গোরু পাচার: ইমানুলকে তিনবার গ্রেপ্তার করেও আটকে রাখতে পারেনি সিবিআই

850

কলকাতা: ২০১৮-র জানুয়ারি মাস থেকে তিনবার সিবিআই ও এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের হাতে ধরা পড়লেও কোনও অজ্ঞাত কারণে ইমানুলকে জেলে আটকে রাখা যায়নি। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী এজেন্সির কর্তারা সবাই জানতেন ইনামুল কোথায় থাকে বা কোথায় কোথায় তার বাড়ি রয়েছে। মুর্শিদাবাদ জেলার রঘুনাথগঞ্জ টিএমটিবারের কারখানাটির কথাও যেমন তাঁরা জানতেন, তেমনি জানতেন জঙ্গিপুরে তার হোটেলের কথাও। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় এত কিছু জানা সত্ত্বেও এতদিন পর্যন্ত ইমানুলকে আটকানো গেল না কেন? তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।

প্রসঙ্গত, সারাদেশে সীমান্ত নিরাপত্তারক্ষী বাহিনীর ১৮৬টি ব্যাটালিয়ান রয়েছে। তার মধ্যে মাত্র ১৫টি ব্যাটালিয়ান এ রাজ্যে রয়েছে। প্রতিদিন কটা করে গোরু বাংলাদেশে পাচার হল সে ব্যাপারে বিএসএফ, কাস্টমস বা রাজ্য পুলিশের কাছে ঠিক হিসাব না থাকলেও বাংলাদেশের কাছে কিন্তু তার সঠিক হিসাব থাকে। কারণ সে দেশে কোনও গোরু ঢুকলেই গোরু প্রতি সরকারিভাবে ৫০০ টাকা করে পাচারকারীদের জমা দিতে হয়। ওটা সে দেশের সরকারের পাকা ব্যবস্থা। তাই প্রতিদিন ভারত থেকে কটি গোরু বাংলাদেশে ঢুকেছে, তা খাতায়-কলমে পাকা হিসেবে থাকে বাংলাদেশের কাছে।

- Advertisement -

আমাদের দেশের সীমান্ত নিরাপত্তারক্ষী বাহিনীর একটি নির্দিষ্ট শাখা আছে। ওই শাখাটিকে জি সেকশন বলে বলা হয়ে থাকে। ওই বিভাগটির কাজ হল সীমান্ত দিয়ে গোরু সহ অন্যান্য কি কি জিনিস বাংলাদেশ ঢুকেছে, তার হিসেব রাখা ও বাহিনীর কর্তাদের সে ব্যাপারে অবহিত করা। কিন্তু সেই বিভাগটি যে আদৌ ঠিকমতো কাজ করত না তা গোরু পাচার কাণ্ড থেকেই পরিষ্কার।

বিএসএফের ৩৬ নম্বর ব্যাটালিয়নের কমান্ডিং হিসাবে মালদা ও মুর্শিদাবাদ সীমান্তবর্তী এলাকায় সতীশ কুমারের ওপর নজরদারি বজায় রাখার দায়িত্ব ছিল মোট ১৭ মাস। আর সেই ১৭ মাসেই তিনি যে সম্পত্তি এরাজ্যে করে ফেলেছিলেন তার থেকে একটা অনুমান করা যায় কি পরিমাণ অর্থ ওই গোরু পাচারের সূত্র ধরে বেআইনি চোরাকারবারি, বিএসএফ, কাস্টমস ও পুলিশ অফিসারদের হাতে পৌঁছাত।

বিএসএফ কর্তা সতীশ কুমারের সঙ্গে গোরু পাচার চক্রের অন্যতম পান্ডা ইমানুল হকের যে কি পরিমান দহরম-মহরম ছিল একটি বিষয় সামনে আনলেই তার পরিচয় মেলে। সতীশ কুমারের ছেলে ভুবন ভাস্করের ইমানুয়েলের রড আয়রন কারখানায় ম্যানেজারি করতেন। ওই কারখানায় ভুবন ভাস্কর ২০১৭ সালের মে মাস থেকে ওই বছরের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত ৮ মাস চাকরি করেছিলেন ম্যানেজার পদে। তার জন্য প্রতি মাসে তিনি ইমানুলের কাছ থেকে ৪০ হাজার টাকা করে মাস মাইনে বাবদ নিয়েছেন।

সাধারণ পুলিশের সঙ্গে সিবিআই-র কাজের কিছুটা পার্থক্য আছে। সাধারণভাবে তারা কোনও মামলা রুজু হল সেই আসামীকে গ্রেপ্তার করে না। তারা অভিযুক্তের বিরুদ্ধে তদন্ত করে তথ্য জোগাড় করে তার বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়ার আগে তাকে গ্রেপ্তার করে থাকে। যদিও ওই আসামি পালিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। সম্ভবত সেই কারণেই তারা এখনও সতীশ কুমারকে হেপাজতে নেয়নি। শুধু ইমানুল হক ও তার শাগরেদদের গ্রেপ্তার করার জন্য ছুটে বেড়াচ্ছে। এখন দেখার বিষয় কতদিনে তারা তাদের গ্রেপ্তার করতে সমর্থ হয়।

সিবিআই ও এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট সূত্রে পাওয়া খবরে জানা গিয়েছে, তারা ইতিপূর্বে তিন-তিনবার ইমানুলকে গ্রেপ্তার করতে সমর্থ হলেও তাকে আটকে রাখতে পারেনি। ওই তিনবারের মধ্যে একবার তারা ওই পাচারকারীকে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করলে, সে সঙ্গে সঙ্গেই জামিন পেয়ে গিয়েছিল।