হাটের চালান দেখিয়ে রমরমিয়ে গোরু পাচার, দায় নিয়ে তর্জা

340

ফাঁসিদেওয়া : শিলিগুড়ি মহকুমা এলাকার একাধিক স্থানে স্থানীয় হাটের চালান দেখিয়ে রমরমিয়ে গোরু পাচার চলছে। মূলত শিলিগুড়ি মহকুমার ফাঁসিদেওয়া ব্লকের ধনিয়া মোড়ে ফেন্সিংহীন সীমান্ত দিয়ে গোরু পাচার চলছে বলে অভিযোগ। উত্তরপ্রদেশ সহ বিভিন্ন রাজ্য থেকে লাইভস্টকের গাড়িতে প্রচুর পরিমাণে গোরু এরাজ্যে ঢুকছে। সেই গোরুই বিভিন্ন জায়গা ঘুরে পৌঁছে যাচ্ছে সীমান্ত এলাকায়। এরপর সুযোগ বুঝে পাচার করা হচ্ছে বাংলাদেশে। পুলিশ অবশ্য কিছু গাড়ি আটকে একাধিক গোরু উদ্ধার করছে। তবু পাচার আটকানো যায়নি।

কয়েকমাস ধরে বিভিন্ন রাজ্য থেকে গোরু স্থানীয় হাটে নিয়ে আসা হচ্ছে। এরপর সেখান থেকে হাট চালান নিয়ে রাস্তা দিয়ে হাঁটিয়ে গোরুগুলিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায়। রাস্তায় পুলিশ ধরলেই সেই চালান দেখিয়ে সোজা গন্তব্যে রওনা হচ্ছে লাইনম্যান। একটি গোরু বাংলাদেশ পাচার করতে লাইনম্যান ১ হাজার করে টাকা পায়। লকডাউনে কাজ হারিয়ে সীমান্ত এলাকায় অনেকেই এখন লাইনম্যানের কাজে যোগ দিয়েছেন। মূলত খড়িবাড়ি ব্লকের অধিকারী এবং ফাঁসিদেওয়া ব্লকের চটহাট থেকে গোরু হাঁটিয়ে সীমান্ত এলাকায় আনা হচ্ছে। সীমান্ত লাগোয়া সেফ জায়গায় প্রথমে গোরু জড়ো করা হচ্ছে। পরে রাতের অন্ধকারে সীমান্ত দিয়ে গোরু পাচার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। ফাঁসিদেওয়া ব্লকের ধনিয়া মোড়ে প্রায় ২ কিলোমিটার কাঁটাতারহীন এলাকাই গোরু পাচারের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ। হাট ছাড়াও লাইভস্টক গাড়িতে করে গোরু চটহাটে নামানো হচ্ছে। ওই গোরু মুড়িখাওয়া সীমান্ত দিয়ে পাচার করা হয় বলে সূত্রের খবর।

- Advertisement -

আবার বিধাননগর, ঘোষপুকুর এবং গোয়ালটুলি হয়ে ৩১ডি নম্বর জাতীয় সড়ক ধরে গোরু গোয়ালটুলির কাছে ক্যানালের ধারে নামিয়ে দেওয়া হয়। সেখান থেকে ধামনাগছ, কালুজোতের পকেট রোড দিয়ে এসে ধনিয়া মোড় সংলগ্ন সীমান্ত দিয়ে পাচার করা হয় বলে অভিযোগ। এছাড়া মহানন্দা ব্যারেজ সংলগ্ন এলাকায় নামিয়ে দেওয়া গোরু লালদাস সীমান্ত দিয়ে পাচার হচ্ছে। অথচ ওইসব এলাকাতেই সীমান্ত রক্ষীবাহিনীর ক্যাম্প রয়েছে। ফাঁসিদেওয়া থানার পিছনে বিএসএফ ক্যাম্প সংলগ্ন তৃণমূল কংগ্রেস নেতা তথা এলাকার এক জনপ্রতিনিধির বাড়ি সংলগ্ন এলাকা, চুনিয়াটুলি সংলগ্ন এলাকা দিয়ে গোরু পাচার হয় বলে অভিযোগ। পাশাপাশি খড়িবাড়ি ব্লকের প্রেতাজোত সংলগ্ন এলাকা সহ বেশ কয়েক জায়গা দিয়ে বাংলাদেশে গোরু পাচারের অভিযোগ মিলেছে। নেপাল সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় চোরাচালানকারীরা বাড়তি সুবিধা পাচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ফাঁসিদেওয়া সীমান্ত এলাকার একাধিক বাসিন্দা গোরু পাচারের বিষয়টি স্বীকার করে নিয়েছেন। বিজেপি নেতা তথা ফাঁসিদেওয়া পঞ্চায়েত সমিতির প্রাক্তন সভাপতি প্রণবেশ মণ্ডল বলেন, তৃণমূল কংগ্রেসের স্থানীয় নেতা এবং পুলিশকে বখরা দিয়ে এই পাচার কাজ চলছে। তৃণমূল কংগ্রেস নেতাদের কার্যকলাপ জেনেও, মিথ্যে মামলায় ফেঁসে যাওয়ার ভয়ে কেউ মুখ খুলছেন না। দার্জিলিং জেলা তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি রঞ্জন সরকার বলেন, বিজেপি সরকারই গোরু পাচার করছে। সেই টাকা নির্বাচনে কাজে লাগাচ্ছে। বিজেপি নেতার বাড়ি থেকে গোরু পাচার হয়। বিএসএফ কেন্দ্র সরকারের হাতে রয়েছে। তারা বেশি করে ফোর্স দেওয়ার ব্যবস্থা করুক। তাহলেই পাচার বন্ধ হবে। ফাঁসিদেওয়া সীমান্ত চেতনা সেক্টর নামে এক সংগঠনের পক্ষে প্রাণগৌরাঙ্গ দেবনাথ বলেন, অবিলম্বে এই পাচার কাজ বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। এ বিষয়ে বিএসএফের ৫১ ব্যাটালিয়নের কমান্ডান্ট কে উমেশকে একাধিকবার ফোন এবং এসএমএস করা হলে তিনি সাড়া দেননি। দার্জিলিংয়ের পুলিশ সুপার সন্তোষ নিম্বলকার জানান, মাত্র কয়েকদিন হল তিনি পদে যোগদান করেছেন। তাই এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করবেন না।