খোলা সীমান্ত দিয়ে গোরু পাচার

সৌরভ রায়, ফাঁসিদেওয়া : বছরের পর বছর গড়িয়েছে, অথচ শিলিগুড়ি মহকুমার ফাঁসিদেওয়ায় ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া তৈরি হয়নি। কাঁটাতারহীন সীমান্ত নিয়ে বন্দরগছ এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে, মুড়িখাওয়াতেও কাঁটাতারহীন সীমান্ত গ্রামবাসীদের সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বন্দরগছ এলাকায় প্রায় আড়াই কিলোমিটার এবং মুড়িখাওয়াতে প্রায় এক কিলোমিটার এলাকায় কাঁটাতার দেওয়ার দাবি উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বাধাহীন উন্মুক্ত সীমান্ত দিয়ে সীমান্ত রক্ষীবাহিনীর নজর এড়িয়ে গোরু পাচারকারীদের রমরমা কারবার চলছে। সম্প্রতি, মুড়িখাওয়া এলাকায় কাঁটাতারের ভেতর থেকে এক কৃষকের গুলিবিদ্ধ মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে। গোরু পাচারকারী সন্দেহে গুলি চলার ঘটনা ঘটেছিল কি না তা নিয়ে ধোঁয়াশা এখনও কাটেনি।

কয়েক বছর ধরেই ফাঁসিদেওয়া সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার কথা চলছে। বছরখানেক আগে বন্দরগছ এলাকায় বেড়া দেওয়ার কাজ একবার শুরু হয়েছিল। তবে, তা অসম্পূর্ণ রয়ে গিয়েছে। ফাঁসিদেওয়া এলাকার ধনিয়া মোড় থেকে বন্দরগছ পর্যন্ত প্রায় আড়াই কিলোমিটার এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া নেই। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে একদল পাচারকারী এই এলাকা দিয়ে প্রায়ই ভারত থেকে গোরু বাংলাদেশে পাচার করে থাকে। বিভিন্ন সময় এলাকার কৃষকদের জমির ফসল নষ্ট করেই পাচার চলেছে। মাঝে মাঝেই দিনের আলো না নিভতেই মহানন্দা পেরিয়ে বাংলাদেশে গোরু পাচারের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ। এদিকে, সন্ধ্যা নামতেই বাংলাদেশি পাচারকারীরা এপারে এসে ঘাঁটি গাড়ে বলে অভিযোগ। এছাড়াও মুড়িখাওয়া এলাকার সীমান্ত দিয়ে বহুবার গোরু পাচারের অভিযোগ রয়েছে। বছর দেড়েক আগে স্থানীয় এক ব্যক্তি জমিতে কাজ করতে যাওয়ার সময় ভারতীয় সীমান্তরক্ষীর ছোড়া গুলিতে জখম হন। দীর্ঘ চিকিৎসার পর তিনি সুস্থ হয়েছেন। সম্প্রতি একই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হয়েছে। এই ঘটনায় স্থানীয় মহম্মদ জমিরুল আখতার নামে এক কৃষকের গুলিবিদ্ধ মৃতদেহ কাঁটাতারের ভেতর থেকে উদ্ধার হয়। তবে, গুলি কে বা কারা চালিয়েছিল তা জানা যায়নি। যদিও, গুলির কারণেই মৃত্যু হয়েছে কি না তা নিয়ে মুখ খুলতে নারাজ পুলিশ। কোনও মন্তব্য করেনি ভারতীয় সীমান্ত রক্ষীবাহিনীও।

- Advertisement -

ফাঁসিদেওয়া সীমান্ত চেতনা সেক্টরের সভাপতি প্রাণগৌরাঙ্গ দেবনাথ জানিয়েছেন, কাঁটাতারহীন সীমান্ত গোরু পাচারকারীদের স্বর্গরাজ্য হয়ে উঠেছে। অনেক সময় দিনেরবেলাতেও গোরু বাংলাদেশে পাচার হয়ে যাচ্ছে। এদিকে, কাঁটাতার দেওয়া নিয়ে বাংলাদেশ সীমান্ত রক্ষীবাহিনী বাধা দিচ্ছে। তাই বেড়া দেওয়ার কাজ শুরু হলেও, আজও তা সম্পন্ন হয়নি। তিনি আরও জানান, মুড়িখাওয়া এলাকায় গোরু পাচার চলছে। সেই কারণেই সম্প্রতি এক কৃষক প্রাণ হারালেন। তারের বেড়া দেওয়া হলে এ ধরনের ঘটনার সম্ভাবনা কমবে। ধনিয়া মোড়ের বাসিন্দা মধু রায় জানান, গোরু পাচারের কারণে কয়েকবার জমির ফসল নষ্ট হয়েছে। স্থানীয় আরেক ব্যক্তি বলেন, কাঁটাতার না থাকায় সীমান্তরক্ষীর নজর এড়িয়ে মহানন্দা নদী পেরিয়ে বাংলাদেশে গোরু পাচার হচ্ছে। কাঁটাতারে সীমান্ত ঘেরা হলে এবং পুলিশের কড়া নজরদারি থাকলে, গোরু পাচারের সমস্যা মিটবে। ফাঁসিদেওয়ার বিডিও সঞ্জু গুহমজুমদার বলেছেন, কাঁটাতার দেওয়া সীমান্ত রক্ষীবাহিনীর বিষয়। বিএসএফ-র ৫১ নম্বর ব্যাটালিয়নের তরফে কাজ শুরু করা হয়েছিল। তবে আমরা এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে পারি না।