কয়লা পাচার: লালার আর্জি বাতিল হলেও রায়ে খুশি নয় সিবিআই

138

কলকাতা: রাজ্যের কয়লা পাচার কাণ্ডের মধ্যমনি অনুপ মাজি ওরফে লালা। তার বিরুদ্ধে এফআইআর খারিজ করার মামলাটি এদিন খারিজ করে দিলেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতির সব্যসাচী ভট্টাচার্য। তবে সেই সঙ্গে তিনি সিবিআইকে নির্দেশ দেন যে, রেলওয়ে আইন অনুসারে রেলের এলাকার বাইরে তাদের যদি কোনো সাক্ষীকে ডেকে জিজ্ঞাসবাদ করতে হলে তাদের রাজ্য সরকারের অনুমতি নিতে হবে। সেই সঙ্গে তিনি সিবিআইকে উপদেশ দেন তারা যাতে আগামী দিনে মামলার তদন্ত রাজ্য পুলিশের সঙ্গে মিলেমিশে করেন। সিবিআইয়ের মতে  ইস্টার্ন কোলফিল্ডস এলাকাটি যেহেতু কেন্দ্রীয় সরকারের অধীন এবং সেখানকার কোলিয়ারিগুলির চারপাশে ছড়িয়ে রয়েছে রেলের লাইন সুতরাং ওই এলাকায় ঘটে যাওয়া কোনো অপরাধের ঘটনা তদন্ত তারা করতেই পারে। তার জন্য তাদের রাজ্য সরকারের অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন নেই। তাছাড়া তাদের মতে রাজ্য পুলিশ যখন ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে আছে তখন তাদের সঙ্গে একসঙ্গে মিলে কয়লা পাচার চক্রের মামলা তাদের পক্ষে চালানো অসম্ভব। আর সেই কারণেই সম্ভবত সিবিআই এদিনের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চে আপিল করতে চলেছেন

      উল্লেখ্য গত বছর ২৭ নভেম্বর সিবিআই গোয়েন্দারা কয়লা পাচার কান্ডের তদন্তে নেমে লালা ও তার সাগরেদদের বিরুদ্ধে এফআইআর রজু করে তদন্ত শুরু করে। আর এই মামলা রুজু করার সঙ্গে সঙ্গেই গা ঢাকা দিয়ে দেয় লালা ও তার দলবল। এরপর গত ১০ ডিসেম্বর লালার পক্ষ থেকে সিবিআইয়ের গোয়েন্দারা তাদের বিরুদ্ধে এফআইআর দাখিল করেছে, তা খারিজ করার জন্য কলকাতা হাইকোর্টে একটি আবেদন পেশ করা হয়। ওই মামলা চলাকালে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে লালার আবেদনটির সমর্থনে জোরদার সাওয়াল করা হয়। ওই মামলায় দুই পক্ষের সওয়াল জবাব শেষ হয়ে যায় গত ২৭ জানুয়ারি। এরপর বিচারপতি এদিন ওই মামলার রায় দান করেন।

- Advertisement -

       এদিন বিচারপতি তার রায়ে পরিষ্কার জানিয়ে দেন যে, যেহেতু লালার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ, সেহেতু তিনি ওই এফআইআর বাতিল করার কোনো নির্দেশ দিচ্ছেন না। সিবিআই অভিযুক্তদের ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারে। তবে তাদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করতে গেলে সংশ্লিষ্ট আইন অনুসারে তাদের ব্যবস্থা নিতে হবে। ফলে এফআইআর বাতিল না হলেও মামলার তদন্ত এদিনের রায় বিশেষ ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলো বলেই সিবিআইয়ের কর্তাদের ধারণা। এতে লালা ও তার দলবল বেশ কিছুটা সময় পেয়ে গেল বলেই গোয়েন্দাদের ধারণা। উল্লেখ্য রাজ্যে এক্তিয়ারভুক্ত এলাকা থেকে কোন ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে গেলে তাকে সমন পাঠাতে পারবে সিবিআই। তবে এক্ষেত্রে  তল্লাশি অভিযান চালাতে গেলে রাজ্যের অনুমতি নিয়ে রাজ্যের আধিকারিকদের সঙ্গে যুগ্মভাবে অপারেশন চালাতে হবে বলে নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি।

গত বছর ২৭ নভেম্বর ইসিএল অঞ্চলে বেআইনি কয়লা উত্তোলন ও পাচার সংক্রান্ত অভিযোগে অনুপ মাজির নামে এফআইআর দায়ের করে পুলিশ। এরপর সিবিআই তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সমন পাঠায়।অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে সিবিআইয়ের দপ্তরে হাজিরা দেননি তিনি। এরপর থেকেই বেপাত্তা কয়লা মাফিয়া লালা ১৪ ডিসেম্বর নিজের গ্রেপ্তারি এড়াতে কলকাতা হাইকোর্টে এফআইআর খারিজের আবেদন জানিয়েছিলেন। মামলার শুনানিতে রাজ্যের তরফে এডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্ত প্রশ্ন তুলেছিলেন সিবিআই এই তদন্ত আদৌ করতে পারে কিনা সে ব্যাপারে। তিনি বলেন, ‘এফআইআরে বলা হয়েছে,  বিশ্বস্ত সুত্রে জানা গেছে ইসিএল এরিয়াতে কয়লা পাচারের বড়সড় চক্র কাজ করছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে কারও বিরুদ্ধে তদন্ত করা যায়?’ এর বিরুদ্ধে এডিশনাল সলিসিটর জেনারেল ওয়াই যে দস্তুরও পালটা বলেন, ‘যদি কোনও দোষের কিছু নাই থাকে তাহলে রাজ্যই বা এই তদন্ত আটকাতে চাইছে কেন?’এরপরই মামলার রায়দান স্থগিত রেখেছিলেন বিচারপতি।