প্রযুক্তিগত কারণে ঘুমপাড়ানি গুলি ব্যবহার করা সম্ভব হয়নি। স্থানীয়দের দাবি মত গ্রামে খাঁচা বসানো হয়েছে। চিতাবাঘ এলাকায় থাকলে খাঁচায় ধরা পড়বেই। রাতে এবং বৃহস্পতিবার ভোর নাগাদ ওই গ্রামে বনকর্মীদের কড়া প্রহাড়া থাকবে। বৃহস্পতিবার প্রয়োজনে ফের ওই গ্রামে চিতাবাঘের খোঁজে তল্লাশি চালানো হবে বলে জানিয়েছেন মহানন্দা ওয়াইল্ডলাইফ সেনচুরির এডাবলিউএলডাবলিউ বিমল দেবনাথ। শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের সদ্য প্রাক্তন বিরোধী দলনেতা তথা বিধাননগরের বাসিন্দা কাজল ঘোষ জানিয়েছেন, চিতা ধরার জন্য বনকর্মীরা ইতিমধ্যেই খাঁচা বসিয়েছেন। বাঘটি খুব শীঘ্রই ধরা পড়বে বলে তিনি আশাবাদী।