নিহত দুই তৃণমূল কর্মীর বাড়িতে পা রাখলেন না সিবিআই কর্তারা, বিতর্ক বর্ধমানে

77

বর্ধমান: হাইকোর্টের নির্দেশে ভোট পরবর্তী রাজনৈতিক হিংসার ঘটনার তদন্তে রবিবার পূর্ব বর্ধমানে পৌঁছোল চার সদস্যের সিবিআইয়ের বিশেষ প্রতিনিধি দল। যদিও সিবিআই তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়ে জেলার শাসকদলের
নেতৃত্ব প্রশ্ন তুলেছেন।

বিধানসভা ভোটের ফল প্রকাশের পর দিন রাজনৈতিক হিংসায় উত্তপ্ত হয় জামালপুর থানার নবগ্রাম। ঘটনায় নিহত হন দুই তৃণমূল কর্মী শাজাহান শা ওরফে শাজু (৩০) এবং বিভাষ বাগ ওরফে বিনোদ (২৭)। একই ঘটনায় প্রাণ হারাণ নবগ্রামের বিজেপি শক্তি প্রমুখ আশিস ক্ষেত্রপালের মা কাকলি ক্ষেত্রপাল। নিহতদের মধ্যে কাকলি ও বিভাসের বাড়ি নবগ্রামে। অপর নিহত শাজু শেখের বাড়ি জামালপুর থানার ভেড়িলি গ্রামে। রাজনৈতিক হিংসার এই ঘটনায় পুলিশ ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছিল পরদিনই। ধৃতদের মধ্যে ১০ জন বিজেপি সমর্থক। একজন ছিল তৃণমূল কর্মী। সিবিআই আধিকারিকরা এদিন প্রথম নিহত বিজেপি সমর্থক কাকলি ক্ষেত্রপালের বাড়িতে গিয়ে কথা বলেন। পরে নবগ্রামের রাজনৈতিক হিংসার ঘটনায় পুলিশের তরফে সাক্ষী করা স্থানীয় মামনি ক্ষেত্রপালের সঙ্গেও দেখা করেন। তাঁদের বক্তব্য নথিভুক্ত করার পাশাপাশি ভিডিওগ্রাফিও করেন সিবিআই আধিকারিকরা। পরে কড়া পুলিশি পাহারায় সিবিআই আধিকারিকরা নবগ্রাম ছাড়েন নিহত দুই তৃণমূল কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা না করেই। এবিষয়ে নিহত কাকলি ক্ষেত্রপালের স্বামী অনিল ক্ষেত্রপাল আক্ষেপের সুরে জানান, সিবিআই কর্তাদের অনেক কথা বলার ছিল। কিন্তু ওনারা কোনও কথা শুনতেই চাইলেন না।

- Advertisement -

জেলা তৃণমূলের সভাপতি রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘সিবিআই বিজেপির হয়ে কাজ করছে বলেই নিহত দুই তৃণমূল কর্মীর বাড়িতে গিয়ে কথা বলার সদিচ্ছা দেখায়নি।’ যদিও জেলা বিজেপির সাধারণ সম্পাদক সৌম্যরাজ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘সিবিআই তদন্ত হওয়ায় তৃণমূল অশনি সংকেত দেখছে। তাই এসব মন্তব্য করছেন তৃণমূলের নেতারা।’