অরিন্দম চক্রবর্তী, হাতিপোঁতা: কুমারগ্রাম ব্লকের প্রত্যন্ত এলাকাগুলির মধ্যে অন্যতম একটি ক্ষুদ্র জনপদ তুরতুরি চা বাগানের ডিভিশন। চারদিকে চা বাগান ও বক্সার গহন অরণ্যে পরিবেষ্টিত তুরতুরিখণ্ড গ্রাম পঞ্চায়েতের এই জনপদটি বর্ষার সময় কার্যত বিচ্ছিন্ন থাকে। পড়ুয়াদের স্কুলে যাওয়া হয় না। তুরতুরি চা বাগানের ডিভিশনকে দুদিক থেকেই ঘিরে রেখেছে ধওলা নদী। বর্ষায় এই নদী ভয়াল রূপ ধারণ করে। ২০০০ সালে বন্যায় এই নদীর সেতুটি ভেঙে যায়। কিন্তু ১৯ বছর পেরিয়ে গেলেও ফের সেতু নির্মাণে কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি বলে অভিযোগ এলাকার বাসিন্দাদের। বছর দেড়েক আগে কজওয়ে তৈরি করা হলেও এ বছর বর্ষায় সেটিও ভেঙে গিয়েছে। তুরতুরি ডিভিশনে প্রায় শতাধিক পরিবারের বসবাস। অধিকাংশই আদিবাসী সম্প্রদায়ে। অবিলম্বে ধওলা নদীর উপর সেতুর দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

এখানকার অধিকাংশ বাসিন্দা রায়ডাক, তুরতুরি অথবা রহিমাবাদ চা বাগানের শ্রমিক। রায়ডাকের বাসিন্দা বিশাল লাকড়া বলেন, শীতের মরশুমে নদীতে জল থাকে না। তাই চলাচলে কোনো অসুবিধা হয় না। কিন্তু বর্ষার সময় দিনের পর দিন জলবন্দি হয়ে কাটাতে হয় ডিভিশনের মানুষকে। আমরাও রায়ডাক থেকে কোনো কাজের প্রয়োজনে ডিভিশনে যেতে পারি না। তুরতুরি চা বাগানের ডিভিশনের বাসিন্দা রামকুমার কুজুর বলেন, প্রতি বছর বর্ষায় নদীর জল আমাদের ডিভিশন এলাকাতেও ঢুকে পড়ে। বর্ষায় সম্পূর্ণ জলবন্দি হয়ে দিন কাটে। সেতু না থাকায় আমরা রায়ডাক বা ময়নাবাড়ি কোনোদিকেই যেতে পারি না। স্থানীয় মুলদিম ওরাওঁ বলেন, প্রশাসনিক কাজের প্রয়োজনে, চা বাগানের কাজের জন্য প্রতিদিনই ময়নাবাড়ি যেতে হয়। সেতু না থাকায় বর্ষায় কষ্ট হয়। খরস্রোতা ধওলা নদী পার করে যাওয়া অসম্ভব ব্যাপার। অপর এক বাসিন্দা জয়া খড়িয়া জানান, ছাত্রছাত্রীদের কার্তিকা ও রহিমাবাদে প্রায় ৪ কিলোমিটার দূরে হাইস্কুলে পড়াশোনার জন্য যেতে হয়। সেতু না থাকায় বর্ষার সময় স্কুলে যাওয়া পুরোপুরি বন্ধ থাকে।

বছর দেড়েক আগে নদী পারাপারের জন্য দুদিকেই কংক্রিটের কজওয়ে নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু এবছর বর্ষায় কজওয়ে ভেঙে যাওয়ায় বর্ষার সময় সাইকেল চালিয়ে যাতায়াতও অসম্ভব হয়ে পড়ে। ধওলা নদীর ওপর দুদিকেই সেতুর প্রয়োজন। এই অবস্থায় কমপক্ষে একটি সেতু অবিলম্বে তৈরির দাবি জানিয়েছেন এলাকার বাসিন্দারা। স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্যা সরস্বতী চিকবড়াইক বলেন, সেতুর দাবি নিয়ে গতবছর জেলাশাসকের কাছে লিখিতভাবে জানানো হয়েছিল। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকেও জানানো হয়েছে।

কুমারগ্রাম পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি মঞ্জিলা লামা বলেন, আমি এ বিষয়ে জেলাপরিষদে লিখিতভাবে জানাব। আপাতত কজওয়ে পুনরায় মেরামত করা যায় কি না সেই বিষয়ে খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কুমারগ্রাম ব্লকের বিডিও মিহির কর্মকার বলেন, ওই স্থানে এলাকাবাসীর সেতুর দাবি রয়েছে। জেলাস্তরে এ বিষয়ে আলোচনা করে দেখব।