১১.৬ কোটি দুর্নীতি মামলায় চার্জশিট পেশ সিবিআই-এর

56

আসানসোল: কয়লা কাণ্ড ইস্যুতে যখন দেশ জুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে, ঠিক তখনই কয়লা খনির জন্য সঠিক মেশিন বিদেশ থেকে না আসায় ১১.৬ কোটির দুর্নীতি মামলায় চার্জশিট জমা দিল সিবিআই। রাষ্ট্রায়ত্ত কয়লা উত্তোলনকারী সংস্থা ভারত কোকিং কোল লিমিটেড বা বিসিসিএলের প্রাক্তন সিএমডি টি. কে. লাহিড়ী, ইসিএলের প্রাক্তন সিএমডি আর. কে. সিনহা, প্রাক্তন ডিরেক্টর টেকনিক্যাল ডি. সি. ঝাঁ সহ চিনের একটি কোম্পানির ভারতীয় এজেন্ট সহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে ধানবাদের বিশেষ আদালতে এই চার্জশিট জমা দিয়েছে। শুধু তাই নয় সিবিআই আরও এমন কয়েকজন কয়লা সংস্থার আধিকারিক বা ব্যক্তির বিরুদ্ধে চার্জশিট দিয়েছে যাদের নাম প্রাথমিক অভিযোগ পত্রে ছিল না বলেই খবর। অন্যদিকে এই মামলা থেকে ক্লিনচিট দিয়েছে বিসিসিএলের ডিরেক্টর (ফিন্যান্স) অমিতাভ সাহা, সিএমপিডিআইয়ের রিজিওনাল ডিরেক্টর বি. কে. সিনহা সহ প্রাক্তন দুই চিফ ম্যানেজার এ. কে. দত্ত ও এস. কে. সিনহাকে।

জানা গিয়েছে, ২০১৭ সালের ২২ নভেম্বর সিবিআই বিসিসিএল, ইসিএলের প্রাক্তন আধিকারিক, চিনা সংস্থার ভারতীয় এজেন্ট সহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে প্রাথমিক অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। সেই অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছিল, রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ভারত কোকিং কোল লিমিটেড চিনের একটি কোম্পানির কাছ থেকে দুটি রোড হেডার মেশিন কিনেছিল সরকারি নিয়মকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে। ঘটনার তদন্তে নেমে সিবিআই জানতে পারে, বিসিসিএলের কয়লা খনিতে কাজ করার জন্য ১.৬৫ মিটার উঁচু দুটি রোড হেডার মেশিন কেনার কথা ছিল। যদিও কেন হয়েছিল ২২.৫ মিটার উঁচু মেশিন। ওয়ার্ক অর্ডার অনুযায়ী মেশিনগুলো অবশ্য কেনা হয়নি। আবার মেশিনগুলো ফেরত দেওয়া যায়নি। কেননা, আগেই চীনের সংস্থাকে অগ্রীম বাবদ বিসিসিএল ১১.৬০ কোটি টাকা দিয়েছিল। এত উঁচু মেশিন অন্য কোনও কয়লা খনিতে ব্যবহার করা সম্ভব ছিল না। বহু চেষ্টার পর বিসিসিএলের মুনিডি খনিতে একটি মেশিন চালানো হয়। কিছুদিনের মধ্যেই যদিও সেটি খারাপ হওয়ার পর আর ঠিক করা যায়নি। দ্বিতীয় মেশিনটিকে কাজে নামানোই হয়নি। সেই দুর্নীতি নিয়ে প্রায় চার বছর ধরে তদন্ত করার পর অবশেষে চার্জশিট জমা দিল সিবিআই। ঘটনায় বিসিসিএল ও ইসিএলের আধিকারিক মহলে রীতিমতো চাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে।

- Advertisement -

এই চার্জশিটের বিষয়ে বিসিসিএলের প্রাক্তন সিএমডি তাপস কুমার লাহিড়ী বলেন, ‘বিশ্ব টেন্ডার করে যে অর্ডার দেওয়া হয়েছিল সেই অনুযায়ী চিনের ওই সংস্থা মেশিন পাঠায়নি। তখন আমরা সিদ্ধান্ত নিয়ে তা ফেরতের কথা বলেছিলাম। সেক্ষেত্রে চিনের সংস্থাটির তরফে বলা হয়েছিল, আমাদের খরচায় সেটা ফেরত পাঠাতে হবে। আমরা তখন চিন্তা করেছিলাম এতে আমাদের ক্ষতি হবে। আমরা আর ওদের বাকি টাকা দিইনি। তবে ওদের টেন্ডারের নিয়ম অনুযায়ী অগ্রিম টাকা দিয়েছিলাম। আর ওই মেশিন গুলোর মধ্যে যেটি আমরা ব্যবহার করেছিলাম তাতে আমাদের ৬ কোটি টাকা এসেছিল। আর মেশিন দিয়ে খনির যে মুখ তৈরি হয়েছিল তাতেই টন প্রতি ৫ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হত। তাই সেটাও বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। আমি যখন এই সংস্থার দায়িত্ব নিয়েছিলাম তখন তা বিআইএফআরে ছিলো। আমি যখন ছেড়ে আসি তখন সংস্থা ‘মিনি রত্ন’ সম্মানে সম্মানিত হয়েছিল। কেন কারা এই অভিযোগ করেছিল তা অবশ্য জানা নেই। যা সিদ্ধান্ত সংস্থার বোর্ড থেকে নেওয়া হয়েছিল তাতে সংস্থার ভালোই হয়েছিল।’