গোরু পাচারকারীদের অবাধ আনাগোনা, নষ্ট হচ্ছে কৃষকের জমির ফসল

294

ফাঁসিদেওয়া, ১৩ জানুয়ারিঃ শীতের মরশুমে কুয়াশার সুযোগ নিয়ে শিলিগুড়ি মহকুমার ফাঁসিদেওয়া ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী গ্রাম ধনিয়া মোড় এবং বাণেশ্বরজোত দিয়ে গোরু পাচারের চেষ্টা চলছে। ঘটনায় প্রতিনিয়ত কৃষকের জমির ফসল নষ্ট হচ্ছে বলে অভিযোগ। এছাড়াও, পাচারে বাধাপ্রাপ্ত হলে, জমির ফসল নষ্ট করে দিচ্ছে পাচারকারীরা। দার্জিলিং জেলা পুলিশের ফাঁসিদেওয়া থানা থেকে ঢিল ছোঁড়া দূরত্বে বাংলাদেশি পাচারকারীদের আনাগোনার অভিযোগ থাকলেও, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে গোটা এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, ভারতের চাষের জমির ওপর দিয়ে দৈনিক পাচারকারীরা গোরু বাংলাদেশে নিয়ে যাচ্ছে। অথচ, পাশেই থানা থাকলেও, পুলিশ কোনও পদক্ষেপ গ্রহণ করছে না। বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন পুলিশ আধিকারিকরা।

গোরু পাচার রুখতে বিএসএফ-র ৫১ নম্বর ব্যাটালিয়নের জওয়ানদের সঙ্গে যৌথভাবে নৈশ প্রহারায় থাকছেন গ্রামের বাসিন্দারা। পাচারকার্যে বাধাপ্রাপ্ত হয়ে রাতের অন্ধকারে জমির ফসল কেটে দেওয়া হচ্ছে বলে পাচারকারী চক্রের পাণ্ডাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন গ্রামবাসী। বিক্ষুব্ধ জনতা বুধবার সীমান্তে মহানন্দা নদীতে কর্মরত এক বাংলাদেশি যুবককে বুধবার আটক করে নিয়ে আসেন বলে খবর। পরে, বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী এবং ভারতের সীমান্তরক্ষী জওয়ানদের উপস্থিতিতে ফ্ল্যাগ মিটিং করা হয়। জানা গিয়েছে, ওই যুবক নদীতে কাজের জন্য এসেছিলেন। পরে, ওই যুবককে বাংলাদেশ বর্ডার গার্ডের জওয়ানরা উদ্ধার করে নিয়ে যান।

- Advertisement -

স্থানীয় সূত্রের খবর, এদিন এক যুবককে বেশকিছু গরু নিয়ে সীমান্ত পার হতে দেখা গিয়েছিল। এদিকে, এদিন এক ব্যক্তির জমিতে ফলানো বেগুন গাছ কেটে নষ্ট করে দেওয়া হয়েছিল। বিএসএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন যে বাংলাদেশি যুবককে স্থানীয় বাসিন্দারা আটক করেন তাঁর নাম মহম্মদ রাকিব (১৮)। সে বাংলাদেশের পঞ্চগড় জেলাড উত্তর কাশিমগছের বাসিন্দা। তবে, ওই যুবক গোরু পাচারের সঙ্গে কোনও ভাবে জড়িত কিনা তা এখনও স্পষ্ট নয়। তাই, আইন মেনে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে বিএসএফের এক জওয়ান জানিয়েছেন। স্থানীয়দের দাবি, প্রায় আড়াই কিলোমিটার এলাকা জুড়ে কাটাতাঁরের ফেন্সিং না থাকায়, ওই এলাকাটি এখন গোরু পাচারকারিদের অন্যতম করিডর হয়ে উঠেছে।

বাণেশ্বরজোতের স্থানীয় বাসিন্দা উত্তম বিশ্বকর্মা বলেন, প্রতিদিনই সীমান্ত দিয়ে অবাধে গোরু পাচার হচ্ছে। ভারত থেকে বাংলাদেশে গোরু পাচার সময় জমির ফসলের ক্ষতি হচ্ছে। সেই কারনে আমরা পাহারা দিচ্ছি। পাচারে সমস্যা হওয়ায় পাচারকারীরা এখন জমির ফসল কেটে দিচ্ছে। আমরা সন্দেহভাজন এক বাংলাদেশিকে আটক করে বিএসএফের হাতে তুলে দিয়েছি। রমেশ বিশ্বকর্মকার বলেন, আমরা চাই এই সমস্যার দ্রুত সমাধান হোক। অসমর্থিত সূত্রের খবর, বেশ কিছুদিন ধরে এলাকায় কয়েকটি গোরু চুরির ঘটনাও ঘটেছে। এলাকায় কয়েক বছর আগে শুরু হওয়া ফেন্সিং বাসানোর কাজ সম্পন্ন করে অবিলম্বে, গোরু পাচার বন্ধের দাবি জোরালো হয়েছে।

গোরু পাচারের প্রসঙ্গ তুলে ফাঁসিদেওয়ার বাসিন্দা অনিল ঘোষ বলেন, থানা থেকে ঢিল ছোঁড়া দূরত্বে এই কারবারে ভারতীয় জমিতে এভাবে কৃষকের ক্ষতি হলেও, থানার অফিসারদের কোনও কড়া পদক্ষেপ নেই। সেই কারণেই দিনের আলোয় গোরু পাচার চলছে। শুধু তাই নয়, পুলিশ সীমান্তের এপারে নিরাপত্তা দিতে পারছে না। অনেকেই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। বাংলাদেশি পাচারকারী কাঁটাতার পেরিয়ে এদেশে এসে খোলা বাজারে ঘুরে বেড়াচ্ছে৷ এই বাড়বাড়ন্ত বন্ধ হওয়া প্রয়োজন বলে তিনি জানিয়েছেন।

ডিএসপি (গ্রামীণ) অচিন্ত্য গুপ্ত বলেন, সীমান্তে পাচার রুখতে রাতে বিএসএফের সঙ্গে পুলিশ যৌথ পেট্রোলিং করছে। এদিন এক বাংলাদেশি যুবক নদী থেকে বালি তোলার সময় তাঁকে গ্রামবাসীরা আটক করেছিল বলে শুনেছি। বৃহস্পতিবার এলাকা পরিদর্শন করে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে নিরাপত্তার বিষয়টিও দেখা হবে। এরআগে আর কিছু বলা সম্ভব নয় বলে তিনি জানান।