গোরু পাচার কাণ্ডে বিএসএফ কর্তা সতীশ কুমারকে গ্রেপ্তার করল সিবিআই

1332

কলকাতা: গোরু পাচার কাণ্ডে সিবিআইয়ের গোয়েন্দারা ইতিমধ্যেই বিএসএফ কমান্ডেন্ট সতীশ কুমারের বিধাননগরে বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ছিলেন। মঙ্গলবার তারা সতীশ কুমারকে কলকাতার নিজাম প্যালেসে সিবিআই দপ্তরে ডেকে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করেন। আর সেই দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর সিবিআই অফিসাররা সতীশ কুমারকে গ্রেপ্তার করেন। এরপরই তারা সতীশ কুমারের বাড়িতে পুনরায় তল্লাশি চালান। সিবিআই সূত্রে খবর, ওই তল্লাশিতে তারা বেশকিছু নথিপত্র উদ্ধার করেছেন। আর তারই পরিপ্রেক্ষিতে তারা সতীশ কুমারকে গ্রেপ্তার করার সিদ্ধান্ত নেন।

উল্লেখ্য সতীশ কুমার ইতিপূর্বে এ রাজ্যে বিএসএফের একটি ব্যাটেলিয়ানের দায়িত্বে থাকার সময় গরু পাচারের কাজে হাত খুলে সহায়তা করেছিলেন ইমানুল হককে। আর সেই সাহায্য করার সুবাদে তিনি বিপুল অঙ্কের টাকা ঘুষ নিয়ে প্রচুর সম্পত্তিও করেন। তার বিরুদ্ধে সিবিআই তদন্ত শুরু করার পরপরই তাকে ছত্রিশগড়ে বিএসএফের একটি ব্যাটেলিয়ানের দায়িত্ব দিয়ে এরাজ্য থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

- Advertisement -

উল্লেখ্য, মাত্র ক’দিন আগেই আয়কর দপ্তরের কর্তারা বাঁকুড়া, পুরুলিয়া ও বর্ধমানের কুখ্যাত কয়লা পাচারকারী অনুপ মাঝি ওরফে লালার বাড়ী ও বিভিন্ন দপ্তরে তল্লাশি চালায়। আর সেই তল্লাশি সূত্রেই তাদের কাছে কয়লা পাচার চক্রের সঙ্গে গরু পাচার চক্রের পান্ডা এনামুল হক সহ অন্যান্যদের নিবিড় যোগাযোগের খোঁজ পায়। বিষয়টি সিবিআইয়ের গোচরে আসতেই তারা আয়কর দপ্তর এরকাছ থেকে ওই তল্লাশির সংক্রান্ত কিছু নথিপত্র কদিন আগেই চেয়ে পাঠিয়েছিলেন।

সেই অনুসারে সিবিআই কর্তারা এনামুল হককে দিল্লির একটি হোটেল থেকে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করে ট্রানজিট রিমান্ড চাইতে গেলে বিচারক এনামুলকে অন্তর্বর্তী জামিন মঞ্জুর করে পরদিন তাকে বেলা ১২ টায় কলকাতা স্থিত সিবিআই দপ্তরে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন।
সেই অনুসারে এনামুল সিবিআই দপ্তরে হাজিরা দিয়ে জানায় যে, সে করোনায় আক্রান্ত। সঙ্গে সঙ্গে সিবিআই কর্তারা তাকে বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালে করোনা পরীক্ষার জন্য নিয়ে গেলে তার রিপোর্ট পজিটিভ আসে। তখনই সিবিআই পক্ষ থেকে তাকে ১৪ দিনের জন্য কোয়ারান্টিনে থাকার নির্দেশ দিয়ে ২৩ নভেম্বর তাকে তাদের দপ্তরে পুনরায় হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেন।

অপরদিকে, এনফোর্সমেন্ট শাখার প্রধান অধিকর্তার পদে এক বছর এক্সটেনশন পাওয়ার পরপরই এদিন সকালে দিল্লিতে সঞ্জয় মিশ্র এনফোর্সমেন্ট কলকাতার দপ্তরের কর্তাদের একটি জরুরী বৈঠকে ডেকেছিলেন। ওই বৈঠকে তিনি তার দপ্তরের অফিসারদের কাছ থেকে জেনে নেন রোজভ্যালি, আইকোর, সারদা সহ বিভিন্ন চিটফান্ডের ও নারদা কান্ডের তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে। সেই সঙ্গে তিনি মেট্রো ডেয়ারির শেয়ার হস্তান্তরের ব্যাপারে আদালতের নির্দেশে তারা যে তদন্ত করছেন সেই তদন্তের ব্যাপারেও নানাবিধ খোঁজ নেন। সেই সঙ্গে তিনি তার দপ্তরের অফিসারদের নির্দেশ দেন যাতে তারা অবিলম্বে হাতের মামলা গুলির তদন্ত শেষ করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করতে পারেন এবং ওই সব মামলায় যাদের আরও গ্রেপ্তার করা বাকি আছে তাদের যাতে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করার ব্যবস্থা করেন।