ভেঙেছে কজওয়ে, নদী পারাপারে ভরসা মোষের গাড়ি

40

সিউড়ি: জলের তোড়ে ভেঙে গিয়েছে অস্থায়ী কজওয়ে। ফলে বিচ্ছিন্ন দ্বীপের মতো বসবাস করছে খয়রাশোল ব্লকের কয়েক হাজার মানুষ। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন বীরভূমের সঙ্গে পশ্চিম বর্ধমানের। নদী পারাপার করতে এখন মানুষের ভরসা মোষের গাড়ি। তাতেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করা হচ্ছে মানুষ থেকে বাইক।

জানা গিয়েছে, অজয় নদীর উপর খয়রাশোল ব্লকের পারসুন্ডি পঞ্চায়েতের পশ্চিম বড়কোলা-চুরুলিয়া ঘাটে অস্থায়ী সেতু রয়েছে। ওই সেতু বীরভূম ও পশ্চিম বর্ধমান জেলার যোগাযোগ সংযোগ সংযোগকারী অন্যতম রাস্তা। ইয়াসের প্রভাবে ঝাড়খণ্ডে ভারী বৃষ্টিপাত হওয়ায় অজয়ের জল বৃদ্ধি পায়। ফলে ভেসে যায় ওই অস্থায়ী কজওয়ে। এতে পশ্চিম বর্ধমান জেলার জামুড়িয়া ব্লকের চুরুলিয়া ও বীরভূমের খয়রাশোল ব্লকের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। এই সেতু দিয়েই বীরভূমের প্রচুর মানুষ প্রতিদিন নিত্যকাজে পশ্চিম বর্ধমান জেলার জামুড়িয়া, আসানসোল, রানীগঞ্জ যাতায়াত করেন। খয়রাশোল ব্লকের কাঁকড়তলা থানার গ্রামগুলির সঙ্গে জেলার সদর শহর সিউড়ির দূরত্ব প্রায় ৭০ কিমি হওয়ায় এলাকার মানুষ নিত্য প্রয়োজনে জামুড়িয়া, আসানসোল বেশি যান।

- Advertisement -

পারসুন্ডি অঞ্চল তৃণমূল সভাপতি তথা অধ্যাপক উৎপল বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘বীরভূমের এই বিস্তীর্ণ এলাকায় কর্মসংস্থানের কোনও সুযোগ না থাকায় পেটের টানে এলাকার মানুষকে জামুড়িয়া শিল্পতালুকে যেতে হয়। এছাড়াও উচ্চশিক্ষা এবং চিকিৎসার জন্য আসানসোল যেতে হয় ছেলেমেয়েদের। আসানসোল, রানীগঞ্জে থাকা কেন্দ্রীয় সরকারের বহু সংস্থার কর্মী এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করেন। কিন্তু কজওয়ে ভেঙে যাওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন তাঁরা। এখন পারাপারের ভরসা মোষের গাড়ি।’ অবিলম্বে নদীর উপর স্থায়ী সেতু নির্মাণের দাবি জানান স্থানীয় বাসিন্দারা।

খয়রাশোল পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি শ্যামল গায়েন বলেন, ‘অজয় নদীর উপর প্রায় এক কিলোমিটার কজওয়ে। প্রতিবছর টেন্ডার ডেকে ওই কজওয়ে নির্মাণের ছাড়পত্র দিই। যাঁরা টেন্ডার পান তাঁরা গাড়ি পারাপারের জন্য সামান্য পয়সা নিয়ে ওই কজওয়ে নির্মাণ করেন। জেলা পরিষদে কংক্রিট সেতু নির্মাণের আবেদন করেছিলাম। প্রাথমিক বাজেট ধরা হয়েছিল ১০ কোটি টাকা। কিন্তু জেলা থেকে মঞ্জুর হয়নি।’

দুবরাজপুর বিধায়ক বিজেপির অনুপ সাহা বলেন, ‘পশ্চিম বড়কোলা এলাকায় অজয়ের উপর স্থায়ী সেতুর খুব প্রয়োজন। নির্বাচনি প্রচারে গিয়ে সেই সমস্যা দেখছি। সেইসঙ্গে লোবা অঞ্চলের দেবীপুর চরের মানুষ দুটি নদীর মাঝে বসবাস করেন। তাঁরা বাঁশের অস্থায়ী কাঠামোর উপর দিয়ে যাতায়াত করেন। কিন্তু সেই বাঁশের কাঠামো ভেঙে গিয়েছে। এনিয়ে বিধানসভায় সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করব।’