কয়লা পাচারের তদন্তে সিবিআই

254
প্রতীকী ছবি।

কলকাতা: মাত্র ক’দিন আগেই কয়লা পাচার চক্রের বিরুদ্ধে আয়কর দপ্তরের তরফে কুখ্যাত পাচারকারী অনুপ মাঝি ও তাঁর সাগরেদদের ২২টি ডেরায় তল্লাশি চালানো হয়। আর সেই তল্লাশিতে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এদিন তদন্তে নামল সিবিআই।

শনিবার সকাল থেকে সিবিআইয়ের প্রায় আড়াইশো জন অফিসার ও কর্মী পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, ঝাড়খন্ড, উত্তরপ্রদেশের ৪৫টি জায়গায় অভিযান চালান। কলকাতা সংলগ্ন বিধাননগরের দুটি ব্লকে অবস্থিত অনুপ মাঝি ওরফে লালার দুটি বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। সেইসঙ্গে দক্ষিণ কলকাতার শেক্সপিয়ার সরণি থানার শেক্সপিয়ার সরণির গঙ্গা-যমুনা নামে একটি বিলাসবহুল বহুতলের চারতলার একটি ফ্ল্যাট সিল করে দেন সিবিআই অফিসাররা। সূত্রের খবর, কয়েক বছর আগে অনুপ মাঝি ওরফে লালা ওই ফ্ল্যাটটি কিনেছিলেন। এদিন সেখানে কাউকে পাওয়া না যাওয়ায় তাঁরা ওই ফ্ল্যাটটি সিল করে দেন।

- Advertisement -

পুরুলিয়াতেও অনুপ মাঝির আস্তানায় হানা দেন সিবিআই অফিসাররা। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত সেখানে তিনটি জায়গায় তল্লাশি চলছে। অফিসারদের ধারণা, এদিন লালা তাঁর পুরুলিয়ার বাড়িতেই ছিলেন। কিন্তু দূর থেকে অফিসারদের আসতে দেখে তিনি পালিয়ে যান।

এদিন সিবিআইয়ের তরফে যেসব জায়গায় তল্লাশি চালানো হয় তাদের মধ্যে ইস্টার্ন কোলফিল্ডের চারজন জেনারেল ম্যানেজারের বাড়িও ছিল। আসানসোলে ইসিএলের একটি জায়গায় সিবিআই আধিকারিকরা তল্লাশি চালাতে গিয়েছিলেন। সেখানে ধনঞ্জয় রায় নামে ইসিএলের এক মুখ্য নিরাপত্তা অফিসারকে জিজ্ঞাসাবাদ করার সময় তিনি হঠাৎই অজ্ঞান হয়ে পড়ে যান। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। এদিন সিবিআইয়ের তরফে ইসিএলের বেশ কয়েকটি খনি এলাকাতেও তল্লাশি চালানো হয়।

সিবিআই সূত্রের খবর, এদিন বিকেল পর্যন্ত তল্লাশি অভিযানে বিপুল পরিমাণ নথিপত্র উদ্ধার করতে সমর্থ হয়েছেন আধিকারিকরা। যা থেকে পাচার চক্রের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের খুঁজে বার করা সম্ভব হবে। তল্লাশি অভিযানে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সিবিআই অফিসাররা রাজ্য পুলিশের ২০০১ ব্যাচের মনোনীত এক আইপিএস অফিসারের খোঁজ পেয়েছেন। যিনি কয়লা পাচারের সঙ্গে যুক্ত শাসকদলের এক অতি প্রভাবশালী নেতার দপ্তরে রাজ্য পুলিশের একজন ওএসডি হিসেবে কাজ করতেন।

সম্প্রতি রাজ্য সরকার তাঁকে স্বাস্থ্য দপ্তরের একটি নিয়োগ সংক্রান্ত কমিটির সদস্য হিসেবে নিয়োগ করেছে। সিবিআই সূত্রের খবর, ওই অফিসার ইতিপূর্বে বিসিসিআইয়ের দুর্নীতি দমন অফিসার পদে কাজ করার জন্য নির্বাচিত হলেও তিনি সেই কাজে যোগ দেননি। আরও জানা গিয়েছে, ওই পদের বার্ষিক বেতন ছিল ৪০ লক্ষের উপর। রাজ্য ক্যাডারের অবসরপ্রাপ্ত প্রোমোটি ওই আইপিএস অফিসারকে অবিলম্বে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হবে।