ধৃতরা কতটা অসুস্থ, খতিয়ে দেখতে সিবিআইয়ের মেডিকেল টিম

47
ছবি: সংগৃহীত

কলকাতা: হাইকোর্টে জামিনের ওপর স্থগিতাদেশ জারির পরই নারদ কাণ্ডে ধৃত চারজনকে প্রেসিডেন্সি জেলে নিয়ে যাওয়া হয় সোমবার। কিন্তু সে রাতে অসুস্থ বোধ করায় মঙ্গলবার ভোরে মদন মিত্র ও শোভন চট্টোপাধ্যায়কে এসএসকেএম হাসপাতালের উডবার্ন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়।

মঙ্গলবার দুপুরে শারীরিক পরীক্ষার পর সুব্রত মুখোপাধ্যায়কেও এসএসকেএম হাসপাতালের উডবার্ন ওয়ার্ডে ভর্তি করে নেবুলাইজার দেওয়া হয়। তবে ফিরহাদ হাকিম নিজে অসুস্থ থাকলেও জেল থেকে বেরিয়ে হাসপাতালে যেতে চাননি। তিনি জানিয়ে দেন, তিনি জেলের হাসপাতালেই চিকিৎসা করাবেন।

- Advertisement -

এদিকে, প্রত্যেকের শারীরিক অবস্থা কতটা খারাপ বা আদৌ তাঁদের হাসপাতালে থাকার প্রয়োজন আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখতে মেডিকেল টিম গঠন করল সিবিআই।

ওই বিশেষ টিম ধৃতদের শারীরিক অবস্থা খতিয়ে দেখে তাঁদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে। এইমসের পাঁচজন চিকিৎসক তাঁদের পরীক্ষা করবেন ও তাঁদের মেডিকেল রিপোর্ট খতিয়ে দেখবেন। তাঁরা যদি মনে করেন, অভিযুক্তদের হাসপাতালে রাখার প্রযোজন নেই, তাহলে সিবিআই ধৃতদের হাসপাতাল থেকে জেল হেপাজতে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করবে। যদিও এসএসকেএম হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতদের সকলেরই বয়স হয়েছে। সেই কারণে বিভিন্ন চাপের কারণে তাঁদের শারীরিক অবস্থা খারাপ হওয়া খুব স্বাভাবিক। তাছাড়া প্রত্যেকেরই কোমরবিডিটি রয়েছে। এই কারণে তাঁদের হাসপাতালে রাখা প্রযোজন।

তৃণমলের পক্ষ থেকে এদিন দাবি করা হয়েছে, সিবিআই যে প্রতিহিংসামূলক আচরণ করছে, তা এই ঘটনায় প্রমাণ হয়ে গিয়েছে। কারণ মেডিকেল রিপোর্টেই যেখানে স্পষ্ট প্রত্যেকের শারীরিক অবস্থা ভালো নয়, তখন সিবিআই চিকিৎসকদের পৃথক দল করে তাঁদের পরীক্ষার ব্যবস্থা করছে। কেন্দ্র সরকারের অঙ্গুলি হেলনেই সিবিআই এই প্রতিহিংসার রাজনীতি শুরু করেছে। তৃণমূলের সাংসদ তথা আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ’সিবিআই প্রথম থেকেই বেআইনি কাজ করছে। চলতি মাসেই সুপ্রিম কোর্টের কাছে কেন্দ্রীয় সরকার একাধিকবার তিরস্কৃত হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টই জানিয়েছে, কোভিড পরিস্থিতিতে কোনওভাবেই যেন অপ্রয়োজনে কাউকে গ্রেপ্তার না করা হয়। কিন্তু নারদ মামলায় চারজনকে গ্রেপ্তার করে নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শা প্রমাণ করে দিলেন, গণতন্ত্র ও আইন বলে তাঁরা কিছু মানেন না। সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ করতে কেন্দ্রীয় সরকার নির্লজ্জভাবে সিবিআইকে ব্যবহার করছে।‘ যদিও বিজেপির মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্য বলেন, ‘বিজেপি সরকার কোনওভাবেই তদন্তকারী সংস্থাকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করে না। কোনও মামলা শুরু হলেই তৃণমূল একই অভিযোগ বারবার করে। কিন্তু এই অভিযোগের কোনও ভিত্তি নেই।‘